ন তু ন প্র কা শ না

বইয়ের নাম : ভিন্ন চোখে কওমি মাদরাসা

লেখকের নাম : মুফতি কাসেম শরীফ

প্রচ্ছদ : মর্তুজা

প্রকাশক : বিশ্বসাহিত্য ভবন

প্রকাশকাল :  ফেব্রুয়ারি ২০১৯

মূল্য : ৪০০

পৃষ্ঠা : ২২৪

যোগাযোগ : ০১৮১৯২১৪০৪৯

 

১৮৬৬ সালে ভারতের দেওবন্দে প্রতিষ্ঠিত দারুল উলুম দেওবন্দের কারিকুলাম অনুযায়ী পরিচালিত ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রর নাম কওমি মাদ্রাসা। বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসার ইতিহাস ১২০ বছরের। কিন্তু ভারতবর্ষে মসজিদ ও মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ধর্মীয় শিক্ষার ইতিহাস হাজার বছরের। এ শিক্ষাব্যবস্থার সংযোগ রয়েছে প্রায় ১৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে। এ শিক্ষাব্যবস্থার পাঠ গ্রহণ করে মানুষ ইসলাম মোতাবেক জীবন গড়ার পাশাপাশি দেশ পরিচালনা করেছে, বৈষয়িক উন্নতি করেছে। কিন্তু ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের আগমনের পর এই হাজার বছরের শিক্ষিতরাই হয়ে যায় ‘অশিক্ষিত’।

মুসলমানদের সাংস্কৃতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার মানসে এবং চাকর-বাকরের জাতিতে পরিণত করার হীন লক্ষ্যে ব্রিটিশরা নতুন ধারার শিক্ষাব্যবস্থা চালু করে। মুসলমানদের সব দিক থেকে নিঃস্ব করে দেওয়ার সব পদক্ষেপ তারা গ্রহণ করে। দেওবন্দ আন্দোলনকারীরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পথ পরিহার করে শুধু এতটুক চেয়েছে যে, অন্তত মুসলমানদের ঈমান ও আমল রক্ষা হোক। এ ঈমান রক্ষার আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশ থেকে দেশান্তরে। ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। শত বছরের পথপরিক্রমা অতিক্রম করে এটি বৃহদাকায় মহিরুহে পরিণত হয়েছে, যার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে বাংলাদেশের কোটি জনগোষ্ঠী। কিন্তু তাদের নিয়ে আলোচনা, গবেষণা ও ইতিহাস রচনা অজ্ঞাত কারণে উপেক্ষিত হয়েছে। ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের উত্থান ও ২০১৮ সালে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদের স্বীকৃতি এ বিষয়ে সর্বসাধারণের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। 

এই গ্রন্থে সেই কৌতূহল দূর করার কিঞ্চিৎ প্রয়াস চালানো হয়েছে। মহানবী (সা.) এর মক্কার জীবন, মদিনার জীবন থেকে শুরু করে খোলাফায়ে রাশেদিন, উমাইয়া, আব্বাসীয়, ফাতেমীয়, স্পেনসহ সব যুগে ইসলামি শিক্ষার ক্রমবিকাশ নিয়ে এটি একটি আকরগ্রন্থ। মুসলমানরা ইউরোপকে কী দিয়েছে, বিশ্বসভ্যতার নির্মাণে মুসলমানদের অবদান, কীভাবে মুসলমানরা বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে, এসব বিষয়ে বিশদ আলোচনা আনা হয়েছে। 

বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষার সূচনা, সুলতানি আমলে মাদ্রাসা, মুঘল আমলে মাদ্রাসা, প্রাক-ব্রিটিশ আমলে ধর্মীয় শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা নিয়ে ব্রিটিশদের ভাবনা ইত্যাদি বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। দেওবন্দ কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কী পড়ানো হয় কওমি মাদ্রাসায়, কওমি মাদ্রাসা জাতিকে কী দিয়েছে, দরসে নিজামি কীভাবে এলোÑ এসব বিষয়ে ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। বাঙালির ইংরেজমুগ্ধ মন, ইংরেজ হওয়ার স্বপ্ন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলÑ এসব বিষয়ও প্রসঙ্গক্রমে বিবৃত হয়েছে। কে ছিলেন স্যার সৈয়দ, আসলে তিনি কী চেয়েছেন, কী উদ্দেশে আলিগড় কলেজ ও কলকাতা আলিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়েছেÑ এসব নিয়ে রয়েছে বহু নতুন তথ্য। সরকারি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ফলাফল, ব্রিটিশদের প্রণীত শিক্ষাব্যবস্থার ফলাফল ও কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ফলাফল উল্লেখ করা হয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে। ভারতবর্ষে মুসলমানরা এত বিভক্ত কেন, এর নেপথ্যে কী, কীভাবে মুসলমানদের মধ্যে নতুন নতুন ফেরকা চালু হলোÑ বিস্তারিত রয়েছে ঐতিহাসিকদের জবানে। উপমহাদেশে ব্রিটিশদের আগমনের পূর্বাপর উল্লেখপূর্বক মুসলমানদের লাভ-ক্ষতির খতিয়ানও লেখা হয়েছে এ বইয়ে।

কওমি মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনা এবং দুটি শিক্ষাব্যবস্থার সুফল-কুফল, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি তুলে ধরা হয়েছে কোনো রাখঢাক ছাড়া। কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, অপপ্রচার বনাম বাস্তবতা, কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা পাঠকের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। একেবারে নতুন ও ভিন্ন চিন্তা থেকে লেখা কওমি মাদ্রাসার ইতিহাসের আদ্যোপান্ত পাওয়া যাবে এক মলাটে।

 


আল্লাহর দেওয়া মানবজাতির বহুমাত্রিক
ইবনে আসাকির (রহ.) আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস
বিস্তারিত
ইউশা ইবনে নুন (আ.) এর
ইউশা ইবনে নুন (আ.) ছিলেন সেই নবী, যার ইব্রাহিম (আ.)
বিস্তারিত
ইসলামি নিদর্শন চালু করে
কামাল আতাতুর্ক তুরস্ক থেকে ইসলামি সব নিদর্শন মুছে ফেলেছিলেন। ডেমোক্র্যাটিক
বিস্তারিত
নামাজ শুরু করার পর ভেঙে
প্রশ্ন : আমার বাড়ি যশোরে, বাড়িতে সাধারণত রাতেই রওনা দিই।
বিস্তারিত
আল কোরআন ও বিজ্ঞান
সব সংস্কৃতিতে সাহিত্য ও কবিতা মানুষের ভাব প্রকাশ ও সৃজনশীলতার
বিস্তারিত
যৌতুকপ্রথার ভয়াবহতা ও প্রতিকার
আজকাল পত্রপত্রিকা বা ফেইসবুক ঘাঁটলে যে বিষয়টি ব্যাপকভাবে চোখে পড়ে,
বিস্তারিত