লালপরী

লালপরী ঝরনার জলে নেমে এলো। তার ডানা দুটি খুলে রাখল। ঝরনার পানিতে ভিজবে বলে, বুশরার কী যে আনন্দ! সে লালপরীর কাছে জানতে চাইল, আচ্ছা লালপরী তুমি ডানা খুললে কেন? পরী বলেছে তারা না কি ডানা নিয়ে পানিতে ভিজতে পারে না

আজ বুশরা লালপরীর সঙ্গে তার দেশ নন্দনকাননে যাবে! তাই সকাল থেকেই সাজুগুজু শুরু হয়ে গেছে বুশরার। এত্তো এত্তো জামার মধ্যে বুশরা ঠিক করতে পারছে না কোনটা তাকে বেশি মানাবে। লাল, নীল, সাদা সব রংই বুশরার খুব পছন্দের। তবে কোথাও যাওয়ার সময় আম্মুই তার জামা পছন্দ করে দেয়। বুশরা ভ্রƒ কুঁচকে বসে রইল কিছুক্ষণ। আম্মুকে আশপাশে কোথাও দেখছে না সে। একটু রাগও হচ্ছে নিজের ওপর। রাগ করো না সোনা আম্মু আমার, এ জামাটা তোমাকে সুন্দর দেখাবেÑ ঘরে ঢুকে সাদার মধ্যে সোনালি রঙের সুতার কাজ করা জামাটা বুশরার সামনে মেলে ধরল আম্মু। বুশরার রাগ এতক্ষণে পানি হয়ে গেছে। বুশরা জামাটা পরে নিল। জামার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে সাদা রঙের হিল জুতো জোড়াটাও পরল। এ জুতাটা সে গত বৈশাখে বাবার সঙ্গে এ দোকান ও দোকান ঘুরে কিনেছে। বুশরা বারবার দেওয়ালে টানানো ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সময়টা দেখে নিচ্ছে। না! আর বেশি সময় নেই, লালপরীর আসার সময় হয়ে গেছে। আয়নার সামনে একঝলক নিজেকে দেখে নিল বুশরা, সবকিছুই ঠিকঠাক আছে কি না! ইস ভুলে গেছি বলে লাল টিপটা কপালে পরে নিল সে। 
সূর্য ওঠার আগেই বাড়ির পাশের বকুলতলায় বুশরাকে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছিল লালপরী। ১০ মিনিট ধরে বুশরা অপেক্ষা করছে বকুলতলায়। বুশরার আর অপেক্ষা করতে মন চাইছে না। লালপরীর তো দেরি হওয়ার কথা নয়। তাহলে কী আজ আর লালপরীর বাসায় যাওয়া হবে না? এসব কল্পনা করতে করতে হঠাৎ বুশরা একটা বাতাস অনুভব করল। কিছু বকুল ফুলও ঝরে পড়ল তার মাথার ওপর। আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেল বুশরা। লালপরী তার চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। দেরি হওয়ার জন্য লালপরী ক্ষমা চাইল বুশরার কাছে। আসার সময় নাকি এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হওয়ায় একটু দেরি হয়ে গেছে। এক্ষুণি সে লালপরীর পিঠে চড়ে আকাশে উড়বে। শিহরণে বুশরার ঠোঁট দুটো কাঁপছে। লালপরীর ডানায় চড়ে বসল বুশরা।
