শত বছরের ডেল্টা প্ল্যান অনুমোদন

নদী, পানিসম্পদ ও ব-দ্বীপ ব্যবস্থাপনায় ১০০ বছর মেয়াদী ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতায় পর্যালোচনা শেষে এ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষের সভায় এটি অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন এনইসির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি এ উদ্যোগকে ঐতিহাসিক বলে আখ্যায়িত করেন।

পরিকল্পনার আওতায় বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সমস্যা মোকাবেলায় ৯টি নদী, খাল ও জলাধার ব্যবস্থাপনায় পলি অপসারণসহ নদী ড্রেজিংয়ে ৬টি, পাহাড়ি এলাকায় ৫টি এবং মোহনা ও উপকূলীয় এলাকায় ১২টি প্রকল্প, কম দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ১৫টি প্রকল্পসহ বিরাজমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রাথমিকভাবে ৮০টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

বৈঠকে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান ও জেইডির সদস্য সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

এ পরিকল্পনা নিয়ে গত রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও গণভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ এর মাধ্যমে ১০০ বছরে বাংলাদেশ কোন পর্যায়ে যাবে সেই পরিকল্পনা চলছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ব-দ্বীপকে জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্যান্য অভিঘাত থেকে বাঁচাতে এ প্ল্যান। দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতেই ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়ন হাতে নেয়া হচ্ছে।

ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় বন্যা, নদীভাঙন, নদীশাসন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিবছর জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রায় আড়াই শতাংশ অর্থের প্রয়োজন হবে।

২০৩১ সাল নাগাদ প্রতি বছর ২৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

নেদারল্যান্ডসের ডেল্টা ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ প্রণয়ন করা হয়েছে।

পরিকল্পনার ধারণা অনুযায়ী, দেশজ আয়ের মোট চাহিদার আড়াই শতাংশের মধ্যে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ অর্থায়ন বেসরকারি খাত থেকে এবং ২ শতাংশ সরকারি খাত থেকে জোগান দিতে হবে।

ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় বেশিরভাগ সরকারি অর্থায়ন বন্যা থেকে রক্ষা, নদীভাঙন, নিয়ন্ত্রণ, নদীশাসন, এবং নাব্য রক্ষাসহ সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ নদী ব্যবস্থাপনায় ব্যয় হবে।

জিইডি সূত্রে জানা যায়, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ এর প্রাথমিক ধাপ বাস্তবায়ন হবে ২০৩০ সাল নাগাদ। এ পরিকল্পনা যাচাই-বাছাই শেষে প্রথম পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য ৮০টি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫টি ভৌত অবকাঠামোসংক্রান্ত এবং ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণাবিষয়ক প্রকল্প রয়েছে। আর বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ছয়টি স্থানকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

এগুলো হল- উপকূলীয় অঞ্চল, বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল, হাওর এবং আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকা, পার্বত্যাঞ্চল ও নগর এলাকা। অঞ্চলভেদে আর্থ-সামাজিক বৈষম্য এবং এর সাধারণ ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।


‘নির্বাচন বানচাল করতে পুলিশের ওপর
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, পরিকল্পিতভাবে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের
বিস্তারিত
‘নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা
নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেছেন, নির্বাচন জানুয়ারিতে হলে অনেক
বিস্তারিত
‌‘যাকে নৌকা দিয়ে পাঠাব তার
যাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে তাকেই মেনে নিতে হবে বলে মনোনয়ন
বিস্তারিত
বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখে ভারত
বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে দেখে ভারত আনন্দিত বলে জানিয়েছেন
বিস্তারিত
১০ বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দশম জাতীয় সংসদের ২৩তম অধিবেশনে পাস
বিস্তারিত
নির্বাচন পেছানোর দাবি বিবেচনা করবে
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তিন সপ্তাহ পেছানোর দাবি নির্বাচন কমিশন
বিস্তারিত