কোরআনে বর্ণিত নবী-রাসুলদের দোয়া

কোরআন ও হাদিসে অনেক নবির দোয়া বর্ণিত হয়েছে। দোয়াগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্ববহ। 

আদম (আ.) এর দোয়া ও ক্ষমাপ্রাপ্তি 
আদম (আ.) ও হাওয়া পৃথিবীতে এসে তারা তাদের কৃত ভুলের কথা স্মরণ করে আল্লাহ তায়ালার দরবারে রোনাজারি করতে থাকেন। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তাদের প্রার্থনাবাণী শিখিয়ে দেওয়া হলো। তারা বললেন, ‘হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করেছি, যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।’ (সূরা আরাফ : ২৩)। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তাদের দোয়া কবুল করেন। 
কাফেরদের জন্য নুহ (আ.) এর বদদোয়া 
৯০০ বছর ধরে নুহ (আ.) তার সম্প্রদায়কে হেদায়েতের দিকে আহ্বান করতে থাকেন। কিন্তু তারা তার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করলে তিনি আল্লাহ তায়ালাকে আহ্বান করে বললেন, ‘হে আল্লাহ, আমি অসহায়। অতএব আপনি প্রতিবিধান করুন।’ (সূরা কামার : ১০)। তিনি আরও দোয়া করলেন, ‘হে আমার প্রতিপালক, আমার সম্প্রদায় আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে। অতএব আমার ও তাদের মধ্যে কোনো ফয়সালা করে দিন এবং আমাকে ও আমার সঙ্গী মোমিনদের রক্ষা করুন।’ (সূরা শুআরা : ১১৭-১১৮)। তিনি আল্লাহর কাছে সর্বশেষ মহাপ্লাবনের দোয়া চেয়ে প্রার্থনা করলেন যে, ‘হে আমার রব, আপনি পৃথিবীতে কোনো কাফের গৃহবাসীকে রেহাই দেবেন না। যদি আপনি তাদের রেহাই দেন তবে তারা আপনার বান্দাদের পথভ্রষ্ট করবে এবং শুধু পাপাচারী, কাফের জন্ম দিতে থাকবে।’ (সূরা নুহ : ২৬-২৭)। 
লুত (আ.) এর সাহায্য প্রার্থনা
লুত (আ.) এর উম্মতরা সমকামিতার মতো জঘন্য খারাপ কাজে অভ্যস্ত ছিল। তিনি সবাইকে এ ধরনের অপকর্ম থেকে বিরত থাকতে বললে তারা তাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করতে লাগলো। লুত (আ.) এই সংকটকালে দুটি দোয়া করেন। তিনি মোমিনদের জন্য প্রার্থনা করলেন, ‘হে আমার রব, আমাকে ও আমার পরিবার-পরিজনকে এহেন দুষ্কর্ম থেকে রক্ষা করুন।’ (সূরা শুআরা : ১৬৯)। তার অপর দোয়াটি হলো, ‘হে আমার প্রতিপালক, বিপর্যয় সৃষ্টিকারী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করুন।’ (সূরা আনকাবুত : ৩০)। আল্লাহ পাক তার প্রার্থনা কবুল করলেন। তাকে ও তার অনুসারীদের রক্ষা করলেন এবং অপরাধীদের নিশ্চিহ্ন করে দিলেন।
ইবরাহিম (আ.) এর দোয়া 
ইবরাহিম (আ.) এর অনেকগুলো দোয়া পবিত্র কোরআনে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন। তিনি শুরুতে হেদায়েত কামনা করে এভাবে দোয়া করেছেন, ‘হে আমার পালনকর্তা, আমাকে প্রজ্ঞা দান করুন এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে যশস্বী করুন, আমাকে সুখময় জান্নাতের অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।’ (সূরা শুআরা : ৮৩-৮৫)। ইবরাহিম (আ.) আল্লাহ পাকের কাছে নেক সন্তানের জন্য প্রার্থনা করে বলেন ‘হে আমার রব, আমাকে এক সৎকর্মপরায়ণ সন্তান দান করুন’। (সূরা- সাফফাত ১০০)।
ইউসুফ (আ.) এর পরীক্ষা ও দোয়া 
