মহাসড়কে তিন চাকার গাড়ি, কক্সবাজারে দুইদিনে ১০ জনের মৃত্যু

সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে মহাসড়কে অসাধু পুলিশের টোকেনে চলছে তিন চাকার যানবাহন। যার ফলে মহাসড়কে বাড়ছে সড়ক দূর্ঘনা। কক্সবাজার-চট্রগ্রাম মহাসড়কে বুধবার ও মঙ্গলবার পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় ১০ জন মারা গেছেন। পৃথক এই দূর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।

মহাসড়কে  রিকশা–ভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নসিমন–করিমনসহ তিন চাকার সব ধরনের যানবাহন চলাচলে আছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এসব নিষেধাজ্ঞার কোনো তোয়াক্কাই করছে না কক্সবাজার–চট্টগ্রাম মহাসড়কের লিংক রোড থেকে চকরিয়া পর্যন্ত চালকরা। মহাসড়কে এখনো ঝুঁকি নিয়ে চলছে তিন চাকার এসব যানবাহন। এতে প্রাণহানির ঘটনা অহরহ ঘটছে।

মঙ্গলবার চকরিয়া বরইতলী রাস্তার মাথায় যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার (ম্যাজিক গাড়ি) সংঘর্ষে ৭ জন নিহত হবার ২৪ ঘন্টা পার না হতেই কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহসড়কের সেই চকরিয়ার এবার হারবাং এলাকায় আরেক দূর্ঘটনায় নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

রেইনবো কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ড ভ্যান সড়কে যাত্রিবাহি ইজিবাইককে (টমটম) ধাক্কা দিলে এ দূর্ঘটনা ঘটে।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হারবাং ইনানী রিসোর্ট এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রেইনবো স্টীকার লাগানো ঢাকামেট্টো-ম-১১-৪৪১৪ নম্বরধারি কক্সবাজারমূখী কাভার্ড ভ্যান গাড়িটি একই দিকদিয়ে চকরিয়ামূখী ইজিবাইককে ধাক্কা দিলে তার ভেতর বসা নারী যাত্রিসহ সবাই সড়কে সিটকে পড়ে গুরুতর জখম হয়। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শোভন দে বলেন, ঘটনাস্থলে মারা যাওয়া দুজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। আহত অপরজনকে হাসপাতালে আনার পর মারা যান। কিন্তু কারোই পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।  

বাংলাদেশ রোড় ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কক্সবাজার অফিসের মোটরযান পরিদর্শক আরিফুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবারের দূর্ঘটনায় ৭জন মারা যাবার পর খবর পেয়েছি বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় আরেকটি দূর্ঘটনা ঘটেছে। এতেও নারীসহ তিনজন মারা গেছে।

চকরিয়া থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী কাভার্ড ভ্যান ও টমটমের মধ্যে দূর্ঘটনায় তিননজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
 

সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে সেতু ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে ২০১৫ সালের ১ আগস্ট থেকে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে সব ধরনের তিন চাকার যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এরপর থেকে হাইওয়ে থানা, ট্রাফিক পুলিশ এমনকি সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা পুলিশ নড়ে চড়ে বসেছে। প্রতিনিয়ত মহাসড়কে চলে অভিযান। এতে তিন চাকার সিএনজি ট্যাক্সির মালিক ও চালকরা বিপাকে পড়ে যায়। তখন মহাসড়কে এসব পরিবহণ চলাচল করা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে মহাসড়কগুলো তিন চাকার স্থানীয় যান ইজিবাইক (টমটম) ও নছিমনের দখলে চলে গেছে।

কক্সবাজার–চট্টগ্রাম মহাসড়কের লিংকরোড থেকে চকরিয়া পর্যন্ত তিন চাকার যান অবাধে চলাচল করছে। এরমধ্যে ইজিবাইক (টমটম), সিএনজি ট্যাক্সি, রিকশা ও নসমিনের বিচরণ বেশি। মহাসড়কের লিংকরোড থেকে বাংলাবাজার ও খরুলিয়া পর্যন্ত প্রতিনিয়ত চলে তিন চাকার এসব যানবাহন। রামু বাইপাস সড়ক, পানিরছড়া, রশিদ নগর, ঈদগাঁও, ডুলাহাজারা, মালুমঘাট ও চকরিয়া পর্যন্ত তিন চাকার যান চলছে মহাসড়কে।

