চলে গেলেন রতœগর্ভা জোবেদা বেগম

চলে গেলেন বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী সফল জীবনের প্রতীক, একবিংশ শতাব্দীর আলোর পথযাত্রী, ১২ সন্তানের জননী একজন রতœগর্ভা মা আলহাজ্জা জোবেদা বেগম। জন্ম নেত্রকোনা জেলার সুসং দুর্গাপুরে ১৯৩৯ সালের ডিসেম্বরে। বাবা-মা’র বিয়ের ১৬ বছর পর দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহর শেষে তার জন্ম। বাবা মো. জাহেদ আলী ছিলেন সরকারি চাকুরে, মা শহরেন্নেসা পরহেজগার, পরোপকারী, পরিশ্রমী একজন আর্দশ সুগৃহিণী। বাবার চাকরিস্থল পাবনা, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে মায়ের শৈশব-কৈশোর কেটেছে। ময়মনসিংহ শহরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাময়ী স্কুলে অধ্যয়নকালে নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা থানার ম-লেরগাতী গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারে বাবা মাহমুদজান তালুকদার, মা আয়েশা খাতুনের ঘর আলো করে ১৯২৮ সালে জন্ম নেওয়া মহান ভাষাসৈনিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় সুদর্শন মো. ওসমান আলীর সঙ্গে ১৯৫১ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

মরহুমার বড় ছেলে মৎস্য ভবনের পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন, মেজ ছেলে হাফেজ মাওলানা মো. আবদুল্লাহ, অধ্যক্ষ জামিয়া জোবায়দাসহ আরও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে, ছোট ছেলে মো. শহীদুল্লাহ, সহকারী অধ্যাপক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সিইও ইসলামিক টিভি ইউএসএ। পিএইচডি করতে আমেরিকায় যাওয়ার আগে তিনি ছিলেন দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের এই ধর্মপাতার উপদেষ্টা। বড় মেয়ে প্রখ্যাত লেখক, চয়ন প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী কবি লিলি হক, হোসনে আরা বেগম, আরজুমান্দ আরা বেগম, আমিনা বেগম, শরীফা বেগম গৃহিণী। ফাতেমা বেগম সহকারী শিক্ষক, আল আরাবিয়া দাখিল মাদ্রাসা। রওশান আরা বেগম ও উম্মে কুলসুম ব্যবসায়ী। আরও এক বোন তিন মাস বয়সে মারা যায়।             
রতœগর্ভা, বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী, মমতাময়ী, কোমলপ্রাণ, স্বামী সন্তান সংসার, অসংখ্য অসহায় মানুষের সেবায় ছিল হাত যার, ঈমান, আকিদা ও নেক আমলের মাঝে কেটেছে সারাবেলা, দৃঢ় মনোবল নিয়ে, আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সব দায়িত্ব পালন করাই ছিল যার একমাত্র লক্ষ্য উদ্দেশ্য। সন্তানের বুকের ওপর দিয়ে বয়ে চলা প্রবহমান ভালোবাসার পঞ্চরঙ্গা নদী, সবার মঙ্গল কামনায় দু-হাত তুলে আল্লাহর কাছে মোনাজাতরত, সদা হাস্যময়ী সাহসী নারীর জীবন কাহিনীর ক্ষুদ্র অংশ পাঠ করলেন তিনি আমাদের সদ্যপ্রয়াত প্রাণপ্রিয় শ্রদ্ধেয়া মা জোবেদা বেগম। 
যখন ঢাকা বা নেত্রকোনায় মায়ের সঙ্গে দেখা করে আমরা বিদায় নিতাম, দরোজার বাইরে সিঁড়ি পর্যন্ত চলত চলতে দোয়া পড়ে ফুঁ দেওয়া, চুমু খেয়ে আদর করা, গেটের বাইরে রাস্তা থেকে ওপর দিকে তাকালে দেখতে পেতাম জানালার গ্রিল অথবা ব্যালকনির ফাঁকে ‘সোনার হাতে সোনার কাঁকন কে কার অলংকার’ মা ফর্সা হাত নেড়ে নেড়ে বিদায় জানাচ্ছেন। সোনার বালা পরা দুধসাদা হাতটা চোখের সামনে এখনও জীবন্ত। একটু পর পর ফোন, তুমি কি জ্যামে পড়েছ, কোন পর্যন্ত গিয়েছ, পৌঁছে ফোন দিও। বাসার লিফটে ওঠার আগেই আবার ফোন, ঠিকমতো ঘরে ফিরেছি কি না। 
এই রমজানে ক’দিনের জন্য মাকে আসার জন্য আবদার করি আমাদের বাসায়। মা এলেন। আমাদের মনে আনন্দের ঢেউ। মাকে নিয়ে ইফতার, সাহরি। ৭৯ বছর পূর্ণ হতো এই ডিসেম্বরে। কি সচেতনভাবেই না আগলে রেখেছিলেন বুকের ওমে, পরম মমতায়। আর কোনোদিন মায়ের নম্বর থেকে আসবে না ফোন, কানে বাজবে না সেই মধুর কণ্ঠ, শুনতে পাব না কেমন আছ, কী করছ, বাসায় না বাইরে, কিছু খাও, সাবধানে থেক, পড়ো ‘আল হাফিজু’, ‘আল ওয়াহিদু’। সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আম্মাকে জান্নাতবাসী করুন, আমিন।

লেখক : মরহুমার মেয়ে


রহমতের নবী (সা.) ও হিলফুল
‘আমি তো আপনাকে বিশ^জগতের প্রতি শুধু রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি।’ (সূরা
বিস্তারিত
বিশ্বনবী : আঁধারে আলোর পরশ
পৃথিবী। মানব সৃষ্টির আগে যার সৃষ্টি। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে পাঠানোর আগে
বিস্তারিত
সেই ফুলেরই খুশবুতে
ভালোবাসা পবিত্র জিনিস। ফুল পবিত্রতার প্রতীক। ফুল দিয়ে ভালোবাসা বিনিময়
বিস্তারিত
নবীজির ১০টি বিশেষ উপদেশ
নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন বিশ্ববাসীর রহমতস্বরূপ। আজীবন মানুষের
বিস্তারিত
সৃষ্টির সেরা আদর্শ
সূর্যের আলো থেকে মানুষ বেঁচে থাকার উপাদান পেলেও মানুষ হওয়ার
বিস্তারিত
ইরাকিদের তাড়িয়ে ফিরছে দারিদ্র্য
  ইরাকের জনগণের একটি বড় অংশ সুস্পষ্ট জাতীয় অর্থনৈতিক নীতির অভাবে
বিস্তারিত