আলেম বিদ্বেষের ভয়াবহ পরিণাম

উম্মাহর ক্রান্তিলগ্নে ঝড়ের রাতে মাঝ নদীতে একজন দক্ষ নাবিকের ভূমিকা পালনকারী কা-ারি হলেন বিজ্ঞ আলেম-ওলামা। একজন আলেমকে সেভাবে ভক্তি ও সম্মান করা উচিত, যেভাবে একজন নবীকে করা হয়। কোনোভাবেই একজন আলেমকে অতিসাধারণ ও ঠুনকো বিষয়ে গালাগাল করা, অসম্মান করা, অবজ্ঞা কিংবা হেয় প্রতিপন্ন করা অথবা তার সঙ্গে বিদ্রুপাত্মক আচরণ করা কোনোভাবেই বৈধ নয়। এটি বরং কবিরা গোনাহ। অতএব যারা আলেম বিদ্বেষী এবং নানাভাবে আলেমদের কষ্ট দেন, তারা আল্লাহকে ভয় করুন। আলেম বিদ্বেষের পরিণাম কী নিম্নের উদ্ধৃতিগুলো দেখুনÑ 

পূর্ণ ঈমানদার হলেও ফাসেক হিসেবে গণ্য হবে  
আলেমকে কষ্ট প্রদানকারী সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদাররা, কেউ যেন অন্যকে উপহাস না করে; কেননা সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে। এমনকি কোনো নারী অন্য নারীকে যেন উপহাস না করে; কেননা সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ ঈমান আনার পর মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। যারা এহেন কাজ হতে তওবা না করে, তারাই জালেম।’ (সূরা হুজরাত : ১১)।
আলেমদের গালমন্দকারী পৃথিবীর নিকৃষ্ট সৃষ্টি 
রাসুল (সা.) বলেন, ‘সর্বোকৃষ্ট বান্দা সে যাকে দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়, আর নিকৃষ্ট সৃষ্টি সে যে চোগলখোর, বন্ধুমহলে ফাটল সৃষ্টিকারী এবং কালিমামুক্তদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপরায়ণ।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৬/৪৫৯)। কালিমামুক্ত অর্থাৎ ভদ্র, সম্ভ্রান্ত, শালীন এবং অহেতুক কাজ থেকে মুক্তদের বিরুদ্ধে মন্দ দোষ খুঁজে বেড়ায় এবং অপপ্রচার করে।
আলেমদের সঙ্গে দুশমনি আল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণার নামান্তর
যে আলেমের সঙ্গে দুশমনি করে সে আল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ লিপ্ত হয়। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, ‘যে আমার ওলির সঙ্গে বিদ্বেষ পোষণ করল; পরিণামে আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিলাম।’ (বোখারি)। ইমাম আহমদ (রহ.) বলেন, ‘আলেমদের গোস্ত বিষতুল্য, যে তার গন্ধ নিল সে রোগাক্রান্ত হলো। আর যে তা খেল, সে তো মৃত্যুবরণ করল।’ (আল-মুঈদ : ৭১)।
আলেমকে বিদ্রুপে অন্তর মরে যায়
হাফেজ ইবনে আসাকির (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আলেমের প্রতি বিদ্রুপাত্মক শব্দ ব্যবহার করে মৃত্যুর আগে তার অন্তর মরে যাবে।’ আল্লাহর এরশাদ, ‘অতএব যারা তার আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদের গ্রাস করবে।’ (সূরা নূর : ৬৩)।
মুখাল্লাদ (রহ.) এর সূত্রে বর্ণিত, একদা আমি হাসান বিন যাকওয়ান (রহ.) এর কাছে কোনো একজনের ব্যাপারে কিছু কটু কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘থাম! কোনো আলেমকে এভাবে উল্লেখ করো না; পরিণামে আল্লাহ তায়ালা তোমার অন্তরকে মৃত করে দেবেন।’
আলেমের দুর্নামকারী মহাক্ষতির সম্মুখীন
