ডাকসু নিয়ে সাক্ষাৎকার

'বিজয়ী হলে সাধারণ ছাত্রদের জন্য কাজ করব'

নির্বাচনে বিজয়ী হলে সাধারণ ছাত্রদের জন্য কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন সাদ বিন কাদের। তিনি বলেন, সাধারণ ছাত্রদের জন্য কাজ করব- এটা আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের ও আনন্দের। আমি যখন ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ছিলাম, তখন শুধু ছাত্রলীগেরই ছিলাম। তখন আমি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন কাজ করলেও সব শিক্ষার্থীর বৈধ ছাত্র প্রতিনিধি ছিলাম না। বর্তমানে সে সুযোগটা পেয়েছি। আশা করছি কাজে লাগাতে পারব।

বৃহস্পতিবার রাতে এক সাক্ষাৎকারে এই প্রতিশ্রুতির কথা জানান ডাকসুর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী সাদ বিন কাদের চৌধুরী। তিনি ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে মনোনীত প্রার্থী। এছাড়া ছাত্রলীগের বিগত কমিটির উপ-কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন তিনি। 

ঢাবিতে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি স্থাপন:
ডাকসু নিয়ে কথা হয় এই ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে। নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কিছু স্মৃতিও রেখে যেতে চান। তিনি বলেন, আমাদের এখানে ফুলার রোড আছে, আছে উর্দু রোডও। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে সেই ১৯৭১ সালে। এখন তো এসব নামে রোড থাকা উচিত নয়। এসব সড়ক ভাষা শহীদদের নামে হতে পারে। ঢাবির মতো জায়গায় বীরশ্রেষ্ঠদের নামে কোনো হল নেই। আমি চাই, আমাদের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী অন্যদের মতো বীরশ্রেষ্ঠদের নামেও হল থাকবে। 

নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বকে তুলে ধরার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ঢাবির শিক্ষার্থী হিসেবে কখনও দেখিনি যে, বিভিন্ন জাতীয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধা বা কাউকে নিয়ে এসে তাদের বীরত্বগাথা বলার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। আমার ইচ্ছা আছে, জাতীয় দিবসগুলোতে মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের নিয়ে এসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। তারা তাদের বীরত্বগাথা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করবেন। এতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশের প্রতি একটা আবেগ ও ভালোবাসা তৈরি হবে। তখন তাদের মধ্যে বিভাজনটা অনেকটা হ্রাস পাবে।

স্কুলপর্যায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পাঠ্যসূচিতে মুক্তিযুদ্ধের ওপর কোর্স বা গবেষণা যেন থাকে, সে বিষয়টা নিয়েও কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বলেন, রুট লেভেল থেকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে যাতে সঠিক ম্যাসেজ পৌঁছে দেয়া যায়, সে উদ্যোগ নেব।

শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি: 
নির্বাচনে বিজয়ী হলে সাধারণ ছাত্রদের জন্য কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন সাদ বিন কাদের। তিনি বলেন, সাধারণ ছাত্রদের জন্য কাজ করব- এটা আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের ও আনন্দের। আমি যখন ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ছিলাম, তখন শুধু ছাত্রলীগেরই ছিলাম। তখন আমি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন কাজ করলেও সব শিক্ষার্থীর বৈধ ছাত্র প্রতিনিধি ছিলাম না। বর্তমানে সে সুযোগটা পেয়েছি। আশা করছি কাজে লাগাতে পারব।

তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতির শুরু থেকে যখন ডাকসু সম্পর্কে শুনতাম তখন থেকে এর প্রতি একটা মোহ কাজ করত। যখন শুনতাম অমুক ভাই ডাকসুর এত বড় নেতা, তখন নিজেও ডাকসুর নেতা হব বলে স্বপ্ন দেখতাম। আজ সে স্বপ্ন হাতে ধরা দেয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদের ব্যানারে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে আমাকে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক পদে লড়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। 

'সদিচ্ছা থাকলে খাবারের মান ভালো করা সম্ভব': 
ক্যান্টিনে খাবারের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, ৪০ টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনগুলোতে অবশ্যই মানসম্মত খাবার দেয়া সম্ভব। যদি সদিচ্ছা থাকে। আমি যদি একটি উদাহরণ দেই, আমার হলে বাইরের এক লোক ক্যাটারিংয়ের খাবার পরিবেশন করেন। তিনি প্রতিটি খাবারের মূল্য নেন ৬০ টাকা। ৬০ টাকায় তিনি যে খাবারটা দেন তা বাইরের রেস্টুরেন্টগুলোতে পেতে হলে ১২০-১৩০ টাকা খরচ করতে হয়। কিন্তু তিনি তা ৬০ টাকায় দিচ্ছেন। একই সঙ্গে নিজের ব্যবসাও করছেন। তাই সদিচ্ছা থাকলে খাবারের মান ভালো করা সম্ভব।

