ষষ্ঠ বারের মতো মনোনয়ন প্রত্যাশী বদিউজ্জামান বাদশা

শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে সেই ১৯৯১ সাল থেকে মনোনয়ন চাওয়া শুরু করে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, সর্বশেষ ২০১৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বার নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন চেয়ে আসলেও, বিভিন্ন কারণে তথা দলের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকগণ কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশাকে মনোনয়ন দেননি।

দলের নীতিনির্ধারকগণের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধারেখে বাদশাসহ তার অনুসারীরা দলের মনোনিত প্রার্থীর নিবেদিত হয়ে নির্বাচন করে গেছেন। যদিও তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপামর জনগণের চাহিদা পূরণে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু ভবিষ্যত চিন্তায় তার শুভাকাঙ্খীদের অনুরোধে সকাল ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ান বদিউজ্জামান বাদশা।

আশার বিষয় হলো- নির্বাচনের দিন মাত্র দুই ঘণ্টা নির্বাচনী মাঠে থাকায় তিনি যে পরিমাণ ভোট পেয়ে ছিলেন, দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন দলের অনেক প্রার্থীরা সারাদিনেও এতগুলো ভোট পাননি।

জনগণের এই ভালোবাসাকে সম্মান দিতে, নকলা নালিতাবাড়ীর আওয়ামী প্রেমী মানুষদের মুখ উজ্জল করতে তথা তাদের আশা পূরণে এবং নকলা-নালিতাবাড়ীর সার্বিক উন্নয়নের প্রত্যয়ে, অতীতের সবকিছু মেনে নিয়ে দলীয় কাজে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে আত্মনিয়োগ করে আছেন।

দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সরব থেকে রীতিমত গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হতে তথা নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ্ব কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা। তিনি ও তার সমর্থকবৃন্দ নকলা ও নালিতাবাড়ীর প্রতিটি পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন।

নির্বাচনী এলাকার গ্রামগঞ্জে বদিউজ্জামান বাদশার পক্ষে নিয়মিত পথসভা, মিটিং-মিছিল করছেন সর্মথকবৃন্দ। এ যেন নির্বাচনের পূর্ণ মৌসুমের মতো অবস্থা! দলীয় নেতাকর্মী ও বাদশার সর্মথকদের অবিরাম পরিশ্রম ও লড়াকু রাজনৈতিক মনোভাবে বুঝা যায় যেন নির্বাচনের পূর্বে আরেক নির্বাচন চলছে।

আগেভাগেই এমন ব্যস্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে অনেকেই বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর কন্যা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন জরিপে জনসমর্থনের ভিত্তিতে তথা জনমত বিবেচনায় সার্বিক মাঠ জরিপ শেষে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের জন্য প্রার্থী মনোনিত করবেন। আর সে কারণেই বদিউজ্জামান বাদশার সমর্থকরা স্বপ্রণোদিত হয়ে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকগণকে তাদের চাওয়া সম্পর্কে জানান দিতে জনগণের কাছে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার পাশাপাশি বাদশার পক্ষে দোয়া, সমর্থন ও নৌকা প্রতীকে ভোট কামনার জন্য নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় পথসভা ও মিটিং-মিছিল করছেন।

এ বিষয়ে আলহাজ্ব কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা বিভিন্ন পথ সভায় ভোটারদের জানান যে, বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মহোদয় একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি কখনও জনমতের বাহিরে তথা জনবিচ্ছিন্ন কাউকে অন্ততপক্ষে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন দিবেন না। তিনি আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আল্লাহর রহমতে ও সবার দোয়ার বরকতে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পাবেন বলে বিভিন্ন পথসভায় উপস্থিতিদের আশস্থ করতে শুনা গেছে।  

বিভিন্ন তথ্যে, নকলা-নালিতাবাড়ী তথা শেরপুর জেলাসহ সমগ্র বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষকরে ছাত্র রাজনীতি ও কৃষক লীগে বদিউজ্জামান বাদশা একটি আলোচিত নাম। মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সড়াদিয়ে অনেকেই জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেন।

যুদ্ধ-বিদ্ধস্থ এই দেশকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাড় করাতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী শেখ মুজিবুর রহমান বিভিন্ন সংগঠন তৈরি করেন। তার মধ্যে ছাত্রলীগ ছিল অন্যতম। ছোট শিক্ষার্থী থাকায় মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে না পারলেও, যুদ্ধ-বিদ্ধস্থ দেশকে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করার মনোভাব নিয়ে বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগে যোগদেন তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৭ সালে নালিতাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনের মধ্যদিয়ে বদিউজ্জামান বাদশা’র রাজপথের লড়াকু রাজনীতি শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তখনকার সময়ে তথা '৯০-এর দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিষদ বর্গের নির্দেশে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচি পালনের জন্য বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলসহ সারাদেশ চষে বেড়াতে হয়েছে তার।

এরপর যথাক্রমে বাংলাদেশ কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

সেই থেকে দলকে শক্তিশালী করার জন্য অবিরাম পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি ও তার অনুসারীরা। জনগণের চাহিদা পূরণে তিনি ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত নালিতাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্বও তাকে পালন করতে হয়েছে।

বর্তমানে তিনি কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। উল্লেখ্য যে, বদিউজ্জামান বাদশা একবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী হয়েছিলেন। আর তার প্রস্তাবকারী ছিলেন তৎকালীন মেধাবী ছাত্রনেতা বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।

কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই নন, তিনি একাধারে একজন দক্ষ সংগঠক ও শিক্ষানুরাগীও বটে। তিনি এলাকার শিক্ষানুরাগীদের সাথে নিয়ে নিজ উদ্যোগে ইতোমধ্যে দুটি কলেজ, একটি ডায়াবেটিক হাসপাতাল, ৩৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন।

ওইসব প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করে দেশের মোট শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। তাছাড়া শত শত কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে তার গড়া ওইসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।


অবশেষে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেন এমপি
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে
বিস্তারিত
কিশোরগঞ্জে ১৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার
কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ রোববার
বিস্তারিত
ফেনীতে বিএনপির তিন শতাধিক নেতাকর্মী
ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়াতে বিএনপির তিন শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে
বিস্তারিত
চুয়াডাঙ্গা জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এনামুল,
ঢাকায় কর্মরত চুয়াডাঙ্গার সাংবাদিকদের একটি সংগঠনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।
বিস্তারিত
নাটোরে মাদকবিরোধী সমাবশে অনুষ্ঠিত
‘জীবনকে ভালবাসুন, মাদক থেকে দুরে থাকুন’ এই শ্লোগান নিয়ে ইমাম,
বিস্তারিত
নকলা হানাদার মুক্ত দিবস পালিত
আজ (৯ ডিসেম্বর) শেরপুরের নকলা উপজেলা মুক্ত দিবস। এ উপলক্ষে
বিস্তারিত