যে আলেমদের তার দ্বীনের কারণে ও শরিয়তের কোনো আহকাম বলার কারণে গালি দেয় সে মহা ক্ষতির মাঝে নিমজ্জিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর যদি তুমি তাদের জিজ্ঞেস করো, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সঙ্গে, তাঁর হুকুমের সঙ্গে এবং তার রাসুলের সঙ্গে ঠাট্টা করছিলে? ছলনা করো না, তোমরা যে ঈমান আনার পর কাফের হয়ে গেছ। তোমাদের মধ্যে কোনো কোনো লোককে যদি আমি ক্ষমা করে দেইও, তবে অবশ্য কিছু লোককে আজাব দেব; কারণ তারা ছিল গোনাহগার।’ (সূরা তওবা : ৬৫-৬৬)।
মন্দ পরিসমাপ্তির আশঙ্কা দেখা দেয় 
অষ্টম শতাব্দীর শাফেয়ি মাজহাবের ফকিহ কাজী মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ আয-যুবাইদী (রহ.)। শিক্ষাদান, ফতোয়া প্রদান, ইয়েমেনে তার ছাত্র সংখ্যার আধিক্যতায় বেশ প্রসিদ্ধ ছিলেন। আল-জামাল মিসরী বলেন, তিনি স্বচক্ষে দেখেছেন, মৃত্যুর সময় তার জিহ্বা ঝুলে গিয়েছিল এবং কালো হয়ে গিয়েছিল। তারা ধরে নিয়েছেন যে, এটি মূলত ইমাম নববি (রহ.) এর ব্যাপারে জবান ব্যবহারের কারণেই। (দুরারুল কামেনা : ৪/১০৬)।
আলেমদের সমালোচনায় নিজের ক্ষতি
আলেমদের সমালোচনার একটি ক্ষতি হলো, তাদের ইলম থেকে সে কোনো উপকার হাসিল করতে পারে না। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা মোরগকে গালি দিও না; কেননা সে প্রত্যুষে মানুষকে নামাজের জন্য জাগিয়ে তোলে।’ (আবু দাউদ : ৫১০১)। একটি সাধারণ মোরগের ব্যাপারে যখন অবস্থা এই, তখন আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী এসব নবীর উত্তরাধিকার আলেমদের ব্যাপার তো আরও অধিকতর গুরুত্বের দাবি রাখে। আল্লাহর এরশাদ, ‘তার কথার চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করে, নিজেও সৎকর্ম করে এবং এও বলে যে, নিশ্চয়ই আমি একজন মুসলমানের অন্তর্ভুক্ত।’ (সূরা ফুসসিলাত : ৩৩)।
আলেমদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা কবিরা গোনাহ 
আলেমদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা কবিরা গোনাহের শামিল। ইমাম আহমদ বিন আযরাঈ (রহ.) বলেন, ‘আলেমদের ব্যাপারে কুৎসা রটনা কবিরা গোনাহের শামিল।’ (আর-রাদ্দুল ওয়াফের : ১৯৭)। 
আলেমদের হেয় প্রতিপন্নকারী ব্যক্তি তার আখেরাত নষ্ট করল 
আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আলেমদের হেয় প্রতিপন্ন করল, তার আখেরাত নষ্ট হয়ে গেল।’ (সিয়ারু আলামিন-নুবালা : ৪/ ৪০৮)। 


আবদুল ফাত্তাহ সিসি এবং মিশর
৬ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে প্রকাশিত প্রভাবশালী আরবি-ইংরেজি সংবাদমাধ্যম নিউ-অ্যারাবে প্রকাশিত
বিস্তারিত
ইসলামে জবাবদিহিতা
জবাবদিহিতা ইসলামের একটি অন্যতম মৌলিক বিষয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী তিনিই তো আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক; তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ
বিস্তারিত
ভালো নাম মন্দ নাম
নাম একজন ব্যক্তির পরিচয় বহন করে। চাই সে পুরুষ হোক
বিস্তারিত
র‌্যাগিং : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিকৃষ্ট
মফস্বল থেকে ছেলেটি এসেছে। চোখমুখ ভরা তার মায়া। জড়তা এখনও
বিস্তারিত
উপার্জনের কিছু অংশ সঞ্চয় করুন
কাজেই আজকের দিনের জীবনমানের বিবেচনায় উপার্জন ও সঞ্চয় করা দোষণীয়
বিস্তারিত