তাসাউফ শিক্ষা হৃদয় আলোকিত করে

বাংলাদেশের সুফি-মাশায়েখদের খানকাগুলো সবসময়ই আল্লাহর জিকিরের মজলিস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখনও সেখানে তাসাউফের তালিম দেওয়া হয়। মোমিন-মুসলমানরা খানকাগুলোয় সবসময় জিকির ও ইবাদত-বন্দেগির তালিম ও তাজকিয়া করে থাকে

তাসাউফ হলো দ্বীনি ইলমের বিশেষ একটি অধ্যায়। তাসাউফ চর্চার মাধ্যমে মোমিনের হৃদয় বা কলব আলোকিত হয়। সুফি মাশায়েখরা তাসাউফ চর্চার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে থাকেন। সুফি-পির-দরবেশ-মাশায়েখরা যে স্থানে তাসাউফের পাঠদান করেন তাকে খানকা বলা হয়। ইসলামের প্রথম যুগের পর থেকে সুফি-পির-মাশায়েখরা দেশে দেশে দ্বীনি ইলম শিক্ষা তথা ইসলাম প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। কোরআন শিক্ষার বিশেষ দাওয়াত ও মিশন নিয়ে তারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হিজরত করেছেন। মানুষকে দ্বীনের পথে আহ্বান করেছেন। অন্ধকারাচ্ছন্ন কলুষিত আত্মাগুলোকে আলোর পথ দেখিয়েছেন। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে থেকে একটি দল থাকা উচিত, যারা আহ্বান জানাবে কল্যাণের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভালো কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে, আর তারাই হলো সফলকাম।’ (সূরা আলে ইমরান : ১০৪)। 
শিক্ষা মানুষের মানবিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করে। সাধারণ শিক্ষা বা আকল দিয়ে কোরআনের সব হুকুম-আহকাম ও আদেশ-উপদেশ বোঝা সম্ভব নয়। তাসাউফ সাধারণ শিক্ষাকে পরিপূর্ণতা দান করে। তাসাউফ মানুষের অন্তরে এক ধরনের নুরের প্রবাহ তৈরি করে দেয়। দ্বীনি শিক্ষার জ্ঞান মানুষের ঈমানকে মজবুত করে। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘(হে নবী) আপনি বলুন, যারা জ্ঞানী এবং যারা জ্ঞানী নয়, তারা কি সমান হতে পারে? জ্ঞানীরাই শুধু উপদেশ গ্রহণ করে।’ (সূরা জুমার : ৯)। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে সর্বপ্রথম জ্ঞান অর্জনের জন্য ওহি এসেছিল। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘পড় তোমরা প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট রক্ত থেকে। সেই প্রভুর নামেই পড়, যিনি অত্যন্ত সম্মানিত। যিনি শিক্ষা দিয়েছেন কলমের সাহায্যে। যিনি মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না।’ (সূরা আলাক : ১-৫)। ‘পরম করুণাময় তিনি শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন। তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষ। তিনি তাকে শিখিয়েছেন ভাষা।’ (সূরা আর রহমান : ১-৪)।
দ্বীনি ইলম শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলিম পুরুষ-নারীর ওপর অত্যাবশ্যক। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘দ্বীনি ইলম শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের (পুরুষ ও নারীর) ওপর ফরজ।’ (বায়হাকি, মেশকাত : পৃ. নং-৩৪)। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘রাতের কিছু সময় দ্বীনের ইলম আলোচনা করা পূর্ণ রাত জাগ্রত থেকে ইবাদত করার চেয়ে উত্তম।’ (মেশকাত : পৃ. নং-৩৪)। 
