পিতামাতার প্রতি করণীয়

সমগ্র বিশ্বের স্রষ্টা আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন স্বীয় ‘রহমত’ গুণটির ছায়া-প্রভাব পিতা-মাতার অন্তরে এমনভাবে ঢেলে দিয়েছেন যে, তাদের সন্তানদের প্রতি মহব্বত, ¯েœহ, প্রেম-ভালবাসা, দয়া-মায়া স্বভাবজাত গুণে পরিণত হয়ে গেছে। সেই দয়া-মায়ার নিদর্শন পশু-পাখি, জীব-জন্তুদের মাঝেও দৃষ্টিগোচর হয়। চড়ইপাখি একটি ছোট্ট প্রাণী। কিন্তু সেও নিজের জন্য ও তার বাচ্চার জন্য বাসা তৈরি করে থাকে। দানা-পানি, আহার যোগাড় করে থাকে। নিজ ঠোঁটে পানি ভর্তি করে নিয়ে আসে এবং বাচ্চাদের পান করায়। মোরগের প্রতি লক্ষ করে দেখুন! একটি কত দূর্বল প্রাণী, কিন্তু নিজ বাচ্চাদের রক্ষার্থে বিড়ালের সঙ্গেও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। আর মানুষ তো অবশ্যই সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি। বুদ্ধি-বিবেকের জ্যোতি দ্বারা জ্যোতিস্মান। তার তো সন্তানের প্রতি আকর্ষণ, ¯েœহ, দয়া-মায়া হওয়া একটি আল্লাহপ্রদত্ত ও বুঝে আসার মতো ব্যাপার। এই মহব্বতের কারণেই পিতা-মাতা নিজের সব কিছুই সন্তানদের জন্য উৎসর্গ করতে প্রস্তুত হয়ে যায়। একটু চিন্তা করলে এ বিষয়টি একবারে স্পষ্ট হয়ে যায যে, যেখানে পিতা-মাতা নিজ সন্তানের লালন-পালনের ক্ষেত্রে কোনো রকম ত্রুটি করেন না সেখানে সন্তানের জন্যও জরুরী যে, মাতা-পিতার পরিপূর্ণ আদব-সম্মান রক্ষা করা এবং তাঁদের সেবা-যতœ ও আনুগত্যে কোনো রকম ত্রুটি না করা। সবগুলো আসমানি কিতাবে এ বাস্তবতা অত্যন্ত ভালোরকম স্পষ্ট করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ তার কয়েকটি নি¤œরূপÑ
আল্লাহর নির্দেশ তাওরাতে
তাওরাত কিতাবে বান্দার হকের আলোচনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে, ‘তুমি স্বীয় পিতা-মাতাকে সম্মান প্রদর্শন করো, তা হলে এ জগতে তোমার যে-বয়স তোমার প্রভু দিয়ে থাকেন, তা তিনি বৃদ্ধি করে দেবেন।’ আরেক স্থানে তিনি বলেন, ‘তোমাদের সকলেই যেন পিতা-মাতাকে ভয় করে চলে।’ (আহবার : ৩-১৮)। অন্যত্র তিনি ইরশাদ করেন, ‘আর যে-কেউ তার পিতা ও মাতাকে অভিশাপ-গাল-মন্দ করবে তাকে হত্যা করা হবে। যে নিজ পিতাকে বা নিজ মাতাকে অভিশাপ দিলো, সে-জন্য তার রক্ত সে নিজেই বৈধ করে ফেললো।’
আল্লাহর নির্দেশ ইনজিলে
ইনজিলের ‘মথি’ অংশে রয়েছেÑ হজরত ঈসা (আ.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, নিজ মাতা-পিতাকে সম্মান করো। যে মাতা-পিতাকে গাল-মন্দ-অভিশাপ দেয়, অসম্মান করে, তাকে হত্যা করা হবে। কিন্তু তোমরা নিজ বাবা-মাকে এমনটি বলে থাকো যে, আমার যা কিছু তোমাদের দেওয়া ওয়াজিব, তা আল্লাহর নামে দেওয়া হয়ে গেছে। আর কেউ যদি নিজ পিতা-মাতাকে সম্মান না করে, সে যেন আল্লাহর নির্দেশকে প্রত্যাখ্যান করলো।’ (সূত্র : বা-আদব বা নসিব, পৃ. ৮২)
পূর্ববর্তী নবীগণের অবস্থা
১. ইমাম গাযালী (রহ.) স্বীয় গ্রন্থ ‘মুকাশাফাতুল কুলূব’-এ লিখেন, ‘আল্লাহ্ তাআলা হজরত মূসা (আ.) কে বলেন, ‘হে মূসা! যে পিতা-মাতার আনুগত্য করলো; কিন্তু আমার আনুগত্য করলো না। তারপরও আমি তাকে পুণ্যবানদের মধ্যে লিখে দেই। তবে যে আমার আনুগত্য করার পরও তার পিতা-মাতার প্রতি অবাধ্য থাকে, আমি তাকে না-ফরমানদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করি।’
২. একবার হজরত ইয়াকুব (আ.) তাঁর পুত্র হজরত ইউসুফ (আ.) এর গৃহে এলেন, এতে তিনি পিতার অভ্যর্থনা-সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে দাঁড়ালেন না। আল্লাহ্ তাআলা হজরত ইউসুফ (আ.)-এর প্রতি ওহী নাজিল করে জানিয়ে দিলেন, আপনি আপনার পিতার প্রতি আদব প্রদর্শনে ত্রুটি করেছেন। আমি আমার ইজ্জত ও জালালিয়াত এর কসম করে বলছি, ভবিষ্যতে আমি আপনার ঔরষে কোনো নবীর জন্ম দেব না। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, মাতা-পিতার সঙ্গে বে-আদবীর প্রভাব ভবিষ্যত বংশ-খান্দানের ওপরও পড়ে থাকে। (সীরাতুন্নবী : আল্লামা শিবলী নোমানী রহ.)
কোরআনে আল্লাহ্র নির্দেশ
 আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আপনার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন, তিনি ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত না করতে ও পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তাদের একজন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদেরকে ‘উফ’ বলবে না এবং তাদেরকে ধমক দিবে না; তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলবে। মমতাবশে তাদের প্রতি নম্রতার পক্ষপুট অবনমিত করবে এবং বলবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া কর যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।’ (১৭ : ২৩-২৪)।
আল্লামা ইবনে কাসীর (রহ.) লিখেন, আয়াতে ‘কাযা’ শব্দের অর্থ হচ্ছে, নির্দেশদান। আল্লাহ্র তাকিদপূর্ণ নির্দেশ যা কখনো টলবে না, হেরফের চলবে না। অর্থাৎ আল্লাহ্ তাআলার ইবাদত করো এবং নিজের মাতাপিতার আনুগত্য করো। 


সিজদা করুন এবং আল্লাহর নৈকট্য
রমজান মাসে কল্যাণের পথে হে প্রতিযোগিতাকারী! সিজদা ও আনুগত্য দিয়ে
বিস্তারিত
আজকের তারাবি ১৮
আজ ১৮তম তারাবিতে সূরা আনকাবুতের ৪৫-৬৯, সূরা রুম, সূরা লোকমান,
বিস্তারিত
প্রিয়নবীর প্রিয় আমল ইতেকাফ
ইতেকাফ আরবি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ এক স্থানে বসা বা
বিস্তারিত
মাসআলা
প্রশ্ন : একবার সাহরির আগে আমার স্বপ্নদোষ হয়। কিন্তু আমি
বিস্তারিত
আমল
রমজান মাস ছাড়াও সালাতুত তাহাজ্জুদ পড়ার মধ্যে বিরাট সওয়াব এবং
বিস্তারিত
পাথেয়
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আ’উযুবিকা মিনাল জুবনি ওয়া আ’উযুবিকা মিনাল
বিস্তারিত