খাওয়া দাওয়ায় ইবাদতের সুফল

শরীর সুস্থ রাখতে হলে হালাল খেতে হবে। আদব বজায় রেখে খাওয়া-দাওয়া করলে ইবাদতের সুফল মিলবে। খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে শুধু ক্ষুধা নিবারণ হয় না। খাবার খেলে আল্লাহর আদেশ মানা হয়। আল্লাহর হুকুম মান্য করা একটি ইবাদত। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে মোমিনরা, তোমরা আহার করো আমি তোমাদের যে হালাল রিজিক দিয়েছি তা থেকে। আর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো, যদি তোমরা তাঁরই ইবাদত করো।’ (সূরা বাকারা : ১৭২)। ‘নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের ওপর হারাম করেছেন মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোশত এবং গায়রুল্লার নামে জবেহ করা প্রাণী।’ (সূরা বাকারা : ১৭৩)।

খাওয়া-দাওয়া ও পানাহারের ক্ষেত্রেও আদব মেনে চলতে হয়। জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করা সুন্নত। অন্যান্য স্থানের পানি বসে পান করা সুন্নত। ডান হাত দিয়ে খাওয়া শুরু করা, খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ ও খাওয়া শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলা সুন্নত। হজরত ওমর ইবনে আবু সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি রাসুল (সা.) এর কাছে বসা ছিলেন। রাসুল (সা.) বললেন, ‘হে বৎস! কাছে এসো। বিসমিল্লাহ বলে, ডান হাত দিয়ে তোমার পাশ থেকে খাও।’ (তিরমিজি : ১৯০)। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) যখন খানা খাওয়া শেষ করতেন তখন দোয়া পড়তেন। বলতেন, ‘সব প্রশংসা ওই আল্লাহ তায়ালার জন্য যিনি আমাদের পানাহার করিয়েছেন এবং আমাদের মুসলমান বানিয়েছেন।’ (তিরমিজি :১৯১)।
খাওয়া-দাওয়া শরীরের শক্তি-সামর্থ্যই বৃদ্ধি করে না, সবাই একসঙ্গে বসে খেলে পরস্পরের প্রতি মহব্বত বৃদ্ধি পায়। নিজেদের মধ্যে হৃদ্যতা তৈরি হয়। পারস্পরিক মনোমালিন্য দূর হয়। একত্রে বসে খেলে অল্প খাবার অধিকজনে খেতে পারেন। হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা একত্রে আহার করো, পৃথক হয়ে আহার করিও না। কেননা একত্রে খানা খাওয়ার মধ্যে বরকত আছে।’ (ইবনে মাজাহ; মিশকাত : ৯৭০ পৃ.)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘দুজনের খাবার তিনজনের জন্য যথেষ্ট এবং তিনজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট।’ (বোখারি : ৫০০০)।
আঙুল দিয়ে প্লেটে খাবার চেটে খাওয়া উত্তম। এটা স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞানসম্মত। হাতের আঙুলের মধ্যে হজম শক্তির উপাদান থাকে। আঙুলের মধ্যে বরকত নিহিত থাকে। হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুল (সা.) আঙুলগুলো এবং খাদ্যপাত্র চেটে খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন, তোমার জানা নেই যে, কোন আঙুল বা কোন লোকমায় বরকত নিহিত রয়েছে। (মুসলিম : পৃ. ৩৬৩)। হজরত নুবাইশাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো পাত্র থেকে খানা চেটে খায় তাহলে ওই পাত্রটি তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করে। (তিরমিজি : পৃ. ৩৩৬)। 
খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে মেহমানদারিতাকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ মেহমানের সঙ্গে রহমত আসে। মেহমানের ঘর কখনও বরকতশূন্য হয় না। তবে মেহমানকে খাওয়ানোর নামে অপচয় কিংবা অপব্যয় করা যাবে না। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)  থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘উটের চুটের দিকে ছুরি যত দ্রুত অগ্রসর হয় তার চেয়ে অধিক দ্রুত বরকত ওই ঘরের দিকে অগ্রসর হয়, যাতে সর্বদা মেহমানদের আহার করানো হয়।’ (ইবনে মাজাহ; মিশকাত : পৃ. ৭০)।


আল্লাহর মাস মহররমের মর্যাদা
মহররমের রোজা শ্রেষ্ঠ নেকি ও সেরা আমল। ইমাম মুসলিম তার
বিস্তারিত
আশুরায় করণীয় বর্জনীয়
‘রাসুল (সা.) মদিনায় হিজরত করে ইহুদিদের আশুরার রোজা রাখতে দেখে
বিস্তারিত
আলেম বিদ্বেষের ভয়াবহ পরিণাম
উম্মাহর ক্রান্তিলগ্নে ঝড়ের রাতে মাঝ নদীতে একজন দক্ষ নাবিকের ভূমিকা
বিস্তারিত
সর্বদা আল্লাহর পর্যবেক্ষণের কথা মনে
পূর্বসূরি এক বুজুর্গকে বলা হয়েছিল, দৃষ্টি অবনত রাখতে আমি কীসের
বিস্তারিত
কোরআনে বর্ণিত নবী-রাসুলদের দোয়া
কোরআন ও হাদিসে অনেক নবির দোয়া বর্ণিত হয়েছে। দোয়াগুলো অত্যন্ত
বিস্তারিত
আশুরা ও কারবালা
মহরম মাসের দশ তারিখ আশুরা দিবস হিসেবে সুপরিচিত। এ দিনে
বিস্তারিত