এমপি রনজিতের বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুর্নীতির অভিযোগ

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য রনজিৎ রায় কুমার রায়ের বিরুদ্ধে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। 

রবিবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির ক্রাইম রিপোর্টাস এসোসিয়েশনে উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দহাখোলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোতালেব তরফদার। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০০৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকে তিনি টাকার নেশায় মগ্ন হয়ে পড়েন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের পোড় খাওয়া নেতা এবং মুরুব্বীরা তার থেকে সরে দাঁড়ায়। এছাড়াও দলীয় কমিটি এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অন্তত দেড় কোটি টাকার বিনিময়ে অযোগ্য অদক্ষ লোক বসিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়,  ২০০৪ সালে বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হবার পর থেকেই নিজেস্ব লোক দিয়ে পকেট কমিটি বানিয়ে রেখে আজ পর্যন্ত কোন বর্ধিত সভা করারও প্রয়োজন মনে করেন নি। কেন্দ্রের নির্দেশ উপেক্ষা করে দলের কর্মকান্ডকে গতিশীল করতে বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন না করার জন্য যা যা করার তাই করেছেন। তার মতের বিরুদ্ধে গেলেই তাকে হামলা-মামলা দিয়ে নির্যাতিত করার অনেক প্রমাণ মিলবে আমাদের নির্বাচনী এলাকায়। অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোল্যা ওলিয়ারের হত্যার পেছনে তার মদদ আছে মর্মে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, টাকার বিনিময়ে জামাত বিএনপির দলীয় লোক নিয়োগ দেয়া তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। যেখানে উপজেলা সদরের সবচেয়ে প্রাচীন প্রতিষ্ঠান বাঘারপাড়া ডিগ্রী কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ হিসেবে ২২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছেন উপজেলা জামায়াতের রোকন আব্দুল মতিনকে। হাবুল্ল্যা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আজিজুর রহমানকে। রায়পুর কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক কামরুজ্জামানকে। ধলগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মাহফুজুর রহমানকে। আগড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছেন বিএনপি নেতা হুমায়ন কবিরকে। ছাতিয়ানতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছেন ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি শহীদুলকে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, অভয়নগর উপজেলা জামাতের আমীর মাও. আ. আজিজের কন্যা মহাছিনা খাতুনকে ২২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বাঘারপাড়া উপজেলা খাজুরা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়া আমীরের আপন ভাই আ. হকের কন্যা নাঈমা আক্তার কে চেঙ্গুটিয়া বি সি সি মুজাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক হিসাবে ১৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ-প্রহরীর নিয়োগে দুই উপজেলা থেকে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন করেছেন। আওয়ামী লীগের কর্মী হয়েও সাত-আট লাখ টাকা দিয়ে এই চাকুরী নিতে হয়েছে। এমন শত শত নাম আপনাদেরকে বলতে পারব যে সকল নিয়োগের পিছনে আছে মোটা অংকের টাকার লেনদেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ করা হয়, রণজিৎ কুমার রায় ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান তখন তিনি নির্বাচনী হলফনামায় স্থাবর ও আস্থাবর সম্পদের বিবরণ প্রদান করেন। তখন সেই বিবরণে পৈত্রিক ৪ বিঘা কৃষি জমি, ৪ শতক জমির উপর তেলিধান পূজা মৌজায় একটি টিনের ঘর, ছেলে ও স্ত্রী নামে ব্যাংক ব্যালেন্স ও জমি নাই। এখন ১০ বৎসর তিনি এমপি নির্বাচিত হয়ে কিভাবে আকাশ ছোয়া সম্পদের মালিক হলেন।

অভিযোগে বলা হয়, সংসদ সদস্যের নামে যশোর রেলরোডে ৫তলা ও ৩তলা বিশিষ্ট একটি করে বাড়ি, যশোর লোহাপট্টিতে ১টি, যশোর নিউ মার্কেটে ২ টি, বাঘারপাড়া উপজেলাতে ২য় তলা ১টি, খাজুরা বাজারে ৪ তলা ১টি, ঢাকায় মিরপুর দারুস সালাম রোডে ২টি বাড়ি, ছেলেদের নামে ভারতের সল্ট লেকে ও বারাসাতে ২ টি বাড়ি, বাঘারপাড়া ও চৌগাছার উপজেলায় ২২৫ একর জমি ক্রয় করেছেন। তাছাড়া খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ৫০ একর জমির উপর মৎস্য ঘের ক্রয় করেছেন। নিজে পাজেরো গাড়িতে চড়েন মূল্য ১ কোটি টাকা, দুই ছেলে ২ টা গাড়ির মূল্য ৬০ লক্ষ টাকা, স্ত্রী ১ টি গাড়িতে চড়েন মূল্য ৩০ লক্ষ টাকা, স্ত্রীর নামে ট্রাক-কাভারভ্যান ১০টি আছে যার মূল্য ৫ কোটি টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে যশোর জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য আজগর আলী, বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি  আ. রউফ মোল্যা, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আতিয়ার রহমান সরদার, সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী, ১নং ইউনিয়নের চেয়রম্যান দিল পাটুয়ারী, বাসুয়ারি ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরদার, জামদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম টুটুল, বন্দোবিলা ইউপি চেয়ারম্যান সবদুল হোসেন খান, বাঘারপাড়া যুবলীগের সাবেক নেতা  মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, সাইফুজ্জামান ভোলা, মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল আজিজ, বাবলু কুমার সাহা, ইমদাদ হোসেন, বাঘারপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বায়োজিদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক বিএম শাহাজালালা, দরাজ হাটের জালালা উদ্দীন, বাঘারপাড়া ছাত্রলীগের সাবেক নেতা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


‘ডাক্তার বাড়ী’র মোড়ক উন্মোচন করলেন
স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রকাশনা ‘ডাক্তার বাড়ী’র মোড়ক উন্মোচন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.
বিস্তারিত
ঢাবির মাস্টার্স অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স বিভাগ পরিচালিত
বিস্তারিত
এক লাখ ইয়াবাসহ ৪ মাদক
কক্সবাজারের গভীর বঙ্গোপসাগরে অভিযান চালিয়ে এক লাখ ইয়াবাসহ চার মাদক
বিস্তারিত
চকরিয়ায় মহাসড়কে দীর্ঘ মানববন্ধন
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বিভিন্ন বিলাসবহুল বাসে চকরিয়াসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার যাত্রীদের জন্য
বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ইউপি
সিরাজগঞ্জে পৃথক ২টি সড়ক দুর্ঘটনায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ তিনজন নিহত
বিস্তারিত
নাটোরে যুবলীগ নেতা হাসান হত্যার
যুবলীগ নেতা হাসান আলী হত্যার ঘটনায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে
বিস্তারিত