টার্কিতে স্বপ্ন ছোঁয়া!

মোহাম্মদ ফারুক হোসেনের স্বপ্ন, অনেক লোকের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হবে তার আয়ান টার্কি ফার্ম

টাঙ্গাইলের স্বপ্নবাজ যুবক মোহাম্মদ ফারুক হোসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চডিগ্রিধারী এ যুবক একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে ভালো বেতনের চাকরি করতেন। কিন্তু চাকরি জীবনের ধরাবাঁধা ব্যস্ততার মধ্যেও স্বপ্ন দেখতেন উদ্যোক্তা হবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার সময় থেকেই স্বপ্ন দেখতেন উদ্যোক্তা হওয়ার। নানা প্রতিকূলতা বাধা হয়ে দাঁড়ায় তার উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে। পারিবারিক প্রয়োজন তাকে বাধ্য করে চাকরিতে প্রবেশ করতে। ইট-পাথরের এ শহরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসের দামি চেয়ার ও নানা সুযোগসুবিধাও তার স্বপ্নকে দমাতে পারেনি। অদম্য মনোবলের অধিকারী মোহাম্মদ ফারুক হোসেন ভাবেনÑ বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। তাই কৃষিকে ঘিরেই তার যত স্বপ্ন। তিনি মনে করেন, দেশের শিক্ষিত যুবক শ্রেণি যদি ইউরোপ-আমেরিকার মতো নানাধর্মী কৃষিবিষয়ক পেশায় আসে তাহলে বেশি ভালো ফল পাওয়া যাবে, এতে যুবকরা আত্মবিশ্বাসী হবে, সেই সঙ্গে হবে স্বাবলম্বীও! একই সঙ্গে সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানের সুযোগ, অন্যদিকে অনুকূল ব্যবসা করে দেশ হবে স্বনির্ভর। কৃষিকাজের সঙ্গে যদি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো যায়, তাহলে দেশে কৃষিবিপ্লব ঘটানো সম্ভব। অনেক ভেবে নিজেকে কৃষিবিষয়ক কোন ব্যবসার সঙ্গে জড়াবেনÑ এটাই তার সিদ্ধান্ত। যেই ভাবা, সেই কাজ। ইন্টারনেটের যুগে নানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা শুরু করলেন। খুঁজে পেলেন টার্কি বার্ডের সন্ধান। মনস্থির করলেন, তিনি একটি আধুনিক টার্কির খামার গড়ে তুলবেন। এ প্রাণী বিদেশি; কিন্তু আমাদের দেশের আবহাওয়া এ বিদেশি প্রাণীর জন্য যথেষ্ট অনুকূল। টার্কির ওজনও হয় বেশি আর উৎপাদন খরচও অনেক কম। একটি প্রাপ্ত বয়সের টার্র্কির ওজন হয় সাধারণত প্রায় ১৪ থেকে ১৫ কেজি বা তার চেয়েও অনেক বেশি। আর এ প্রাণী খাদ্য হিসেবে খায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ সবুজ ঘাস বা শাকসবজি। বাকিটা অন্যান্য দেশীয় দানাদার খাবার দিলেই হয়। সবুজ ঘাস বা শাকসবজি খায় বলে টার্র্কির রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেক বেশি। ঘাস বা শাকসবজি আমাদের দেশে বেশ সহজলভ্য। মোহাম্মদ ফারুক হোসেন জানান, প্রথমে সাভারের একটি খামার থেকে ৫০টি টার্র্কি কিনে নিজের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। ছোট পরিসরে শুরু করেন টার্র্কির খামার। এতে তার বাবা-মা অনেক সহযোগিতা করেন। পরবর্তী সময়ে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় তিনি মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতলা ইউনিয়নের কাইতলাতে একটি পরিত্যক্ত পোলট্রি মুরগির খামার ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলেন আয়ান টার্কি ফার্ম। সে এলাকার অনেক ব্রয়লার মুরগির প্রান্তিক খামারিরা মুরগি পালন করতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেই রকম এক ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক খামারির পরিত্যক্ত খামার ভাড়া নেন টার্কি পালনের জন্য। বর্তমানে তার খামারে বিভিন্ন বয়সি প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ টার্কি