ইরান, ইরাক ও ইয়েমেনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে দ্বীনি ইলম শিক্ষার দাওয়াত নিয়ে সুফি-মাশায়েখরা বাংলাদেশে আগমন করেছেন। তারা এ দেশে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য মসজিদ ও মাদ্রাসা স্থাপনের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র হিসেবে খানকা প্রতিষ্ঠা করেছেন। বাংলাদেশের সুফি-মাশায়েখদের খানকাগুলো সবসময়ই আল্লাহর জিকিরের মজলিস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখনও সেখানে তাসাউফের তালিম দেওয়া হয়। মোমিন-মুসলমানরা খানকাগুলোয় সবসময় জিকির ও ইবাদত-বন্দেগির তালিম ও তাজকিয়া করে থাকে। 
সাধারণ শিক্ষাগ্রহণের জন্য বয়সের কম-বেশি হওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু তাসাউফ শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে বয়সের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যে-কোনো বয়সের মানুষ তাসাউফের জ্ঞানার্জনের জন্য খানকায় ভর্তি হতে পারেন। যেসব ছাত্র নিজের স্বীয় অস্তিত্বকে আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দিতে ইচ্ছুক শুধু তারাই খানকা শরিফ থেকে তাসাউফ শিক্ষার প্রকৃত স্বাদ লাভ করে থাকেন। তাদের জন্য আল্লাহর কাছেও উত্তম পুরস্কার রক্ষিত থাকবে। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘অবশ্য যে বান্দা আল্লাহর জন্য স্বীয় অস্তিত্বকে বিলিয়ে দিয়েছে এবং সৎকর্মশীল হয়েছে, মূলত তার জন্য তার প্রতিপালকের কাছে প্রতিদান রয়েছে এবং তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা পেরেশানও হবে না।’ (সূরা বাকারা : ১১২)। 
মানুষের জ্ঞান সসীম। আল্লাহ তায়ালার কুদরতের জ্ঞান অসীম। এই অসীম জ্ঞানের স্পর্শ পাওয়া তথা কোরআনের ভাবার্থ বোঝার জন্য তাসাউফ শিক্ষা করা জরুরি। তাসাউফের শিক্ষা শুধু সুফি-মাশায়েখরাই দিয়ে থাকেন। কোরআন তেলাওয়াত করে নেকি উপার্জন করা আর এর স্বাদ অনুভব করা দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তায়ালা আপনার ওপর কিতাব এবং হেকমত নাজিল করেছেন এবং আপনাকে এমন বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন, যা আপনি জানতেন না। আর আপনার ওপর আল্লাহর মহা অনুগ্রহ রয়েছে।’ (সূরা নিসা : ১১৩)।
কোরআনে বেহেশতি লোকদের অবস্থা সম্পর্কে এরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহপাক নিজ অনুগ্রহ দিয়ে তাদের যা কিছু দান করেছেন তাতেই তারা পরিতৃপ্ত এবং যারা এখনও তাদের পেছনে রয়ে গেছে, যারা এখনও তাদের সঙ্গে মিলিত হতে পারেনি, তাদের ব্যাপারেও এরা খুশি, কারণ এমন ধরনের লোকদের জন্য কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তাও করবে না। এ (ভাগ্যবান) মানুষরা আল্লাহর পক্ষ থেকে অফুরন্ত নেয়ামত ও অনুগ্রহে উৎফুল্ল ও আনন্দিত হয়।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৭০-১৭১)।


পরস্পর দয়া প্রদর্শনে উপদেশ দিন
উসামা বিন জায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবীজির মেয়ে
বিস্তারিত
যিনি ধনীদের মধ্যে সর্বপ্রথম জান্নাতে
আবদুর রহমান বিন আউফ (রা.) এর স্মৃতি জর্দানের রাজধানী আম্মানের উত্তরের
বিস্তারিত
কীভাবে বুঝবেন আল্লাহ আপনার প্রতি
আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রতিটি বিশ্বাসী হৃদয়ের একান্ত চাওয়া। কিন্তু কীভাবে বুঝবেন
বিস্তারিত
আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত মাছ
প্রকৃতিজুড়ে এখন চলছে হেমন্তের রাজত্ব। নতুন ধানের নবান্ন উৎসবের পাশাপাশি
বিস্তারিত
রূপে ভরা হেমন্ত
প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা বয়ে নিয়ে এসেছে হেমন্ত। শিশির বিন্দু
বিস্তারিত
প্রাণীবন্ধু গাসসান রিফায়ি
টানা ৩০ বছর বাইতুল মুকাদ্দাস চত্বরের বিড়াল ও পাখিদের খাবার
বিস্তারিত