জানা যায়, দৈনিক প্রায় পাঁচ হাজার তিন চাকার যান কক্সবাজার–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে। তিন চাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুকিপূর্ণ নছিমন। সেচ পাম্প দিয়ে তৈরি এ নছিমন ডিজেল দিয়ে চলে। এ কারণে ইট, বালু, সিমেন্ট, রড, ছোট–বড় গাছের গুঁড়িসহ বিভিন্ন মালামাল স্বল্প মূল্যে পরিবহন করা যায়। তাছাড়া এ বাহনটি আকারে ছোট হওয়ায় সব জায়গায় বিচরণ করতে পারে। ফলে অবৈধ এ বাহনটি খুব দাপট নিয়ে চলছে মহাসড়কে। সড়ক দুর্ঘটনা পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত মহাসড়কগুলোতে সব ধরনের তিন চাকার বাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও এখনো পুরো দাপট নিয়ে চলছে ঝুঁকিপুর্ণ এই যানগুলো।
খরুলিয়া এলাকার ইজিবাইক (টমটম) চালক নবী হোসেন বলেন, মহাসড়কে তিন চাকার গাড়ি না চালানোর উপর নির্দেশ আছে জানি। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংসার চালাতে মহাসড়কে উঠতে হচ্ছে। কারণ অলিগলিতে যাত্রী কম পাওয়া যায়। মহাসড়কে অনেকেরই আগ্রহ থাকে টমটম নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে।

সিএনজি ট্যাক্সি চালক হোসেন আহমদ বলেন, মহাসড়কে ট্যাক্সি চালালে মাঝে মাঝে পুলিশ ডিস্টাব করে। তবে এখন কম ডিস্টাব করে। আগে বেশি ডিস্টাব করত। তিনি বলেন, বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় মহাসড়ক ব্যবহার করতে হয়।

কক্সবাজার পিপল্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, মহাসড়কে সিএনজি ট্যাক্সি, নছিমন কিংবা টমটম ইজিবাইক দুর্ঘটনায় পড়ার কারণে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই।
 
রামু তুলাবাগান হাইওয়ে থানার ওসি মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কে তিন চাকার যান নিয়ন্ত্রণে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিনিয়ত টমটম, সিএনজি ট্যাক্সি ও নসিমন জব্দ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গরীব লোকজন এসব তিন চাকার যান চালায়। মহাসড়কে উঠলে তাদের পরিবহণগুলো জব্দ করার পর টানা তিন সপ্তাহ আটকে রাখা হয়। এরপর জরিমানা বা মুছলেকা দিয়ে তারা নিয়ে যায়। দ্বিতীয় বার মহাসড়কে গাড়ি না চালানোর প্রতিশ্রুতিও দেয় তারা। কিন্তু কৌশলে মহাসড়কে উঠে অনেকেই। মুছলেকা বা জরিমানা দেয়া এমন কাউকে মহাসড়কে পেলে আর ক্ষমা করা হয় না।

ওসি মুজাহিদুল ইসলাম আরও বলেন– টমটম চালকদের কোনো দক্ষতা নেই। আইন বলতে তারা কোনো কিছু জানে না। যার কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। অনেক সময় এলাকার সচেতন লোকদের তদবির বেশি থাকে। যার কারণে শত ভাগ তিন চাকার যান মহাসড়কে রোধ করা যাচ্ছে না। তবে আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে।

কক্সবাজার–চট্টগ্রাম মহাসড়কস্থ চকরিয়া মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আলমগীর হোসেন  বলেন, আমার নিয়ন্ত্রণে থাকা মহাসড়কে বলতে গেলে তিন চাকার যান চলে না। নিয়মিত অভিযানের কারণে কমে গেছে। গত ১০ দিনে ৫০টির অধিক তিন চাকার যান জব্দ করেছি। তবে প্রথমবার মুছলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় মানবিক কারণে। যদি দ্বিতীয়বার মহাসড়কে পাওয়া যায় তাহলে আর কোনো ছাড় দেয়া হয় না। অনেক সময় তিন চাকার যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দুর্ঘটনা হয় বলেও তিনি জানান। এক্ষেত্রে এলাকার লোকজনকে এগিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি।


বন্দুকযুদ্ধে রূপগঞ্জের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে র‌্যাবের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে রূপগঞ্জের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক
বিস্তারিত
ভূঞাপুরে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে ভুট্টু ওরফে হিরু (৪৫) নামের এক
বিস্তারিত
সরকারি চাকরিতে বিশেষ সুবিধা রাখার
সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে প্রাথমিক নিয়োগে কোটা বাতিলের
বিস্তারিত
খেলাধুলা যুবসমাজকে অবক্ষয় থেকে মুক্ত
নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক
বিস্তারিত
ভাসমান স্কুলে শিশুদের পাশে অস্ট্রেলিয়ান
বরিশালের বাবুগঞ্জ ও উজিরপুর উপজেলায় বেদে ও জেলে সম্প্রদায়ের শিশুদের
বিস্তারিত
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নড়িয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেছেন,
বিস্তারিত