বুশকে

বুশ

ঢাকা থেকে মেরী অ্যান পিটার্স 
আমার এই পঙ্ক্তিমালা অনুবাদ করে 
তোমাকে পাঠাবে কি-না আমি তা জানি না।
সম্প্রতি, তোমার পূর্ব-এশিয়া সফরে আমি আপ্লুত হয়েছি।
কার্নিভালের আতশবাজির মতোন তোমার ভাষণে
মুহুর্মুহু ধ্বনিত ক্ষুধার জ্বালা সহমর্মিতা এবং ছাইচাপা ক্রোধের অনল 
এই দীনহীন কবির হৃদয়ে তীব্র আবেগের সঞ্চার করেছে বলেই
                          তোমাকে লিখছি এই পঙ্ক্তিমালা।

তুমি কাচঘেরা নিরাপদ বদ্ধঘরে একতরফা বক্তৃতা কর 
আর প্রমোদ-পর্দায় উপভোগ কর আধিপত্যের পুতুল নাচ;

তাই, তোমার সান্ত¡না প্রবণ তরল চোখেÑ 
ফিলিস্তিনের রক্ত-মজ্জা আর কান্নামাখা ধ্বংসস্তূপকে মনে হয়
             গাদা-গাদা লাল-সাদা গোলাপের ছড়াছড়ি;

আফগানিস্তানের উদ্বাস্তু নারী আর শিশুদের মনে হয়
ছুটির দিনের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতে ছড়ানো ছিটানো নুড়ি ও ঝিনুক;

সাগর-মহাসাগরে ক্রুদ্ধ যুদ্ধ জাহাজগুলোকে মনে হয়
ক্যাম্প ডেভিডের বিস্তীর্ণ উদ্যানে ফুটে থাকা
                        কলাবতী আর ক্রিসেনথিমামের উল্লাস! 

বুশ
বাল্যকাল থেকে শুনিÑ 
তোমরা বিশ্বের দেশে দেশে সরকার উৎখাত করাও
এবং
যেখানে যেমন তন্ত্র-মন্ত্র তাবিজ-কবজ দাও
ওঠ-বস করাও, বিচার কর... আর 
গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে মুখে তোলো সাত সাগরের ফেনা!

সমাজতন্ত্রীদের পতনে তোমাদের আরো পোয়াবারো
পাদুকা সেলাই থেকে চ-িপাঠÑ সকল কাজেই 
                          আজ তোমরা বিধাতা।
তোমাদের তো স্থায়ী শত্রু বা স্থায়ী মিত্র নেই
স্বার্থই তোমাদের বন্ধু; যেমন, নাইজেরিয়া কিংবা বাংলাদেশের 
যৎসামান্য গ্যাস, পশ্চিম এশিয়ার তেল, ভেনিজুয়েলার খনিজ
দক্ষিণ আফ্রিকার স্বর্ণ এবং হীরকখ-।

বুশ
তুমি কলমন্দ্রমুখরিত পৃথিবীর ইতিহাসে 
মাথা রাখলে দেখবেÑ

হিরোশিমা-নাগাসাকির বিভীষিকায় আজো শরতের উৎফুল মেঘ 
বনের মর্মরধ্বনি আর অতল সাগরে কেলিপরায়ন নীল তিমি 
                       মুহূর্তে থমকে যায়;
ভিয়েতনামের বধ্যভূমির প্রতিটি ঘনঝোপ রাতের জোনাকি 
আর অযুত মার্কিন সেনার অতৃপ্ত আত্মা পূর্ব-এশিয়াকে
প্রতিদিন প্রতিক্ষণ শুধু সাদা পতাকা দেখাতে বলে;

তোমাদের রাসায়নিক অস্ত্র ও নাপাম বোমার স্মৃতিভারাতুর 
আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ার ভুট্টাক্ষেত বৃক্ষরাজি আর
কুর্দি বধ্যভূমির প্রতিটি পাথরের চোখ আজ ভিজে যাচ্ছে জলে;


দেখবে, কান্দাহারের দুর্গম গিরিখাতে আফগান যুবতীরা
দয়িতের কাঁধে স্ট্রিংগার ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে ফুল হাতে বসন্তের বুনো হাওয়ায়
                        তোমার কন্যার মতোন উড়ে যেতে চায়।

বুশ
তবুও কি বিষবৃক্ষ থেকে আত্মরক্ষার নিধনযজ্ঞে
রক্তের পাবনে ভেসে যাবে মানুষের নৃতত্ত্ব প্রেম ও প্রজ্ঞা
ভেসে যাবে ঘরের অবলা পশু শস্যকণা জল মাছ
                                   সংবিধান ও জাতিসংঘ?

আত্মরক্ষার কথাই যদি ওঠেÑ 
তবে, বুশ বেয়ার সাদ্দাম এশিয়া আফ্রিকা ল্যাটিন-আমেরিকার 
আদিবাসী নেতা আর তামিল বা প্যালেস্টাইনের
      আত্মঘাতী বালিকার মধ্যে কী পার্থক্য বলো?


আয়না সিরিজ
এনাম রাজু     এক   রাত কাটেÑ জলশূন্য মাছের মতো অথচ-আমি গাছে গাছে ঘুরি, চিৎকার আর্তনাদ নীরবতা
বিস্তারিত
আমরা হাঁটি শহীদ মিনারের দিকে
বিধ্বস্ত রক্ত ভেজা পলি, এভাবে গড়াগড়ি খায়Ñ হরিণির সাড়ে বারোহাত লাফ,
বিস্তারিত
নতুন যুগ
নতুন যুগ, তুমি তোমার ভালোবাসা দিয়ে আমাদের কাপড়, জ্বালানির কষ্ট মুছে
বিস্তারিত
প্রেমিক হব
প্রেমিক হওয়ার শখ? প্রেমিক হও, সন্ন্যাসি হও, বৈষ্ণব হও বিরহি হও, বাধা
বিস্তারিত
কবিতার বই ‘নিমগ্ন দহন’
বেশ কিছু কবিতা দিয়ে সাজানো হয়েছে ফখরুল হাসানের কবিতার বই
বিস্তারিত
প্রসন্ন সাঁঝের পাখি ও ভয়াল
পাটাতনে বসে আহত পালাসি-গাঙচিল বিস্ফারিত নয়নে আমাদের দেখছে। ধীরে ধীরে
বিস্তারিত