সাদা মেঘে ভেসে ভেসে লালপরী উড়ে চলেছে তার দেশ নন্দনকাননে। মেঘের এত কাছাকাছি আসতে পারবে এমনটি বুশরা আগে কখনও ভাবেনি। মেঘগুলো ছুঁয়ে দেখতে বুশরার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল। এ মেঘগুলো নাকি লালপরীর সুখ-দুঃখের বন্ধু! লালপরীর মন খারাপের সময় মেঘগুলো তাকে সাহসী হওয়ার গল্প শোনায়। লালপরী আরও জোরে জোরে উড়ে চলেছে। বুশরা যেন দম ধরে রাখতে পারছে না! বুশরা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে, কত কত পরীর দল মেঘের আড়ালে নেচেগেয়ে বেড়াচ্ছে। 
বুশরার চোখে-মুখে খুশির ঝিলিক, ওমা লালপরী তো এবার এক পুষ্প কাননের মধ্য দিয়ে উড়ে চলেছে। লতাগুল্ম, পলাশ, মাধবী, চম্পা, চামেলিÑ কতশত ফুল যে ফুটে আছে বুশরা তাদের নামও জানে না। তবে কিছু ফুল ছিঁড়ে নেওয়ার জন্য মনে মনে বুশরার খুব লোভ হচ্ছিল। কিন্তু লালপরী তো থামছে না! সে তো চলছে তো চলছেই! ওরে বাবা, সামনে তো অনেক বড় বড় পাহাড়, পর্বত, হিমালয় দেখা যাচ্ছে। হিমালয়ের পাদদেশে ঝরনা বয়ে চলেছে।
ঘুম পাড়ানোর সময় আম্মু কত কত হিমালয়ের গল্প শুনিয়েছে। বুশরার দিব্বি মনে পড়ছে, আম্মুর কাছে একবার পাহাড়-পর্বতের গল্প শুনে ঝরনার পানিতে গোসলের তার খুব ইচ্ছে হয়েছিল। তখন বাবা দোকান থেকে একটা ঝরনা কিনে বাথরুমে বসিয়ে দিয়েছিল। 
লালপরী ঝরনার জলে নেমে এলো। তার ডানা দুটি খুলে রাখল। ঝরনার পানিতে ভিজবে বলে, বুশরার কী যে আনন্দ! সে লালপরীর কাছে জানতে চাইল, আচ্ছা লালপরী তুমি ডানা খুললে কেন? পরী বলেছে তারা না কি ডানা নিয়ে পানিতে ভিজতে পারে না।
ঝরনার ওপার থেকে কোলাহল ভেসে এলো বুশরার কানে। তার কৌতূহল দমিয়ে রাখতে পারছে না। বুশরা সেখানে গিয়ে দেখল, পরীরা ডানা খুলে ঝরনার পানিতে ভিজছে।
বুশরার সামনে দাঁড়িয়ে আছে নীলপরী। অবিকল লালপরীর মতো  দেখতে। আমি লালপরীর ছোট বোন, বলল নীলপরী।
আমরা ঝরনার পানিতে ভিজে আনন্দ করি। 
বুশরা লালপরীকে খুঁজছে। সে নীলপরীর কাছে জানতে চাইল লালপরী কোথায়? লালপরী কোথায়? 
আম্মু বুশরার হাতে পুতুলটা দিয়ে বলল এই তো তোমার লালপরী! বাবা তোমার জন্য অপেক্ষা করছে চলো স্কুলে যাবে। কিন্তু বুশরা তখনও স্বপ্নে দেখা লালপরীর কথা ভাবছে! 


তমালের কাঁঠাল গাছ
‘বাঁশবাগানের মাথার ওপর চাঁদ উঠেছে ওই, মাগো আমার শোলক বলা
বিস্তারিত
আবরার
রক্ত তোমার আলোর প্রদীপ জ্বালায় রক্ত তোমার লাত্থি মারুক তালায়
বিস্তারিত
ব্যাঙের বুদ্ধি
চিবিদ বনে বাস করত বিরাট এক অজগর। সে বেশ লোভী,
বিস্তারিত
বোরহান মাসুদ
  গুটিবেঁধে মেঘ এলো যেই ডানপিটের হৈচৈ কাদামাটির মাঠখান আজ করছে
বিস্তারিত
রূপকথার রাজ্য ও কম্পিউটার
পরের সকালে ঙ এসে রাজ্যের সবাইকে জানাল কম্পিউটার আপাতত একটা
বিস্তারিত
তোমাদের আঁকা ছবি
ছবিটি এঁকেছে নারায়ণগঞ্জের চাইল্ড  কেয়ার স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী  গাজী
বিস্তারিত