আছে। সেখানে কাজ করছেন বেতনভুক্ত দুজন লোক। টার্র্কির সম্মিলিত শব্দে বা কলরবে খামার থাকে মুখরিত। আশপাশের মানুষ কৌতূহল নিয়ে ভিড় জমান প্রতিদিন এ বিদেশি প্রাণী টার্কি দেখার জন্য। মোহাম্মদ ফারুক হোসেন তাদের উৎসাহ দেন, উদ্বুদ্ধ করেন কৌতূহলী সবাইকে এ লাভজনক টার্কি পালনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হতে। এরই মধ্যে তার খামার থেকে অনেকেই টার্কি কিনে ছোট ছোট খামার করেছেন। তিনি তার অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, বড় পরিসরে টার্কি খামার করতে হলে কিছু কারিগরি জ্ঞান বা হাঁস-মুরগি ও পশু পালনবিষয়ক উন্নত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। তিনি নিজেও হাঁস-মুরগি ও পশু পালনবিষয়ক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। এ বিষয়ে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় আধুনিক টার্কি বার্ডবিষয়ক প্রশিক্ষণসহ নানা সুযোগসুবিধার ব্যবস্থাকরণ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। সরকারি পশু হাসপাতালগুলোতে মানসম্পন্ন টিকার নিশ্চয়তা প্রয়োজন, সেই সঙ্গে প্রয়োজন বাজারজাতকরণে সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা। যেহেতু টার্র্কি অল্প সময়ে অনেক বড় হয়, দেশে অধিক মাংস উৎপাদনে এ বার্ড পালন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও জানান, গবেষণায় দেখা গেছেÑ টার্র্কির মাংস অন্যান্য প্রাণীর মাংসের তুলনায় অধিক পুষ্টিগুণসম্পন্ন। এর মাংসে কোলেস্টেরল ও চর্বির পরিমাণ খুবই কম। ইউরোপ-আমেরিকাসহ সব উন্নত দেশে স্বাস্থ্যসচেতনদের কাছে টার্কির মাংসের চাহিদা ব্যাপক। এছাড়া নানাবিধ উপকার আছে এর মাংসে। যেমনÑ ডায়াবেটিসের ঝুঁঁকি কমায়, হার্টের ঝুঁঁকি কমায়, ওজন কমাতে সাহায্য করে, আহত ব্যক্তির ব্যথা উপশমে সাহায্য করে, রক্তে চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, রক্তে ইনসুলিন লেবেল নিয়ন্ত্রণ রাখে। প্রোটিনের অন্যতম উৎস। খনিজ পদার্থ আয়রন, জিংক, পটাশিয়াম ও ফসফরাসের উৎস। এজন্যই পুষ্টিগুণের জন্য ইউরোপ-আমেরিকায় আমিষের শীর্ষ জোগান হিসেবে বিবেচনা করা হয় টার্কি বার্ডকে। আমাদের দেশেও সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্টপোষকতা পেলে এ টার্কি অধিক পালন করলে, দেশে আমিষের চাহিদা পূরণের সঙ্গে সঙ্গে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব। দেশের শিক্ষিত ও বেকার যুবকরা সরকারি সহযোগিতা, বাজারজাতকরণের নিশ্চয়তা ও সঠিক নির্দেশনা পেলে টার্কি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটাতে পারবে। আর সেই সঙ্গে তৈরি হবে কর্মসংস্থানের সুযোগ। মোহাম্মদ ফারুক হোসেন জানান, অধিক লাভজনক টার্কির কলরব তাকে আনন্দ দেয়। তিনি আজ আত্মতৃপ্তির পথ খুঁজে পেয়েছেন অন্তত দুজন লোকের কর্মসংস্থান করতে পেরে। মাস শেষে মুনাফা অর্জনের নিশ্চয়তা ও দুজন শ্রমিকের পরিবারের সবার মুখের হাসি এ স্বপ্নবাজ তরুণটির হৃদয়ে দারুণ নাড়া দেয়! তিনি মনে করেন, দেশীয় আবহাওয়ায় উপযোগী টার্কি সঠিক ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে তরুণ বেকার জনবলের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি এবং আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। স্বপ্নবাজ এ তরুণ স্বপ্ন দেখেন, অগণিত টার্কিতে মুখরিত থাকবে তার এ খামার। আরও অধিকসংখ্যক লোকের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হবে, তার স্বপ্নের আয়ান টার্কি ফার্ম।
আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত