সৌদির জাতীয় দিবসে মক্কা-মদিনার পরিষদ প্রধানের বাণী

সৌদি আরবের ৮৮তম  জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বাণী উচ্চারণ করেছেন মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববি পরিচালনা পরিষদের সম্মানিত প্রেসিডেন্ট শায়খ আবদুর রহমান সুদাইস। বাণীতে তিনি বলেন, আজ আমরা যে ঐক্য, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি, অগ্রগামিতা ও উন্নতি উপভোগ করছি, নিঃসন্দেহে এসব আল্লাহ তায়ালার পরম অনুগ্রহ। তাছাড়া এ দেশে আল্লাহ তায়ালা তাওহিদ ও একতার মতো মহান নেয়ামত দান করেছেন। দেশের জনগণ ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের অন্তরে তিনি সেসব স্বপ্নবুননের তৌফিক দান করেছেন।
আল্লাহ তায়ালা এ দেশকে রাষ্ট্রের কর্ণধার বাদশাহ আবদুুল আজিজ (রহ.) মাধ্যমে বিচ্ছিন্নতার পর একত্ববাদের এবং বিভেদ সৃষ্টির পর জামাতবদ্ধ করেছেন। ফলে  দেশ ও দেশের জনগণ একে একে কল্যাণ, বরকত ও রাষ্ট্রীয় সমৃদ্ধি উপভোগ করতে পারছে।
দেশটির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম বাদশা আবদুল আজিজ (রহ.) কালেমার একত্ববাদে এক অনন্য উপমা স্থাপন করেছেন। দেশের ব্যক্তি পর্যায় থেকে নিয়ে নানা দল ও বিভিন্ন গোত্রের মাঝে তিনি শান্তি স্থাপন করেন। সবাইকে একতাবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি তার কর্মনীতি স্পষ্ট করেছেন। তার বাণীকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার প্রয়াস রেখে তিনি বলেন, ‘আমি একজন মুসলিম। কালেমাকে একতাবদ্ধ করা ও সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করা আমার অভিপ্রায়। কালেমার সঠিক ও যথাযথ বাস্তবায়ন ছাড়া অন্য কিছুর ইচ্ছে নেই।’
অতঃপর তার মুখনিঃসৃত বাণী কর্মে পরিণত হয়েছে। কতই না চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি! তাই আমরা সমস্বরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি; যে কৃতজ্ঞতাকে গৌরব, ভালোবাসা, সজীব ও উজ্জ্বল অঙ্গীকার মহিমান্বিত করবে। আজ আমরা যেসব নিরাপত্তা, রাজকীয় অর্থনৈতিক উন্নতি ও অগ্রগতি দেখছি, এসবই মহান আল্লাহর অনুগ্রহ।
আল্লাহর অনুগ্রহ যে, তিনি এ দেশের জন্য এমন কিছু নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি দান করেছেন, যারা ইসলামের সুদৃঢ় নীতি চালু করেছেন, যা সংগতিপূর্ণ, সামঞ্জস্যশীল, পরস্পর সমর্থন যোগ্য ও আঁকড়ে ধরার মতো। আর এসব নেতৃত্বের সবাই একটি সুদৃঢ় পথে বিচরণ করেছেন। এটি এমন দৃঢ় যে, সে নীতি থেকে স্থান পরিবর্তন করতে চাইবে না। বর্তমান তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি একটি অনুপম শিক্ষা যে, তারা আধুনিক যুগের প্রযুক্তিকে সফলভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি একতা ও ঐক্যের প্রশ্নে তাদের পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে। দেশের নেতাদের দৃঢ় নীতি, উদ্গত চিন্তার উন্নতি ও দেশীয় মৈত্রী বিরোধী সব বক্র, ভ্রষ্ট ও বিরোধী মত থেকে নিজেদের নিরাপদ দূরত্বে রাখবে।
তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মীয় ও জাতীয় ঐক্য’ আমাদের আলোকিত দ্বীনের আবশ্যকীয় প্রয়োজন ও নির্ভরযোগ্য মূলনীতির একটি। যেভাবে এটি শান্তি ও নিরাপত্তার ভিত্তিও। আল্লাহর এরশাদ, ‘তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ করো; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।’ (সূরা আলে ইমরান : ১০৩)। অন্যত্র এরশাদ করেন, ‘তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না।’ (সূরা শূরা : ১৩)।
এই নিমিত্তে আল্লাহর প্রশংসা জ্ঞাপন করছি যে, তিনি দেশপ্রেমকে মানবের স্বভাবগত বস্তু বানিয়েছেন। এমনকি আল্লাহ তায়ালা পরস্পরে  ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আদেশ দিয়েছেন এবং কর্মে ও স্বীকারোক্তির মাধ্যমে জামাতের রজ্জুকে আঁকড়ে ধরার সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন। আর এ তাওহিদ ও ঐক্যের মধ্য দিয়ে সৌদি আরব দ্বীনের মূলনীতির একটি সুদৃঢ় নীতি বাস্তবায়ন করেছে, সঙ্গে আল্লাহর একত্বে বিশ্বাসীদের চোখ জুড়িয়েছে। 
যার দৃষ্টান্তস্বরূপ ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘দল ও ঐক্যকে আঁকড়ে ধরা দ্বীনের মূলনীতির একটি।’ তদ্রƒপ ইবনুল কায়্যিম (রহ.) এর মুখনিঃসৃত বাণীও শিরোধার্য। তিনি বলেন, ‘জামাতবদ্ধ থাকা এটি অন্তরকে গোপন শত্রুতা ও প্রতারণামূলক কাজ থেকে পবিত্র রাখে।’
অতএব আসুন, ধর্মীয় শেকড় ও জাতীয় বন্ধনের মাঝে আমরা নিজেরা সবাই আবদ্ধ ও একতাবদ্ধ হই, যা শুধু আমাদের ধর্মীয় ঐক্যতার ভিত্তিমূলের ওপর স্থাপিত ও স্থির হবে।

হারামাইনের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট থেকে ভাষান্তর নাজমুল হুদা


আদর্শ শিক্ষকের দায়িত্ব ও মর্যাদা
শিক্ষকতা পেশা হলো পৃথিবীর সমুদয় পেশার মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট ও শ্রেষ্ঠ।
বিস্তারিত
আত্মহত্যা প্রতিরোধে ইসলাম
জাতীয় পর্যায়ে আত্মহত্যা রোধ করতে হলে অবশ্যই জাতীয় পর্যায়ে প্রত্যেকটি
বিস্তারিত
ব্রয়লার মুরগিতে সচেতনতা জরুরি
মুরগির ফার্ম এখন সারা দুনিয়ায়। এর সংখ্যা এতই বিপুল যে,
বিস্তারিত
পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখুন
স্ত্রীর কোনো কিছু অপছন্দ হলে স্বামী ধৈর্য ধরবে। একে অপরকে
বিস্তারিত
উম্মতের শ্রেষ্ঠ আমানতদার আবু উবাইদা (রা.)
রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক জাতির আমানতদার ব্যক্তি আছে। এই
বিস্তারিত
ঈমান ও আমলের পুরস্কার
মোমিনমাত্রই বিশ্বাস করে পরকালকে। পরকাল মানে পার্থিব জীবনান্তে যেখানে মানুষ
বিস্তারিত