অন্যের ক্ষতির বিনিময়ে জাহান্নাম

অমুকের পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধন, কলাগাছ কারা যেন রাতের আঁধারে কেটে সাবাড় করে, গবাদিপশুকে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়, ক্ষেতের ফসল নষ্ট করা হয়, নিরীহ জীবজন্তু, পশু-পাখি, ফসল কোনোটাই বাদ যায় না। নির্বিচারে নির্মম নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। মানুষের হক নষ্ট হয়। যারা এমনটা করেন তারা কি মুসলমান?

আল্লাহ তায়ালা বলেন, মোমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই। (সূরা হুজরাত : ১০)। ভাই ভাইয়ের ক্ষতি করতে পারে না। বিপদে আপদে ভাই ভাইয়ের পাশে থাকে। এখন মনে হয় সে দিন আর নেই। মুসলমানরা একে অন্যের ক্ষতি করতে একটুও দ্বিধা করে না। বিবেকে একটুও বাধে না। প্রায়ই সংবাদপত্রে দেখা যায়Ñ অমুকের পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধন, কলাগাছ কারা যেন রাতের আঁধারে কেটে সাবাড় করে, গবাদিপশুকে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়, ক্ষেতের ফসল নষ্ট করা হয়, নিরীহ জীবজন্তু, পশু-পাখি, ফসল কোনোটাই বাদ যায় না। নির্বিচারে নির্মম নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। মানুষের হক নষ্ট হয়। যারা এমনটা করেন তারা কি মুসলমান? অন্য মুসলিম ভাইয়ের ওপর এ ধরনের কর্মকা- হারাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। কাজেই সে তার ওপর জুলুম করবে না, তাকে লজ্জিত করবে না এবং হীন মনে করবে না। তাকওয়া (আল্লাহভীতি) এখানেÑ একথা বলে তিনি তিনবার নিজের বক্ষের দিকে ইঙ্গিত করলেন। তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির মন্দ কাজ করার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে নিজের কোনো মুসলমান ভাইকে হেয় জ্ঞান করে। বস্তুত একজন মুসলমানের সব কিছুই অপর মুসলমানের জন্য পবিত্র ও নিষিদ্ধ; তার জান-মাল ও ইজ্জত। (মুসলিম, মিশকাত-৪৯৫৯)। লক্ষণীয়, সামান্য হেয় জ্ঞান করতে পর্যন্ত নিষেধ করা হয়েছে। সেখানে অন্যের ফসল নষ্ট করা, নিরীহ প্রাণী হত্যা করা হয়। কোনো সুস্থ মানুষের এমনটা করার কথা নয়। মতের মিল না হতে পারে। অন্যের কর্ম অপছন্দ হতে পারে। সে জন্য অন্য পথ খোলা আছে। তাকে বোঝানো যায়। দেশে আইন আছে। নিজের ক্ষতি হচ্ছে। এমনটা যদি মনে হয়, আইনের আশ্রয় নিতে অসুবিধা কোথায়? কিন্তু প্রতিপক্ষকে ক্ষতি করার এসব কাজ বড় অন্যায়। সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিজের কিংবা অন্যের কোনো ক্ষতি করা যাবে না। (ইবনে মাজাহ)। মুসলমানের ঘরে জন্ম নিলেই হয় না। ঈমান, আমল, সৎকর্ম দ্বারা মুসলিম হতে হয়। হাদিসে আল্লাহর রাসুল তাই বলেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, প্রকৃত মুসলিম সে-ই যার জিহ্বা ও হাত থেকে সব মুসলিম নিরাপদ থাকে এবং প্রকৃত মুহাজির সে-ই, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন করে। (মুসলিম ১/১৪ হা-৪৪০, আহমদ-৬৭৬৫)। ইসলামের শিক্ষা হলো, মুসলমান মুসলমানকে সাহায্য করবে। আল্লাহর রাসুল (সা.) তাই বলেছেন। আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, তুমি তোমার ভাইকে সাহায্য করো, চাই সে অত্যাচারী হোক বা অত্যাচারিত হোক। তখন এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ, অত্যাচারিতকে তো সাহায্য করব; কিন্তু অত্যাচারীকে কীভাবে সাহায্য করব? তখন নবী (সা.) বললেন, তাকে অত্যাচার করা থেকে বিরত রাখবে। অন্য মুসলমান ভাইয়ের ক্ষতি, সম্পদ নষ্ট, জুলুমের পরিণাম ভয়াবহ। আখেরাতে সে মুসলমান গরিব হবে। নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত সব আমল তার থাকবে। তবু সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। আল্লাহর রাসুল (সা.) তাঁর পাশে উপবিষ্ট সাহাবায়ে কেরাম (রা.) কে বললেন, তোমরা কি জানো, গরিব কে? সাহাবায়ে কেরাম (রা.) বললেন, আমাদের মধ্যে তো গরিব তাদের বলা হয়, যাদের কাছে ধন-সম্পদ, টাকা-পয়সা না থাকে। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, প্রকৃৃতপক্ষে আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে গরিব সে, যে কেয়ামতের দিন নামাজ, রোজা, জাকাত, সবকিছু নিয়ে উঠবে; কিন্তু তার এ কর্মগুলো থাকবে যে, সে দুনিয়ায় কারও সঙ্গে মন্দ আচরণ করেছে, কারও কাছে অর্থের ঋণী, কারও নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, কারও সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কাউকে আঘাত করেছে, কাউকে খুন করেছে ইত্যাদি। তাই এর বিনিময়ে কেয়ামতের দিন তার কিছু নেকি একে দিবে, কিছু নেকি ওকে দেবে। এভাবে দিতে দিতে বান্দার হক আদায়ের আগে যদি তার নেকি শেষ হয়ে যায়, তাহলে এই হকদারের গোনাহ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (মুসলিম শরিফ)।


আল্লাহর মাস মহররমের মর্যাদা
মহররমের রোজা শ্রেষ্ঠ নেকি ও সেরা আমল। ইমাম মুসলিম তার
বিস্তারিত
আশুরায় করণীয় বর্জনীয়
‘রাসুল (সা.) মদিনায় হিজরত করে ইহুদিদের আশুরার রোজা রাখতে দেখে
বিস্তারিত
আলেম বিদ্বেষের ভয়াবহ পরিণাম
উম্মাহর ক্রান্তিলগ্নে ঝড়ের রাতে মাঝ নদীতে একজন দক্ষ নাবিকের ভূমিকা
বিস্তারিত
সর্বদা আল্লাহর পর্যবেক্ষণের কথা মনে
পূর্বসূরি এক বুজুর্গকে বলা হয়েছিল, দৃষ্টি অবনত রাখতে আমি কীসের
বিস্তারিত
কোরআনে বর্ণিত নবী-রাসুলদের দোয়া
কোরআন ও হাদিসে অনেক নবির দোয়া বর্ণিত হয়েছে। দোয়াগুলো অত্যন্ত
বিস্তারিত
আশুরা ও কারবালা
মহরম মাসের দশ তারিখ আশুরা দিবস হিসেবে সুপরিচিত। এ দিনে
বিস্তারিত