ভাইয়ের ভালোবাসা

রুহানকে ভাইয়ের ভালোবাসা বোঝানোর জন্যই মামার এই কৌশল। এ কথা শুনে রুহানের মা খুব অবাক হলেন এবং ছোট মামাকে ধন্যবাদ দিলেন। ওদিকে, রুহান আজ বুঝতে পারল, ছোট ভাই কত আদরের, কত ভালোবাসার! 
ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে ধরে রুহান বলে, ‘ভাইয়া! তোমাকে আর কোনোদিন মারব না

রুহানের মনটা আজ খুব খারাপ। কোনো কিছুই ভালো লাগছে না। ছোট ভাই তামিমের জন্য তার খুব কষ্ট হচ্ছে। ছোট ভাইয়ের কথা খুব বেশি মনে পড়ছে তার। প্রতিদিন দুই ভাইয়ের মারামারি সামলাতে গিয়ে মাকে হিমশিম খেতে হয়। যে কোনো জিনিস ছোট ভাইয়ের জন্য কিনলে বড় ভাই রুহান বায়না ধরে সেই জিনিসের জন্য। রুহান ক্লাস ফোরে আর তামিম ওয়ানে পড়ে। রুহান অনেক বেশি দুষ্টু। ছোট ভাইকে একদম সহ্য করতে পারে না। ছোট ভাইকে তার প্রতিপক্ষ মনে হয়। তামিমের জন্ম থেকেই রুহানের মাঝে এক ধরনের হিংসা কাজ করতে থাকে। মনে মনে ভাবে এতদিন একাই সে বাবা-মায়ের আদর ভালোবাসা পেত; কিন্তু এখন তো আরও একজন ভাগ বসাতে এসেছে। সুযোগ পেলেই তামিমকে ধরে মারে। তামিম ছোট মানুষ বড় ভাইকে কিছু বলে না। আধো আধো বুলিতে মার কাছে গিয়ে নালিশ করে। মা তাকে বুকে টেনে নিয়ে বলেন, ‘আচ্ছা বাবা, ভাইয়াকে মেরে দেব।’ কিন্তু মা রুহানকে কখনও মারেন না। সুন্দর করে বোঝানোর চেষ্টা করেন। রুহানকে বলেন, ‘ছোট ভাইকে মারতে হয় না।’ কিন্তু রুহান মায়ের কথা শোনে না। 
রুহানের বাবা প্রতিদিন তাদের জন্য মজা কিনে আনেন। রুহান সবসময় বেশি খায়। রুহানের বাবা যেদিন বুঝতে পারলেন রুহান তামিমকে সহ্য করতে পারে না, সেদিন থেকে দুই ভাইয়ের জন্য আলাদা প্যাকেট নিয়ে আসেন। রুহান প্রথমে নিজেরটুকু খায়, তারপর আবার তামিমের কাছ থেকে কেড়ে খায়। 
একদিন তামিম ও রুহানের জন্য তাদের বাবা একটি করে নতুন জামা কিনে আনলেন। রুহানের জামা লাল আর সবুজের মিশেল। আর তামিমের জামা সাদা আর নীল রঙের মিশেল। অমনি বায়না ধরল রুহান, তামিমের জামার মতো সে-ও একটি জামা চায়। বাবা আবার মার্কেটে গিয়ে রুহানের জন্য একই রঙের নতুন আরও একটি জামা কিনে আনলেন। সেদিনের পর থেকে বাবা দুই ছেলের জন্য একই রঙের পোশাক কেনেন। রুহানের এরকম আচরণে বাবা মাঝে মাঝে কষ্ট পান। আবার কখনও বা রেগে ওঠেন। কিন্তু রুহানের মা বলেন, ‘রুহান ছোট মানুষ, ও আর কি বোঝে, আর একটু বড় হলে ঠিকই ভাইয়ের আদর বুঝবে।’
খাওয়ার সময় হলে রুহানের মা যখন ছোট ভাই তামিমকে কোলে নিয়ে খাইয়ে দেন, তখন রুহানের খুব হিংসা হয়। তাই তো খাওয়ার সময় মা দুই ছেলেকেই একসঙ্গে খাইয়ে দেন। মাছ-দুধ-কলা সবকিছু রুহান বেশি বেশি খায়। 