'আবার আমাদের হলগুলোর ক্যান্টিন মালিকরা কম মূল্যে কারওয়ান বাজারের সবচেয়ে নষ্ট ও বাজে সবজিগুলো কিনে আনেন। এগুলো মূলত কেউ কিনতে চান না। ফলে ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এছাড়া পচা-বাসি খাবারও পরিবেশন করা হয়, যা আমাদের শরীরে বিভিন্নভাবে ইফেক্ট করে। তাই আমি চাইব, এসব বন্ধ হোক। খাবারের মান নিশ্চিত করাই আমার মূল লক্ষ্য হবে। যা ইচ্ছা তা-ই খাবার হিসেবে আপনি উপস্থাপন করতে পারেন না। এছাড়া ক্যান্টিনগুলোর পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর। এসব বিষয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে। অবশ্যই খাবারগুলো হতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত এবং সে লক্ষ্যে আমি কাজ করব,' বলেন সাদ বিন কাদের। 

আবাসন সংকট দূর করতে প্রশাসনকে চাপ দেব: 
আবাসন সংকটের কারণেই মূলত গণরুমের সৃষ্টি বলে মনে করেন ছাত্রলীগ মনোনীত ডাকসুর এই প্রার্থী। তিনি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষক-দিনমজুরসহ নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানই বেশি। এখানে ভর্তি হওয়ার পর বাইরে থাকার মতো কোনো সামর্থ্য তাদের থাকে না। এমন পরিস্থিতিতে গণরুম বিশাল একটা সাপোর্ট। তবে প্রতিটা রুমে বসবাসকারীর সংখ্যা আরও কমিয়ে আনা গেলে ভালো ফল পাওয়া যেত।

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে আবাসন সংকট দূর করার বিষয়ে প্রশাসনকে চাপ দেব। আশা করি, সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত হলে গণরুমও একদিন থাকবে না। আর গেস্টরুমের ক্ষেত্রেও একই বিষয় আসে। বিভিন্ন সময় গেস্টরুমে নির্যাতনের অভিযোগ আসলেও বর্তমানে সেটি অনেকটা কমে এসেছে। কোনো শিক্ষার্থী যদি নির্যাতনের শিকার হন, সেটি গেস্টরুম হোক বা বাইরে হোক; ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। ছাত্রলীগের কেউ করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থার সঙ্গে প্রশাসনিকভাবেও শাস্তি নিশ্চিতে প্রশাসনকে চাপ দেব।

ডাকসুতে অসচ্ছলদের জন ফান্ড গঠন: 
অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক অসচ্ছল শিক্ষার্থী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। জীবন নির্বাহ তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের জন্য বিভিন্ন বৃত্তির ব্যবস্থা করতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় ডাকসু থেকে আমরা একটি ফান্ড গঠন করব। সেই ফান্ড থেকে তাদের বৃত্তি দেয়ার ব্যবস্থা করব। 

রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের ডিজিটালাইজড করার উদ্যোগ: 
ছাত্রলীগের এই নেতা বলেন, আমাদের প্রশাসনিক কাজগুলো অনলাইনে গেলে চাপ অনেক কমে যাবে। প্রতিষ্ঠার এত বছর পরও আমাদের ভর্তিপ্রক্রিয়াসহ অন্য কাজগুলো ডিজিটালাইজড হয়নি। এ কারণে রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের কর্মকর্তাদের ওপরও চাপ রয়েছে। কারণ সেখানে প্রয়োজনের তুলনায় কর্মকর্তা-কর্মচারী কম। তারাও খিটখিটে মেজাজের হয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া নিয়েও জটিলতা আছে। এটি ডিজিটালাইজড করার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করব। এসব বিষয় আমাকে খুব ভাবিয়ে তোলে। এগুলো নিয়ে কাজ করতে চাই।

নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু আছে: 
বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনী পরিবেশ নিয়েও কথা হয় সাদ বিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের যে পরিবেশ, তা অত্যন্ত সুষ্ঠু রয়েছে। ঢাবির মতো জায়গায় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। গত কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলসহ সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলো নিজেদের মতো ক্যাম্পাসে ঘুরছে। তাদের মধ্যেও যে ভয়ভীতি ছিল তা ইতোমধ্যে কেটে গেছে। তারাও মনে করছেন, নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে। আমরাও আশা করছি, এ পরিবেশ নির্বাচনের দিন পর্যন্ত বজায় থাকবে। 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাদ বিন কাদের চৌধুরী (সাদী) ছাত্রলীগের নির্বাচন পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণ কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলায়। পারিবারিকভাবে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নানা আমিনুল করিম মজুমদার খোকা মিয়া ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। মামা এনামুল করিম মজুমদার বাদল পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত।


জামায়াতের বিচার: খসড়া মন্ত্রিপরিষদে
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিচার
বিস্তারিত
শাহনাজ রহমতুল্লাহ মৃত্যুতে কাঁদলেন খালেদা
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে খুব কম মানুষই
বিস্তারিত
আন্দোলন করে নয়, আইনী প্রক্রিয়ায়
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আন্দোলন করে নয়, একমাত্র আইনী প্রক্রিয়ার
বিস্তারিত
গুম-খুনে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোক
গুম-খুনের সঙ্গে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকজনও জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন
বিস্তারিত
কাদেরকে সরিয়ে সংসদ উপনেতা রওশন
সংসদের বিরোধী দলের উপনেতার পদ থেকেও সরিয়ে দেয়া হয়েছে জিএম
বিস্তারিত
চিকিৎসার অভাবে আছেন এমন মানুষ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ কল্পনাতীত জায়গায় পৌঁছে গেছে
বিস্তারিত