নবীজির পোশাক কেমন ছিল

প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর কথাই কি শুধু তাঁর উম্মতের জন্য অনুসরণীয়? অনেকে সেটাই মনে করেন। অথচ মুসলিম জাতির জন্য নবীজির কথাবার্তা, চালচলন, উঠাবসা, খাওয়াদাওয়া, ঘুম-নিদ্রা, অজু-ইসতেনজা, হাসি-কান্না, পোশাক-পরিচ্ছেদ ইত্যাদি সবই অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়। এজন্য মহানবী (সা.) বলেন, ‘কোনো সামান্যতম বা ছোট নেকের কাজকেও ছোট মনে করবে না। যদিও তা তোমার (মুসলমান) ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাতের ব্যাপারটিই হোক না কেন?’ নবীজি এ কথাও বলেছেন, ‘একটি সুন্দর কথা একটি সদকার সমতুল্য।’ (মুসলিম : ২৬২৬; তিরমিজি : ১৮৩৩)।
সুতরাং হাসিমুখে কথা বলাও নেকির কাজ। তাই নবীজি (সা.)-কে অনুসরণ করতে হবে সবক্ষেত্রে। শুধু নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত-ই কোরআন-হাদিস মোতাবেক হবে আর অন্য সব কিছু নিজের ইচ্ছেমতো; ইসলাম এমনটা কখনোই সমর্থন করে না। মুসলমানের মৌলিক একটি সৌন্দর্য হলো লেবাস-পোশাক। এজন্য মহান প্রভু বলেন, ‘হে বনি আদম! আমি তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি; যা তোমাদের সতর ঢেকে রাখে এবং সৌন্দর্যেরও উপকরণ।’ (সূরা আরাফ : ২৬)। নবীজি (সা.) এমন পোশাক পরিধান করতেন যা একদিকে সতর ঢাকা হতো, অন্যদিকে সম্মান-মর্যাদা ও পোশাকে বাদশাহী সৌন্দর্য ফুটে উঠত।
নবীজির পাগড়ি ব্যবহার
হজরত জাবের (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) মক্কা বিজয়ের দিন মক্কায় প্রবেশকালে তাঁর মাথা মোবারকে কালো পাগড়ি শোভা পাচ্ছিল। অন্য বর্ণনায় আছে, ‘নবী করিম (সা.) মানুষের উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন তাঁর মাথায় ছিল কালো পাগড়ি।’ (মুসলিম : ১/৪৩৯; ইবনে মাজা : ২৮২২)।
নবীজির টুপি ব্যবহার
হজরত আবদুুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) সর্বদা সাদা টুপি পরিধান করতেন। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ৮৫০৫)। সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান যুগ পর্যন্ত সব নেককাররা, আল্লাহর পথের পথিকদের পোশাক; যা মাথা সুরক্ষা করে এবং পাগড়িকে সুদৃঢ় করে। এ টুপি সুন্নতি  লেবাসের অন্তর্ভুক্ত। (ফয়জুল কাদির : ৫/৭১৬৮)।
নবীজির জামা পরিধান
নবীজি (সা.) এর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় পোশাক ছিল ‘কামিস’ বা লম্বা জামা। (তিরমিজি : ১৭৬২)। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘নবীজি (সা.) জামা পরিধান করতেন। সেটি টাখনুর উপর পর্যন্ত প্রলম্বিত ছিল। (মুস্তাদরাকে হাকেম : ৭৪২০)। অন্য বর্ণনায় আছে, নবীজির জামা লম্বা ছিল পায়ের গোছার অর্ধেক অথবা টাখনুর উপর পর্যন্ত। জামার হাতা ছিল কব্জি অথবা আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত। (শুআবুল ঈমান, বায়হাকি : ৫/১৫৪-১৫৫; মীরকাতুল মাফাতিহ : ৮/২৪৫; ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ২৭/৪০৮; বাজলুল মাজহুদ : ১৬/৪০৭)।
নবীজির লুঙ্গি ও পায়জামা পরিধান
নবীজি (সা.) বেশি লুঙ্গি পরেছেন এবং তিনি পায়জামাও কিনেছেন ও পরেছেন। একথাও বলেছেন যে, পায়জামা সতর ঢাকার বেশি উপযোগী। সাহাবায়ে কেরামও কিনেছেন ও পরেছেন। (আহমাদ : ৫/২৬৪; যাদুল মাআদ : ১/৩৯; তাবরানি, মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ৫/১২১)।
নবীজির চাদর ব্যবহার
হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কাপড় হলো (ইয়ামেনে তৈরি চাদর) হিবারা। হজরত জুহাইফা (রা.) বলেন, ‘আমি নবীজি (সা.) কে লাল নকশী চাদর পরা অবস্থায় দেখেছি। আজও যেন আমি তার উভয় গোড়ালির ঔজ্জ্ব¦ল্য প্রত্যক্ষ করছি।’ (বোখারি : ৫৮১৩; মুসলিম : ১১৪৭)।
নবীজি সাদা পোশাক বেশি পছন্দ করতেন
হজরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করো। কারণ, তা সর্বাধিক পবিত্র ও উত্তম। আর তা দিয়েই তোমরা মৃতদের কাফন দাও। (মুজামুল কাবির : ৯৬৪; নাসায়ি : ৫৩২৩; ইবনে মাজাহ : ১৪৭২)।
আধুনিক যুগে নতুন কিছু পোশাকের প্রচলন শুরু হয়েছে। যথাÑ প্যান্ট, শার্ট, টাই, ধুতি, পাঞ্জাবি; যার কিছু পোশাক শরীরের সঙ্গে লেপ্টে থাকে, এতে শরীরের আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি স্পষ্ট বোঝা যায়। এগুলো শরিয়ত ও তাকওয়ার খেলাফ। আবার কিছু পোশাক বিজাতীয়-বিধর্মীদের কৃষ্টিকালচারের সঙ্গে মিলে যায়; যা সম্পূর্ণ নাজায়েজ। এ প্রসঙ্গে চূড়ান্ত কথা হলো, প্রত্যেক যুগের মুত্তাকি  ও পরহেজগার লোকেরা যে ধরনের পোশাক পরিধান করেন বা পছন্দ করেন সেটিই সুন্নতি পোশাক বলে গণ্য হবে। 


যুদ্ধাহত শিশুদের কথা
৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে ‘নিউ এরাব’ আরব বিশ্বের
বিস্তারিত
সুদানে গ্রামীণ ছাত্রদের শহুরে জীবন
যেসব সুদানি ছাত্র পড়াশোনা করতে গ্রাম থেকে শহরে এসেছে তারা
বিস্তারিত
গ্রামের সবাই হিন্দু নেতা বানাল
ঘটনাটি ঘটেছে কাশ্মীরে। যেখানে সুদীর্ঘকাল ধরে চলছে স্বাধীনতা সংগ্রাম। বুরহানুদ্দিন
বিস্তারিত
আবদুল ফাত্তাহ সিসি এবং মিশর
৬ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে প্রকাশিত প্রভাবশালী আরবি-ইংরেজি সংবাদমাধ্যম নিউ-অ্যারাবে প্রকাশিত
বিস্তারিত
ইসলামে জবাবদিহিতা
জবাবদিহিতা ইসলামের একটি অন্যতম মৌলিক বিষয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী তিনিই তো আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক; তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ
বিস্তারিত