মৃত্যুর পর স্কুল শিক্ষিকার পদোন্নতি

মৃত্যুর ১১ দিন পর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার রাজধরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কানিজ ফাতেমা রুলি পদোন্নতি পেয়ে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব পেয়েছেন।

গণশিক্ষা ও প্রাথমিক মন্ত্রণালয় ১৯ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর ৯৪ জন সিনিয়র সহকারি শিক্ষককে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্ব দিয়ে একটি গেজেট প্রকাশ করেন। এই গেজেটের তালিকায় জেলার নিহত স্কুল শিক্ষিকার নাম ৪০ এবং বালিয়াকান্দি উপজেলার মধ্যে ৫ নং ক্রমিকে রয়েছে।

কিন্তু তিনি তো আর নেই! জীবনের চরম বাস্তবতার শিকার হয়ে প্রিয় সন্তান, স্বামী আর আত্মীয়-স্বজনকে কাঁদিয়ে আজ তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন। সবাইকে কাঁদিয়ে তিনি ঘুমিয়ে আছেন কবরে। পদোন্নতির সু-সংবাদে তার সহকর্মীরা যখন মিষ্টি বিতরণ করছে ঠিক সেই মুহূর্তে বাস্তবতার কাছে হার মেনে তার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্খিদের মাঝে নেমে এসেছে চরম হতাশা। মৃত্যুর শোক নতুন করে তাদেরকে আবার পোড়াচ্ছে পদোন্নতির এই চিঠি।

নিহতের স্বামী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন মোল্লা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, এই দিনটার জন্য ও অনেক অপেক্ষা করেছে। ও স্বপ্ন দেখতো প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পেলে কোমলমতি শিশুদেরকে নিয়ে বিদ্যালয়কে একটি স্বর্গরাজ্য বানাবে। কিন্তু আজ ও বেঁচে নেই। সবাইকে কাঁদিয়ে আজ ও আমাদের থেকে বহুদূরে।

আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি আরো বলেন, জানিনা এই পদোন্নতির খবর ও জানে কিনা? ও আজ বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতো।

বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস খান টুটুল জানান, নিহত রুলি একজন আদর্শবান শিক্ষক ছিলেন। তিনি আমাদের সবার খুবই প্রিয় ছিলেন। তার এই অস্বাভাবিক মৃত্যুতে আমরা ভীষণ শোকাহত। তার পদোন্নতির খবর পাওয়ার পর আমাদের মাঝে আবার নতুন করে শোকের ছাঁয়া নেমে এসেছে। এই উপজেলাতে যারা পদোন্নতি পেয়েছেন তাদের মাঝেও কোনো আনন্দ নেই। সবাই অনেক কষ্ট পাচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার অফিসার মো: সিরাজুল ইসলাম জানান, আমাদের উপজেলায় মোট ১৯ জনকে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে নিহত রুলির নাম ৫ নং ক্রমিকে রয়েছে। যেহেতু তিনি বেঁচে নেই তাই আইন অনুযায়ি তার পদটি শূণ্যই থেকে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ৮ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকালে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন শেষে স্বামীর সাথে নিজের বাড়ি রাজবাড়ী সদরে ফেরার পথে বহরপুর ইউনিয়নের হুলাইল ব্রিজ সংলগ্ন সাটুরিয়া এলাকায় মোটর সাইকেলে শাড়ি জড়িয়ে পিছন থেকে ছিটকে রাস্তার উপর পরে যায় কানিজ ফাতেমা রুলি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত কানিজ ফাতেমা রাজধরপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ মোল্লার মেয়ে এবং গোয়ালন্দ উপজেলার পাচুরিয়া গ্রামের প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন মোল্লার স্ত্রী। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদস্য মো: শাহজাহান মোল্লার ছোট বোন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি রিফাত ও সিফাত নামে দুই সন্তানকে রেখে গেছেন।


রংপুরে ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়ার
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর (বেরোবি)-এ যথাযথ মর্যাদায় দেশের বিশিষ্ট পরমাণু
বিস্তারিত
মাদক ব্যবসায়ীদের এদেশে প্রয়োজন নেই:
র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, মাদক ব্যবসায়ীদের আমাদের দেশে প্রয়োজন
বিস্তারিত
জনগণের ট্যাক্সে বেতন নেব সেবা
সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক
বিস্তারিত
বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে শিক্ষকদের
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে আজ শনিবার দুপুরে ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদ হলরুমে শাইয়ান
বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জে মাদকমুক্ত ঘোষণার অংশ হিসেবে
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘কামারখন্দ উপজেলাকে মাদকমুক্ত ঘোষণার অংশ
বিস্তারিত
বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে রংপুরে
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় হতে যাচ্ছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এর প্রাথমিক
বিস্তারিত