আশুরা ও কারবালা

মহরম মাসের দশ তারিখ আশুরা দিবস হিসেবে সুপরিচিত। এ দিনে পৃথিবীর ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ইতিহাস সাক্ষ্য, হিজরি ৬১ সনের এমনই এক আশুরা দিবসে কারবালা ময়দানে এজিদ বাহিনী কর্তৃক প্রিয়নবী (সা.) এর দৌহিত্র হোসাইন (রা.) ৭২ সঙ্গী-সাথিসহ শাহাদতের ঐতিহাসিক বেদনাবিধুর ঘটনাটি সংঘটিত হয়। এ ছিল হক ও বাতিলের চিরাচরিত সংঘাতের ধারাবাহিকতায় সংঘটিত একটি নির্মম ইতিহাস। আশুরা দিবস যদিও বহু আগ থেকেই তাৎপর্যম-িত ছিল; কিন্তু কারবালা বিয়োগান্তক ঘটনার সাক্ষী হওয়ার ফলে যেন এ উম্মাহর প্রতিটি ব্যক্তির হৃদয়ে আশুরা আর কারবালা একাকার হয়ে গেছে।

‘আহলু বাইতিন নাবী’ তথা নবী করিম (সা.) এর পরিবার-পরিজনকে অন্তর থেকে মহব্বত করা প্রত্যেক ঈমানদারের একান্ত কর্তব্য। নবীজি (সা.) এর শানে আমরা যত দরুদ পাঠ করে থাকি, তার প্রায় সবগুলোতেই নবীজির পূতঃপবিত্র পরিবার-পরিজনের প্রতি সালাত ও সালামের ঘোষণা রয়েছে। হাদিসে আহলে বাইতকে ভালোবাসা এবং তাদের সম্মান ও শ্রদ্ধা করার জন্য উম্মতকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রিয়নবী (সা.) এর কলিজার টুকরা, প্রিয় দুই দৌহিত্র, জান্নাতের যুবকদের সরদার, হাসান (রা.) এবং হোসাইন (রা.) এর সুউচ্চ মর্যাদার ঘোষণা স্বতন্ত্রভাবে বর্ণিত হয়েছে।
পবিত্র আহলে বাইতের বিষয়ে বোখারিতে আবু বকর (রা.) কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিসÑ ‘আবদুল্লাহ ইবনে ওমার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি আবু বকর সিদ্দিক (রা.) এর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন, আবু বকর (রা.) বলেন, তোমরা মুহাম্মদ (সা.) এর পবিবার-পরিজনের প্রতি অত্যধিক সম্মান প্রদর্শন করবে।’ (বোখারি : ৩৭১৩)। 
মুসলিমে সাহাবিদের মর্তবা অধ্যায়ে আলী (রা.) এর মর্যাদা অনুচ্ছেদে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসের অংশবিশেষ নিম্নরূপÑ জায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) একদিন মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী ‘খুম্ম’ নামক স্থানে দাঁড়িয়ে আমাদের সামনে বক্তৃতা প্রদান করলেন। হামদ ও সানা বর্ণনার পর ওয়াজ এবং নসিহত করলেন। 
তিনি বললেন, ‘সাবধান! হে লোকসকল! আমি একজন মানুষ, অতিসত্বরই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ফেরেশতা আমার কাছে চলে আসবেন এবং আমি তার আহ্বানে সাড়া দেব। আমি তোমাদের কাছে ভারি দুটো জিনিস রেখে যাচ্ছি। একটি হলোÑ আল্লাহর কিতাব। এতে রয়েছে তোমাদের জন্য হেদায়েত ও আলোকবর্তিকা। অতএব তোমরা আল্লাহর কিতাবকে অনুসরণ করো, আর তাকে শক্ত করে আঁকড়ে রাখো।’
জায়েদ (রা.) বলেন, এরপর নবীজি কোরআনের প্রতি আরও অধিক উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিলেন। আর দ্বিতীয়টি হলোÑ ‘আমার আহলে বাইত। আমি আহলে বাইতের ব্যাপারে তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। আমি আহলে বাইতের ব্যাপারে তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। আমি আহলে বাইতের ব্যাপারে তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। (নবীজি (সা.) কথাটি তিনবার বললেন)।’ (মুসলিম : ৬১১৯)। 