মিসর অধিপতির স্ত্রী ইউসুফ (আ.) এর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়লে ঈমানের এরূপ কঠিন পরীক্ষার মুহূর্তে ইউসুফ (আ.) আল্লাহ পাকের মহান দরবারে দোয়া করলেন, ‘হে আমার প্রতিপালক, এই নারীরা আমাকে যার প্রতি আহ্বান করেছে তা অপেক্ষা কারাগার আমার কাছে অধিক প্রিয়।’ (সূরা ইউসুফ : ৩৩)। আল্লাহ পাক ইউসুফের এই বিনীত প্রার্থনা কবুল করেছেন। তিনি ইহকালীন জীবনে সর্বদিক থেকে আল্লাহ পাকের রহমত ও নেয়ামত লাভ করার পর জীবন সায়াহ্নে এসে আল্লাহ পাকের কাছে নিবেদন করলেন, ‘হে আমার রব, আপনি আমাকে রাজ্য দান করেছেন এবং স্বপ্ন ও অন্যান্য কথার ব্যাখ্যা শিক্ষা দিয়েছেন। হে আকাশম-লী ও পৃথিবীর স্রষ্টা, আপনিই ইহলোক ও পরলোকে আমার অভিভাবক। আপনি আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দিন এবং আমাকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করুন।’ (সূরা ইউসুফ : ১০১)।
শুয়াইব (আ.) এর দোয়া
যখন শুয়াইব (আ.) এর সম্প্রদায়ের দাম্ভিক ও অতি দুরাচার নেতৃবর্গ বলল, হে শুয়াইব, তোমরা আমাদের ধর্মাদর্শে ফিরে না এলে আমরা তোমাদের আমাদের জনপদ থেকে অবশ্যই বহিষ্কার করে দেব। তখন শুয়াইব (আ.) আল্লাহ পাকের সাহায্য প্রার্থনা করে বললেন, ‘হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের অপরাধীদের মধ্যে ন্যায্যভাবে মীমাংসা করে দিন এবং আপনিই মীমাংসাকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।’ (সূরা আরাফ : ৮৯)। আল্লাহ পাক তার দোয়া কবুল করে অপরাধীদের ধ্বংস করে দিলেন।
মুসা (আ.) এর অনুতাপ ও দোয়া
মুসা (আ.) এক অত্যাচারী কিবতিকে থাপ্পড় দিলে সে মারা যায়। তিনি অনুতপ্ত হয়ে দোয়া করেন ‘হে প্রভু আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ (সূরা কাসাস : ১৬)। আল্লাহ পাক তাকে ক্ষমা করে দিলেন। তিনি তখন তওবা করে বললেন, ‘হে আমার প্রতিপালক, যেহেতু আপনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, আমি কখনও অপরাধীদের সাহায্যকারী হব না।’ (সূরা কাসাস : ১৭)।
রোগমুক্তি কামনায় আইয়ুব (আ.) এর দোয়া
আঠারো বছর ধরে দীর্ঘ কঠিন অসুখে ভোগার পর আইয়ুব (আ.) দোয়া করলেন, ‘নিশ্চয় আমাকে দুঃখকষ্টে (অসুখে) ধরেছে আর আপনি হলেন দয়াবানদের সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াবান।’ (সূরা আম্বিয়া : ৮৩)। দোয়ার ফলে আল্লাহর রহমত তার ওপর বর্ষিত হলো। আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী তিনি জমিনে আঘাত করলেন। তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে ঝরনাধারা বের হলো। তিনি সে পানি পান করলেন ও পানি দিয়ে গোসল করলেন। এতে আইয়ুব (আ.) সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলেন। 
ইউনুস (আ.) এর দোয়া
ইউনুস (আ.) যখন মাছের পেটে ছিলেন একটি দোয়ার উসিলায় তাকে এই কঠিন বিপদ থেকে মুক্তি দেন। কোরআনে তা এভাবে বর্ণিত হয়েছে, ‘অতঃপর সে (ইউনুস) অন্ধকার থেকে আহ্বান করেছিল, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি পবিত্র সুমহান। নিশ্চয়ই আমি সীমা লঙ্ঘনকারী।’ (সূরা আম্বিয়া : ৮৭)। 
