অগ্নিকান্ডে শহীদদের জন্য দোয়া

আলী হাসান তৈয়ব

বুধবার রাতে পুরান ঢাকায় সংঘটিত অগ্নিদুর্ঘটনায় শোকে মুহ্যমান পুরো জাতি। শোকে বিহ্বল আহত-নিহতদের পরিবার। শোক জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ। চকবাজারের চুড়িহাট্টা মসজিদের পাশের ওয়াহেদ ম্যানশন নামের ৫তলা ভবনটিতে আগুন লাগে। ভবনটির নিচতলা ও দোতলায় কেমিক্যাল ও প্লাস্টিকের গোডাউনের সরঞ্জাম থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের ভবনেও। বৃহস্পতিবার জাতীয় শোকের দিনে জাতি মুখোমুখি হয় আরেক বিশাল শোকের ঘটনার। ঝরে গেল, পুড়ে গেল ৮০-ঊর্ধ্ব তাজা প্রাণ। বাতাসে পোড়া লাশের গন্ধ। স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ আর আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছে পুরান ঢাকা। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসংখ্য মানুষের ভিড়। হারানো স্বজনদের খুঁজে না পেয়ে মর্গের সামনে আসছেন তারা। পুড়ে অঙ্গার এসব বনি আদমকে শনাক্ত করাই দায়। 
এই দুর্ঘটনা ও বিপর্যয় আমাদের অবহেলার ফল। ৮ বছর আগেও পুরান ঢাকার নীমতলীতে অনুরূপ হৃদয়বিদারক অগ্নিকা- ঘটেছিল। সরকার বা আমরা তার প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা নেইনি। ফলে আবারও জাতিকে এমন লোমহর্ষক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হলো। এই দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ দিয়েছেন, আহত হয়েছেন বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা মূলত অন্যের দোষে দোষী। তারা নিরপরাধ। তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার আছে। আমরা যারা বেঁচে আছি, আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। বিপদকে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা জ্ঞান করে তা কাটিয়ে ওঠার পথ খুঁজতে হবে।
আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ ‘অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফলফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের। যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয়ই আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই সান্নিধ্যে ফিরে যাব। তারা সেসব লোক, যাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এসব লোকই হেদায়েতপ্রাপ্ত।’ (সূরা বাকারা : ১৫৫-১৫৭)। 
তাই আমাদের কর্তব্য হবে, ধৈর্যধারণ ও দোয়া করা। আর নবী করিম (সা.) এর এই বাণীর কথা স্মরণ করা। জাবের বিন আতিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের প্রশ্ন করলেন, তোমরা শাহাদত (শহীদি মৃত্যু) বলতে কী বুঝে থাক? তারা বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদে নিহত হওয়াকেই আমরা শাহাদত মনে করি।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেনÑ ‘আল্লাহর পথে নিহত হওয়া ব্যতীত সাত ধরনের শাহাদত রয়েছে। ১. প্লেগ-মহামারিতে যে মারা যায়, সে শহীদ। ২. পানিতে ডুবে যে মারা যায় যায়, সে শহীদ। ৩. শয্যাশায়ী অবস্থায় যে মারা যায়, সে শহীদ। ৪. পেটের পীড়ায় যে মারা যায়, সে শহীদ। ৫. আগুনে পুড়ে যে মারা যায়, সে শহীদ। ৬. ভূমি, ভবন বা দেয়াল ধসে যে মারা যায়, সে শহীদ। ৭. যে নারী গর্ভধারণে বা প্রসবজনিত কষ্টে মারা যায়, সে শহীদ।’ (আবু দাউদ : ৩১১১; নাসাঈ : ১৮৪৬)।
সুতরাং চকবাজারের এ অগ্নিকা-ে নিহতরা ইনশাআল্লাহ শহীদের মর্যাদা পাবেন। নিহত মোমিনরা হবেন শহীদের মর্যাদাভুক্ত। তবে ইসলামের জন্য রক্তদানকারী মূল শহীদের সঙ্গে মর্যাদাগত পার্থক্য আছে। দুর্ঘটনাকবলিত শহীদদের গোসল দেওয়া হবে। যুদ্ধের ময়দানের শহীদদের গোসলের প্রয়োজন নেই। 
ইসলামের দৃষ্টিতে ‘শহীদ’ একটি মর্যাদাময় ও তাৎপর্যপূর্ণ শব্দ। এর অর্থ সাক্ষ্যদাতা বা উপস্থিত যিনি আল্লাহর কাছে তার হত্যাকা- বা নিহত হওয়ার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেবেন বা সরাসরি উপস্থিত হবেন জান্নাতে। এজন্য শাহাদতের সৌভাগ্য লাভকারী ব্যক্তি মৃত্যুবরণের সঙ্গে সঙ্গে জান্নাতের নেয়ামত ভোগ করতে থাকেন। ইসলামের পরিভাষায় শহীদ বলা হয় ওই ব্যক্তিকে, যাকে কাফের তথা অবিশ্বাসীরা যে কারণেই হোক হত্যা করেছে। অথবা তাকে হত্যা করেছে ইসলামি খেলাফতের বিরুদ্ধাচরণকারী কোনো ব্যক্তি বা চোর-ডাকাতের দল। অথবা যাকে কাফেরদের সঙ্গে সংঘটিত জিহাদের ময়দানে পাওয়া যায়, যার গায়ে থাকে কাটার দাগ বা ক্ষত বা পোড়ার চিহ্ন কিংবা পাওয়া যায় কান বা চোখ থেকে রক্তক্ষরণরত অবস্থায়। অথবা যাকে কোনো মুসলমান হত্যা করেছে ইচ্ছাকৃতভাবে জুলুম করে, ভুল করে নয়। হত্যা করেছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে, ভার দিয়ে নয়। এমন ব্যক্তিই শহীদ (ফিকহুল ইবাদত, কিতাবুস সালাত, দশম অধ্যায়, জানাজা : ১/১২৩)।
শোকের এ মুহূর্তে আমাদের সবার উচিত, মৃত্যুবরণকারীদের জন্য আল্লাহ তায়ালার দরবারে শহীদি মর্যাদা লাভের জন্য দোয়া করা। রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের উচিত, দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন করে এর পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। সরকার ও জনগণ নির্বিশেষে সবার কর্তব্য, আহত-নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। আল্লাহ তায়ালা আহত-নিহতদের পরিবারকে এ দুর্ঘটনার ভার সইবার তৌফিক দিন।