বিশেষভাবে হাসান (রা.) এবং হোসাইন (রা.) এর মর্যাদা বিষয়ে অনেক হাদিস পাওয়া যায়। নবীজি তাদের দুনিয়ায় নিজের ফুল বলে ঘোষণা করেছেন। বোখারির বর্ণনাটি এরূপÑ আবদুল্লাহ ইবনে ওমার (রা.) থেকে বর্ণিত, তাকে ইহরাম বাঁধা অবস্থার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলো। বর্ণনাকারী শুবা বলেন, আমার যতদূর মনে পড়ে, তিনি মাছি হত্যা করেছিলেন। তখন আবদুল্লাহ ইবনে ওমার (রা.) বললেন, ‘আরে ইরাকবাসীরা আজ মাছি হত্যার বিষয়ে জানতে এসেছে, অথচ তারা রাসুলুল্লাহ (সা.) এর মেয়ের ঘরের প্রিয় নাতিকে হত্যা করেছে। যার বিষয়ে স্বয়ং নবী করিম (সা.) এরশাদ করেছেনÑ এরা দুজন [হাসান (রা.) এবং হোসাইন (রা.)] হচ্ছে দুনিয়ার মধ্যে আমার জন্য দুটি ফুলস্বরূপ।’ (বোখারি : ৩৭৫৩)। 
প্রিয়নবী (সা.) এবং তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের মহব্বত, বিশেষ করে নবীজি (সা.) এর আদরের দুলাল প্রিয় দৌহিত্র শহীদে কারবালা হোসাইন (রা.) এবং তার সঙ্গে কারবালার ময়দানে শাহাদতবরণকারী সঙ্গী-সাথিদের ভালোবাসা যার দিলে সামান্য পরিমাণও বিদ্যমান রয়েছে, কারবালার মর্মান্তিক ইতিহাস জানার পর সে নিজেকে স্থির রাখতে পারে না।
এ ঘটনার বিষয়ে আমাদের করণীয় কী? শুধুই হা-হুতাশ করে সময় পার করা? দিবসকেন্দ্রিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই এ স্মরণকে সীমাবদ্ধ রাখা? না, বরং আহলে বাইতের মহব্বতে কারবালা ট্র্যাজেডি স্মরণ করে, হোসাইন (রা.)সহ শুহাদায়ে কারবালার জন্য প্রাণখুলে দোয়া করাই হবে আমাদের প্রথম কাজ। সঙ্গে সঙ্গে কারবালার সঠিক ইতিহাস জেনে তা থেকে আমাদের কী কী শিক্ষা নেওয়ার আছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। হাসান (রা.) এবং হোসাইন (রা.)সহ নবীজি (সা.) এর পবিত্র আহলে বাইত যে জীবনাদর্শ উম্মাহর সম্মুখে রেখে গেছেন, জীবনের পরতে পরতে সে আদর্শ বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকতে হবে। সর্বোপরি হোসাইনি আদর্শে বলীয়ান হয়ে হকের পক্ষে এবং জুলুমের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে পারলে সেটাই হবে কারবালার ইতিহাসের প্রকৃত ও সঠিক মূল্যায়ন।

লেখক : খতিব, বাইতুল ফালাহ জামে মসজিদ, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট 


ইসলামে জবাবদিহিতা
জবাবদিহিতা ইসলামের একটি অন্যতম মৌলিক বিষয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী তিনিই তো আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক; তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ
বিস্তারিত
ভালো নাম মন্দ নাম
নাম একজন ব্যক্তির পরিচয় বহন করে। চাই সে পুরুষ হোক
বিস্তারিত
র‌্যাগিং : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিকৃষ্ট
মফস্বল থেকে ছেলেটি এসেছে। চোখমুখ ভরা তার মায়া। জড়তা এখনও
বিস্তারিত
উপার্জনের কিছু অংশ সঞ্চয় করুন
কাজেই আজকের দিনের জীবনমানের বিবেচনায় উপার্জন ও সঞ্চয় করা দোষণীয়
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী আল্লাহ, তিনি ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই; তিনি তোমাদের
বিস্তারিত