সন্তান চেয়ে জাকারিয়া (আ.) এর দোয়া 
জাকারিয়া (আ.) বার্ধক্যে পৌঁছে গেলেও যখন তার সন্তান হলো না তিনি খোদার কাছে ফরিয়াদ জানালেন, ‘হে আমার প্রতিপালক আমাকে একাকী (নিঃসন্তান) রেখে দেবেন না, নিশ্চয়ই আপনি উত্তম ওয়ারিশ।’ (সূরা আম্বিয়া : ৮৯)। এই দোয়া কবুল হওয়া প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অতঃপর আমি তার দোয়া কবুল করেছিলাম, তাকে দান করেছিলাম ইয়াহইয়া এবং তার জন্য তার স্ত্রীকে প্রসব যোগ্য করেছিলাম।’ (সূরা আম্বিয়া : ৯০)।
দাউদ (আ.) এর দোয়া
আল্লাহ তায়ালা দাউদ (আ.) এর প্রশংসায় বলেন, দাউদ (আ.) অতিশয় আল্লাহ অভিমুখী ছিলেন। দাউদ (আ.) ও তার পুত্র সোলায়মান (আ.) কে আল্লাহ পাক বিভিন্ন বিষয়ে প্রভূত জ্ঞান দান করেছিলেন। তারা উভয়ে আল্লাহ পাকের নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে দোয়া করেন, ‘সব প্রশংসা আল্লাহরই যিনি আমাদের তাঁর বহু মোমিন বান্দার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।’ (সূরা নামল : ১৫)।
সোলায়মান (আ.) এর দোয়া 
সোলায়মান ছিলেন বিশাল রাজ্যের অধিপতি। তার রাজত্ব শুধু মানুষের ওপরই সীমিত ছিল না; বরং জিন, পশু, পাখি ও বাতাসের ওপরও তার আধিপত্য ছিল। কেননা তিনি একবার আল্লাহ পাকের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, ‘হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে দান করুন এমন এক রাজ্য, যা আমার পর আর কারও হাসিল হবে না। নিশ্চয় আপনি পরম দাতা।’ (সূরা সাদ : ৩৫)। আল্লাহ তায়ালা তার এ দোয়া কবুল করেছেন। তাকে এমন বিস্ময়কর রাজত্ব দান করা হয় যা তার আগে বা পরে দ্বিতীয় কাউকে দেওয়া হয়নি।
ইয়াকুব (আ.) এর প্রার্থনা 
প্রিয় পুত্র ইউসুফ (আ.) কে হারিয়ে আইয়ুব (আ.) শোকতপ্ত হৃদয়ে দোয়া করেছিলেন, ‘আমি আমার সব দুঃখ-বেদনা ও দুশ্চিন্তার ফরিয়াদ শুধু আল্লাহর দরবারেই করছি।’ (সূরা ইউসুফ : ৮৬)।
হুদ (আ.) এর আল্লাহর ওপর ভরসা 
হুদ (আ.) আল্লাহর ওপর ভরসা করতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি আল্লাহর ওপর নিশ্চিত ভরসা করেছি যিনি আমার এবং তোমাদের পরওয়ারদেগার। পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যা তার পূর্ণ আয়ত্তাধীন নয়। আমার পালনকর্তা সরল পথে সন্দেহ নেই।’ (সূরা হুদ : ৫৬)। 


বুদ্ধির হেরফেরে তিন মাছের পরিণতি
সাগরকূলে পরিত্যক্ত ঘেরে তিনটি বড় মাছ আশ্রয় নিয়েছিল। পড়ন্ত বিকেলে
বিস্তারিত
মিথ্যা সব গোনাহের মূল
ঘড়ির কাঁটা দুপুর ১২টা ছুঁই ছুঁই। আমি সাতরাস্তার মোড় থেকে
বিস্তারিত
সুফিকোষ
  ‘গাঊছ’ শব্দটি আরবি, বাংলায় গাওছ, গওছ বা গাউস ও গওস
বিস্তারিত
সত্যবাদী ও সত্যবাদিতা
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষের অঙ্গগুলো সুন্দরভাবে সঠিক পথে চলতে
বিস্তারিত
আদর্শ শিক্ষকের দায়িত্ব ও মর্যাদা
শিক্ষকতা পেশা হলো পৃথিবীর সমুদয় পেশার মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট ও শ্রেষ্ঠ।
বিস্তারিত
আত্মহত্যা প্রতিরোধে ইসলাম
জাতীয় পর্যায়ে আত্মহত্যা রোধ করতে হলে অবশ্যই জাতীয় পর্যায়ে প্রত্যেকটি
বিস্তারিত