রুহান যখন পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে রামনগর মাঠে খেলতে যায়, তামিম তখন মাঠে যাওয়ার জন্য কান্না করে। কিন্তু রুহান তাকে নিতে চায় না। রুহান বড় তারকা হতে চায়। টিভিতে ক্রিকেট খেলা দেখতে দেখতে রুহানেরও স্বপ্ন মাশরাফি-সাকিবের মতো বড় ক্রিকেটার হওয়া। ছোট ভাইয়ের নাম তামিম হওয়ায় ক্রিকেটার তামিম যত ভালোই খেলুক রুহানের পছন্দ হয় না। তামিম নামের সবাইকে তার হিংসা হয়। ছোট ভাইকে রেখেই রুহান মাঠে খেলতে যায়। তামিম কান্না করতে থাকে। মা তাকে কোলে নিয়ে কান্না থামান। তামিমকে বলেন, বড় হও, তখন তুমিও ভাইয়ার মতো মাঠে খেলতে যে-ও।
আজ সেসব কথা খুব বেশি মনে পড়ছে রুহানের। সকাল থেকে কিছুই খায়নি। ছোট ভাই তামিম কোথায় যে গেল! তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রুহান আজ স্কুলেও যায়নি। ছোট ভাইয়ের জন্য কান্না করতে করতে চোখ লাল হয়ে গেছে। ওদিকে রুহানের বাবা-মাও ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেছেন। কোথায় গেল তামিম?
বিকেল গড়িয়ে যাচ্ছে। রুহান বাড়ির বাইরে মেইন গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছোট ভাইয়ের জন্য কাঁদছে। কখন আসবে তামিম। হঠাৎ তামিমের মতো একটা ছেলে হেঁটে আসছে। রুহান দৌড়ে গেল। কাছে গিয়ে দেখে সত্যিই তার ছোট ভাই তামিম। তামিমকে পেয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে। মাকে ডাকতে ডাকতে ছুটে যায় বাড়িতে। ছোট ছেলেকে পেয়ে মায়ের চোখে-মুখে খুশির রেখা ফুটে ওঠে। একটু পরই তামিমের ছোট মামা হাজির। ‘হঠাৎ এই সময়ে তুই?’Ñ তামিমের মা একটু অবাক হয়ে জানতে চাইলেন। ছোট মামা মাকে সব খুলে বললেনÑ সকালে রুহানদের বাড়িতে আসার জন্য বের হয়েছিলেন। বটতলায় এসে দেখেন তামিম কাঁদছে। তামিমের কাছে তিনি জানতে পারেন রুহান তাকে মেরেছে। তামিম আরও বলে, প্রায়ই তাকে ধরে মারে ভাইয়া। এ কথা শোনার পর ছোট মামা তামিমকে নিয়ে খালামণির বাসায় বেড়াতে যান। সেখানে সারা দিন থেকে তারপর তামিমদের বাড়িতে আসেন। আসলে, রুহানকে ভাইয়ের ভালোবাসা বোঝানোর জন্যই মামার এই কৌশল। এ কথা শুনে রুহানের মা খুব অবাক হলেন এবং ছোট মামাকে ধন্যবাদ দিলেন। ওদিকে, রুহান আজ বুঝতে পারল, ছোট ভাই কত আদরের, কত ভালোবাসার! ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে ধরে রুহান বলে, ‘ভাইয়া! তোমাকে আর কোনোদিন মারব না, তোমার খাবার কেড়ে নেব না, তোমার সঙ্গে হিংসা করব না।’ কথাগুলো বলার সময় নিজের অজান্তেই রুহানের চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে... 


মায়ের ভালোবাসা
সাবধানে মুখ খোলার চেষ্টা করবি। কিন্তু কী হলো হঠাৎ করে
বিস্তারিত
সহানুভূতি মামুন অপু
দূর আকাশে আলোর নায়ে চড়ব ফাগুন রাতে আম্মু তখন বলবে
বিস্তারিত
বড় হতে হলে বই পড়াটা
আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু
বিস্তারিত
আমি সেরা
বাবা আমায় কাছে ডেকে বললেন,‘মা রে, শোনো’ বড়াই করে মিছেমিছি লাভ কি আছে
বিস্তারিত
কালবৈশাখী
বৈশাখ এলো বৈশাখ এলো এল নতুন ডাক কষ্ট ব্যথা কালবৈশাখী উড়িয়ে নিয়ে যাক। কালবৈশাখীর
বিস্তারিত
শিশু বাথাইন্নাদের অন্যরকম জীবন
চারপাশে নদী। মাঝখানে জেগে ওঠা বিশাল চর। এর নাম-দমারচর। বঙ্গোপসাগরের
বিস্তারিত