পাকিস্তান-মার্কিন সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পোম্পেওর ইসলামাবাদ সফরে পাকিস্তান-মার্কিন সম্পর্কের টানাপড়েনের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের সামনে দেওয়া পাকিস্তান পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশির বক্তব্য থেকে এমন আভাস পাওয়া গেছে। এবারের এ রাষ্ট্রীয় সফরে বিগত সময়ের সব ক্ষত পুরোপুরি দূর করা সম্ভব না হলেও দুই পক্ষের ব্যক্তিগত বা দুই দেশের মধ্যে নতুন সম্পর্কে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে আশা করা হচ্ছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় সামনে আসে। আঞ্চলিক পরিস্থির বিচারে এ কথা অনুমান করা ভুল হবে না যে, যদি আমেরিকার সম্পর্ক গড়ে তোলার সদুদ্দেশ্য না থাকত, তাহলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এভাবে বহর নিয়ে রাষ্ট্রীয় সফরে পাকিস্তানে আগমন করতেন না। যেখানে মার্কিন সেনাকমান্ডার জেনারেল ড্যানফোর্ড এবং আফগানিস্তানে নিয়োজিত মার্কিন বিশেষজ্ঞ যালমাই খলিল জাদের মতো ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির প্রতি সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখেন এমন কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অবস্থানের গুরুত্ব ছাড়াও চীনের ‘অন রোড অন ব্যালট’ নীতির বিভিন্ন অবস্থার কারণে এবং আফগানিস্তানে দীর্ঘ নিরাপদ অবস্থানের জন্য রাশিয়ারও তৎপর হওয়া বিশেষ ভূমিকা রাখবে। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে নুর খান বিমানঘাঁটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুবিধা বাড়ানোর ব্যাপারেও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। মাইক পোম্পেওর বক্তব্যের সারসংক্ষেপ হলোÑ এই বৈঠকে উভয় পক্ষ পাকিস্তান-মার্কিন সম্পর্ককে নতুন রূপে সাজাতে একমত হয়েছেন। 
পাকিস্তানে রাষ্ট্রীয় সফরে অতিথিরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি, পররাষ্ট্র সচিব তাহমিনা জানজুয়া, সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়া এবং আইএসআইয়ের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাভিদ মুখতার প্রমুখের সঙ্গে দুই-দুইবার বৈঠক করেছেন। শাহ মাহমুদ কোরেশির প্রেস ব্রিফিং থেকেও স্পষ্ট হয়েছে যে, বেশ কয়েক বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে যে কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল তার অবসানে নতুন করে সমঝোতায় আসা সম্ভব হবে। মিডিয়ায় সম্প্রচারিত ঘটনা ও আফগানিস্তানের বাস্তবতায় এ কথা বলা ভুল হবে না যে, পাকিস্তান ও আমেরিকার এ নতুন কূটনৈতিক সম্পর্কের মূল লক্ষ্য আফগানিস্তান। এক্ষেত্রে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি হলোÑ আফগানিস্তন প্রসঙ্গে আর কোনো সামরিক সমাধান নয়; বরং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে এ সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে। আফগান সংকট নিরসনে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণÑ আমেরিকার সামনে এ সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর ওয়াশিংটন আফগান তালেবানের সঙ্গে সংলাপে বসতে মত প্রকাশ করল। তবে বিশেষজ্ঞদের মত হলো, নতুন কোনো সংকট যেন তৈরি না হয়। কেননা আমেরিকা প্রথমবার তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পর কিছু স্বার্থে ওয়াশিংটন মস্কোকে আফগানিস্তানে নিরাপদ অবস্থানের কৃতিত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন পাকিস্তান বারবার বলছিল, আফগানিস্তানে দীর্ঘ সময় মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখার ফলে পরাজয়ের ব্যর্থতার দায়ভার ইসলামাবাদের ওপর আরোপ করা হচ্ছে। এ বিষয়ও সামনে রাখতে হবে যে, আফগান তালেবান আমেরিকার সঙ্গে সমাধানে বসতে অস্বীকৃতি জানায়নি। কিন্তু প্রথম যে প্রশ্ন সামনে আসে, তা হলো আমেরিকা আফগানিস্তান থেকে কবে বিদায় নেবে? এটা এখন পরিষ্কার বিষয় যে, সম্প্রতি ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ ও সংলাপের মাধ্যমে যে নতুন সম্পর্কের সূচনা হচ্ছে এতে দুই দেশের নানামুখী সংকট ধীরে ধীরে কেটে যাবে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের নবনির্বাচিত সরকারকে শুভেচ্ছাবার্তা জানানো হয়েছে। তাই পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক মর্যাদা অক্ষুণœ রাখতে এ প্রস্তাবে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত। এর মাধ্যমে দেশগুলোর সংকট নিরসন হবে এবং ফিরে আসবে আগের মতো শান্তিপূর্ণ জীবন।

 সূত্র : দৈনিক জং, পাকিস্তান


বন্যাদুর্গতদের সেবায় আল্লাহর সন্তুষ্টি
প্রবল বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যায় বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল প্লাবিত। দেশের
বিস্তারিত
অফুরন্ত সওয়াবে ভরপুর ইবাদত হজ
আল্লাহ বলেনÑ ‘মানুষের মধ্যে যার বাইতুল্লাহ পর্যন্ত যাওয়ার সামর্থ্য আছে,
বিস্তারিত
সওয়াল
মুফতি আবদুল মালেক শিক্ষা সচিব, মারকাযুদ্দাওয়া আল ইসলামিয়া, ঢাকা প্রশ্ন :
বিস্তারিত
রুহের খোরাক জিকির
জিকিরের অর্থ স্মরণ করা, মনে করা, উল্লেখ করা, বর্ণনা করা।
বিস্তারিত
ইসলামে শিক্ষার গুরুত্ব
  সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের প্রধান কারণ তার আত্মসচেতনতা, যা
বিস্তারিত
ভালোবাসায় যত সওয়াব
মানুষের সহজাত একটি প্রেরণা অন্যকে ভালোবাসা। এ ভালোবাসা যদি হয়
বিস্তারিত