শরতের ফুলেল রূপ

অসাধারণ সৌন্দর্যের ডালি নিয়ে শরৎকালের আগমন। শরৎ আমাদের মাঝে বিভিন্ন উৎসবের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে। শরতের ফুলে ফুলে সেজে ওঠে প্রকৃতি। শরৎকালের প্রকৃতি হয় কোমল, শান্ত-স্নিগ্ধ, উদার। ক্ষণিকের জন্য মাঝে মধ্যে বৃষ্টিপাত হয়। নদী বিল-পুকুর ও হাওরের স্বচ্ছ পানির বুকে শুভ্র শাপলার পাগল করা হাসি প্রেয়সীর হৃদয়কাড়া হাসির মতোই মনে হয়। শিশিরভেজা শিউলি ফুল অনুপম সৌন্দর্য নিয়ে ঘাসের বুকে হাসে। আকাশে-বাতাসে, দূর্বাঘাসে শরৎরানি তার স্নিগ্ধ পরশ বুলিয়ে দেয়। শাপলা, শালুক, পদ্ম, জুঁই, কেয়া আর কাশফুলের সৌরভে শরৎরানি তার বীণার তারে সুর বাজিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দেয়। এক কথায় অসাধারণ সৌন্দর্যে ভরপুর শরৎ। শরতের অপূর্ব ভালো লাগার দৃশ্য, শরতের সৌন্দর্য বর্ণনা করতে কবি-সাহিত্যিকরা রচনা করেছেন কত কবিতা। কলমের ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন শরতের সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য।

শরতের আগমন; কবির ভাষায়Ñ ‘শরৎ রাণী বীণা বাজে কমল দলে, ললিত রাগের সুর করে তাই শিউলি তালে।’ শরতের সৌন্দর্যের প্রতি মুগ্ধ হয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আনমনে সুর তুলেছিলেনÑ ‘এসো শারদ প্রাতের পথিক এসো শিউলি-বিছানো পথে, এসো ধুইয়া চরণ শিশিরে এসো অরুণ-কিরণ-রথে।’ কবি আল মাহমুদ শরতের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন তার কাব্যে। তিনি লিখেছেনÑ ‘বাংলাদেশের আকাশে বাতাসে শরতের উদারতা, মেঘ ভেসে যায় মাথার ওপরে বৃষ্টির ছোঁয়া দিয়ে, ইচ্ছা হয় না ঘরের ভেতর বসে থাকি সারাদিন, কিন্তু বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা টান লাগে সারা বুকে, মনে হয় যেনো আমার বক্ষে কান পেতে আছে কেউ, আজ সারাদিন হাওয়ার মাতম বইছে বাঁধন ছিঁড়ে।’ 
শরতের সকাল এক অভূতপূর্ব আনন্দ-অনুভূতির সৃষ্টি করে। শরতের সকালে সূর্য উদিত হয়ে মাঠ ও বিলের অসংখ্য ধানের জমিতে আলোক রশ্মি ছড়িয়ে দেয়। দূর্বাঘাসের ওপর সঞ্চিত শিশিরবিন্দুকে রুপালি মুক্তার বিন্দুর মতো মনে হয়। এ সময় সর্বত্র শুভ্র ও নাতিশীতোষ্ণ অবস্থা বিরাজ করে। বর্ষার নিবিড় ঘনঘটা অপসারিত হয়ে আকাশ নির্মল হয়ে ওঠে। সকালে শিশিরভেজা ধান, শিউলি ফুল, কোমল রোদের পুকুরে ভাসমান শুভ্র শাপলার হাসি সবার হৃদয়কে উচ্ছ্বসিত করে। শরতের মেঘ যেন এক বিশাল শামিয়ানার মতোই। মাথার ওপরে নীলাকাশ মাঝে মধ্যে উড়ন্ত সাদা মেঘ এবং সবুজ মাঠের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া শালিক, ময়না, টিয়ের ঝাঁক। আহ্! কত অপূর্ব ভালো লাগার দৃশ্য। সব আল্লাহর দান। তারই সৃষ্টিমাধুরীর খেলা। 
শরৎকালের আরেকটি অসাধারণ আকর্ষণ অবারিত সবুজ মাঠ। মাঠের পর মাঠ, যেন এর শেষ নেই। মাঠের চতুর্দিকে সবুজের প্রাচীরসদৃশ দূরের গ্রাম যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। নদীর কিনারে বালির চরে হেসে ওঠে কাশবন। শুধু কাশবনই নয়, শরতে ফুলে ফুলে সেজে উঠেছে গোটা প্রকৃতি। এ প্রকৃতিতে শাপলা, শালুক, পদ্ম, জুঁই, কেয়া, কাশফুল, শিউলি জবা, কামিনী, মালতি, মল্লিকা, মাধবী, ছাতিম ফুল, বরই ফুল, দোলনচাঁপা, বেলি, জারুল, কামিনি, নয়নতারা, ধুতরা, ঝিঙে, স্থলপদ্ম, বোগেনভেলিয়াসহ নানা রকমের ফুলে হেসে ওঠে গ্রামবাংলার রূপ। সত্যি, শরতের প্রকৃতি বড়ই বৈচিত্র্যময়, লাবণ্যময়ী।  


আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে দুই মুসলিম নারীর ইতিহাস
ওমর ইলহান ১৪ বছর বয়সে সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় সে দেশে
বিস্তারিত
একটি জানাজার সাক্ষ্য
‘তাহরিকে তালেবানের’ মুখপাত্র এহসানুল্লাহ এহসান আমার বিরুদ্ধে কুফরের ফতোয়া ঘোষণা
বিস্তারিত
মুসলিম ঐতিহাসিক স্থানগুলোর নাম বদলে
ভারতে পরিবর্তন করে ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক অঞ্চলের নাম। সামনের
বিস্তারিত
মস্কো শান্তি সম্মেলনে তালেবান
অবশেষে মস্কো আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে যোগদান করল তালেবান প্রতিনিধি। এই
বিস্তারিত
টেকসই উন্নয়নে ইসলামি শিক্ষা
কোরআনি শিক্ষাকে কাজে লাগানোর কার্যকরী উপায় বের করার দায়িত্ব আমাদের।
বিস্তারিত
নামাজে দৌড়ে আসা নয়
জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়Ñ নিঃসন্দেহে অনেক সওয়াবের। আর তাকবিরে উলা
বিস্তারিত