কর্মজীবী ও শ্রমিকদের অধিকার
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেনÑ ‘তুমি তোমার গৃহপরিচারক থেকে যতটুকু কাজের ভার
বিস্তারিত
বেকারদের প্রতি ইসলামের নির্দেশনা
ইসলাম কর্মক্ষমদের বারবার কর্মের প্রতি উৎসাহ দিয়েছে। কর্মের উদ্দীপনা জুগিয়েছে।
বিস্তারিত
গর্ভপাত : ইসলাম কী বলে?
আধুনিক যুগে ভ্রƒণহত্যা জাহেলি যুগে কন্যাসন্তানকে জীবন্ত সমাধিস্থ করার নামান্তর।
বিস্তারিত
আল্লাহর ভালোবাসায় হজের আমল
প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ লোকেরা যেভাবে ভালোবাসার আকর্ষণে পরস্পরের কাছে ছুটে
বিস্তারিত
নবজাতকের জন্য ইসলামের উপহার
বাবা হতে পারা, মা হতে পারাÑ প্রতিটি নারী-পুরুষের কাছেই এক
বিস্তারিত
প্রশ্ন-উত্তর
প্রশ্ন : বিক্রেতার শোরুম থেকে ক্রেতা দুটি কার ক্রয় করল
বিস্তারিত