মোবাইলে বিয়ের সঠিক পদ্ধতি!

পাত্র বা পাত্রী তার আপনজন বা পরিচিত যে কাউকে চিঠি, ফোন, মোবাইল, ফ্যাক্স, ই-মেইল ইত্যাদির মাধ্যমে নিজের উকিল বানাবেন। উকিল অপর পক্ষের সামনে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন করবেন

আমাদের সমাজে প্রায়ই মোবাইলে বিয়েশাদির কথা শোনা যায়। বিশেষ করে অনেক প্রবাসী মোবাইলে বিয়ে করে থাকেন। কিন্তু তাদের অনেকেই জানেন নাÑ মোবাইল ফোনে বিয়ে করার সঠিক পদ্ধতি কী? ফলে অনেক বিয়েই ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক সম্পন্ন হচ্ছে না। অথচ বিয়ের পর তারা দিব্যি ঘর-সংসার করে যাচ্ছেন। 

মোবাইলে বিয়ের ব্যাপারে ইসলামের বক্তব্য স্পষ্ট। তার আগে বিয়ের মৌলিক কিছু বিষয় জেনে নেওয়া উচিত। বিয়ে মানবজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিয়ের মাধ্যমে শারীরিক চাহিদা পূরণের সঙ্গে সঙ্গে অনেক গোনাহের কাজ থেকেও বেঁচে থাকা যায়। বিয়ে মানুষের মন পরিষ্কার করে। চক্ষু শান্ত রাখে। জীবনে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করে। ইসলামি বিধান মতে বিয়ের অন্যতম শর্ত হলোÑ দুজন সাক্ষী থাকতে হবে। সাক্ষী ছাড়া বিয়ে কোনোভাবেই সঠিক হবে না। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘সাক্ষী ছাড়া কোনো বিয়ে হয় না।’ (তিরমিজি)। অপর এক হাদিসে রয়েছে, ‘যেসব মহিলা সাক্ষী ছাড়া বিয়ে করে, তারা ব্যভিচারিণী।’ (তিরমিজি)।
ফতোয়ার কিতাবে একথাও উল্লেখ রয়েছে যে, বিয়ে অনুষ্ঠানে বর বা বরের উকিল এবং কনে বা কনের উকিল একই বৈঠকে একই স্থানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে এবং সে অনুষ্ঠানে সাক্ষীরাও সশরীরে উপস্থিত থেকে বর বা বরের উকিল ও কনে বা কনের উকিলের ইজাব-কবুল সরাসরি ও সামনাসামনি শুনতে হবে। তবেই তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে, অন্যথায় নয়। (ফাতাওয়া আলমগিরি : ১/২৬৯)। 
এ থেকে বোঝা যায়Ñ সাক্ষীরা যদি বিয়ের অনুষ্ঠানে বর বা বরের উকিল এবং কনে বা কনের উকিলের কথা সশরীরে সামনাসামনি না শোনেন, তাহলে বিয়ে হবে না। তদ্রƒপ একই বৈঠকে বিয়ে অনুষ্ঠান হতে হবে। বৈঠক দুই হলে বিয়ে হবে না। 
এবার আসুন মোবাইলে বিয়ের বিষয়ে। মোবাইলে বিয়ের ক্ষেত্রে যেহেতু বর এক স্থানে এবং কনে অন্যত্র অবস্থান করেন, উপরন্তু সাক্ষীরা ইজাব-কবুল মোবাইল বা ফোনের মাধ্যমে শুনে থাকেন, সরাসরি বর বা বরের উকিল, কনে বা কনের উকিলকে দেখেন না এবং তাদের কথাও শোনেন না; সেহেতু ইসলামের দৃষ্টিতে এমন বিয়ে জায়েজ নয়। 
তবে ইসলাম স্বভাব-প্রকৃতির ধর্ম। মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করা বা বিষিয়ে তোলা ইসলামের কাম্য নয়। তাই প্রবাসীদের বিয়েশাদির বাস্তব সমস্যাকে ইসলাম জিইয়ে রাখেনি। বরং ইসলামের দৃষ্টিতে ফোনে বিয়ের একটি বিকল্প ব্যবস্থাও রয়েছে। সেটি জানা থাকলে ফোনে বিয়ের প্রয়োজনই পড়ে না। আর তা হলো, প্রবাসী পাত্র বা পাত্রী তার আপনজন বা পরিচিত যে কাউকে চিঠি, ফোন, মোবাইল, ফ্যাক্স, ই-মেইল ইত্যাদির মাধ্যমে নিজের উকিল বানাবেন। (বর যেমন উকিল বানাতে পারবেন, কনেও উকিল বানাতে পারবেন)। উকিল অপর পক্ষের সামনে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন করবেন। এতে উভয় পক্ষ ও সাক্ষীরা একই বৈঠকে বিয়ে সম্পন্ন করতে সমর্থ হবেন। তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে আর কোনো আপত্তি থাকবে না। (ফাতাওয়া মাহমুদিয়া : ১১/১৬৩; ফাতাওয়া নিজামিয়া : ২/২০৭)।


নির্বাচনি ইশতেহারে ইসলামের প্রেরণা
ইশতেহারে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বন্ধের ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য দেখতে পাওয়া যায়
বিস্তারিত
মানুষ মানুষের জন্য
শুক্রবার মানেই সাপ্তাহিক ছুটি। ছুটির দিন নানাজন নানাভাবে কাজে লাগিয়ে
বিস্তারিত
শীতের নেয়ামত বিচিত্র পিঠা
  প্রকৃতিতে বইছে শীতের সমীরণ। কুহেলিঘেরা সকাল মনে হয় শ্বেত হিমালয়।
বিস্তারিত
মহামানবের অমীয় বাণী
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে আমার উম্মতের স্বার্থে
বিস্তারিত
যুদ্ধাহত শিশুদের কথা
৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে ‘নিউ এরাব’ আরব বিশ্বের
বিস্তারিত
সুদানে গ্রামীণ ছাত্রদের শহুরে জীবন
যেসব সুদানি ছাত্র পড়াশোনা করতে গ্রাম থেকে শহরে এসেছে তারা
বিস্তারিত