শুরু হোক রমজানের প্রস্তুতি

রমজানের বার্তা নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হয়েছে রজব মাস। রজব রমজানের প্র্রস্তুতি নেওয়ার মাস। হিজরি সপ্তম মাস ‘রজব’। পবিত্র ও সম্মানিত চার মাসের অন্যতম একটি মাস এটি। আবু বাকরা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘বারো মাসে বছর। তার মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। তিনটি মাস ধারাবাহিক, আর তা হচ্ছে- জিলকদ, জিলহজ, মহররম আর চতুর্থ মাসটি হলো রজব, যা জুমাদাল উখরা ও শাবান মাসের মধ্যবর্তী মাস।’ (বোখারি : ৩১৯৭)। 

বিজ্ঞজনরা বলেছেন, ‘রজব বীজ রোপণের মাস। শাবান ক্ষেতে সেচ দেওয়ার মাস। আর রমজান ঘরে ফসল তোলার মাস। সুতরাং যে রজব মাসে বীজ রোপণ করবে না, এবং শাবান মাসে ক্ষেতে সেচ দেবে না সে কীভাবে রমজান মাসে ঘরে ফসল তুলবে?’ (লাতাইফুল মাআরিফ)। 
তো রজব ও শাবান মাস হচ্ছে রমজানের প্র্রস্তুতি গ্রহণের সময়। রমজান মাসে যেহেতু ইবাদতের সময়সূচির পরিবর্তন হয়, তাই সে অনুযায়ী প্র্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত। সুতরাং এখন থেকেই আমাদের প্র্রস্তুতি নিতে হবে, যেন সময় মতো ঘরে তুলতে পারি মাহে রমজানের খায়র, বরকত, রহমত এবং মাগফিরাত ও নাজাতের ফসল। রমজান আসার আগে আমরা কীভাবে প্র্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারি তার একটি সংক্ষিপ্ত কার্যতালিকা পেশ করা হলো :  
তওবার মাধ্যমে প্র্রস্তুতি : রমজানের প্রথম দিনেই শয়তানকে শিকলে বেঁধে ফেলা হয়। তবুও রমজানে কিছু মানুষকে দেখা যায়, শয়তানি কাজে জড়িত থাকতে। কারণ, শয়তানের প্ররোচনায় এগারো মাস সে যেসব গোনাহে লিপ্ত ছিল, সেগুলোর কিছু প্রভাব রমজানেও অবশিষ্ট থেকে গেছে। তাই এখনই যাবতীয় গোনাহ থেকে তওবা করে পাক-সাফ হয়ে যাওয়া উচিত, রমজানে শয়তানের কোনো প্রভাবই যেন বাকি না থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে কৃত গোনাহ থেকে তওবা করে তার অবস্থা হলো যেন সে গোনাহই করেনি।’ (ইবনে মাজাহ : ৪২৫০)। 
মানসিক প্র্রস্তুতি : অনেকেই হিজরি সন বা চান্দ্রমাসের খবর রাখেন না। তাই হঠাৎ যখন শোনেন যে, অমুক দিন থেকে রমজান আরম্ভ হবে, তখন অপ্র্রস্তুত হয়ে পড়েন। রমজানের আজমত বা গুরুত্ব-মাহাত্ম্য যথাযথভাবে ভেতরে আনতে পারেন না। ফলে সঠিকভাবে সিয়াম পালন করা হয়ে ওঠে না। আর রোজা যদিও রখা হয়, তার জন্য এটি একটি ভারী আমল হিসেবে দেখা দেয়। ফলে রমজান থেকে আশানুরূপ ফললাভ সম্ভব হয় না। অথচ চাঁদের হিসাব রেখে এখন থেকেই নিজের মন-মননে রোজা পালন ও রমজানের প্রভূত কল্যাণ লুফে নেওয়ার মানসিকতা গ্রহণ করলে, পরিপূর্ণ ভক্তি-শ্রদ্ধার সঙ্গে রোজাগুলো পালন করা যাবে (ইনশাআল্লাহ)।
অভ্যাসগত প্র্রস্তুতি : এখন থেকেই নফল ইবাদত ও জিকির-আসকারের অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার। যে কোনো জিনিস হঠাৎই খুব বেশি করে ফেলা যায় না। আগে থেকে অভ্যাস থাকলেই যে কোনো কাজ অধিক পরিমাণে করা সম্ভব। এখন থেকে অভ্যাস গড়ে তুললে রমজানে ইবাদত-বন্দেগি বেশি বেশি করা যাবে বলে আশা করা যায়। সুতরাং এখন থেকেই বেশি বেশি ইবাদতের অভ্যাস গড়ে নেওয়া দরকার।
দোয়ার মাধ্যমে প্র্রস্তুতি : একটি দুর্বল হাদিসে রজব মাস শুরু হলে নিম্নোক্ত দোয়াটি পড়ার কথা আছে, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লা না ফি রজাবা ওয়া শাবান ওয়া বাল্লিগনা রমাদান।’ অর্থÑ হে আল্লাহ! আমাদের তুমি রজব ও শাবান মাসে বরকত দান কর এবং রমজান পর্যন্ত আমাদের পৌঁছে দাও।’ (শুআবুল ঈমান : ৩৮১৫)। দোয়াটির অর্থ সুন্দর বিধায় ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, দোয়াটি আমলযোগ্য। 
উবাদা বিন সামেত (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাস আসার আগে নিম্নোক্ত দোয়াটি সাহাবায়ে কেরামকে শেখাতেনÑ ‘আল্লাহুম্মা সাল্লিমনি লি রমাদান, ওয়া সাল্লিমহু লি মুতাকাব্বালা।’ অর্থÑ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে নিরাপত্তা দাও রমজানের জন্য (যেন সুস্থতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে রমজান পাই, এবং যেন রমজান থেকে সম্পূর্ণ উপকৃত হতে পারি) আর রমজানকেও আমার জন্য নিরাপদ করে দাও। (যেন রমজানের মধ্যকার অবস্থা আমার জন্য অনুকূল হয়ে যায়) এবং রমজানের জন্য আমাকে কবুল করে নাও। (কানজুল উম্মাল : ২৪২৭৭)। 

লেখক : পেশ ইমাম ও খতিব
বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদ 


স্বামী বিদেশে থাকলে ইসলামের দৃষ্টিতে
স্বামী বিদেশে থাকলে তার দ্বীন ও দুনিয়া বিষয়ক সকল কিছুর
বিস্তারিত
কোন মুসলিম দেশে কবে ঈদ
ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সেন্টার (আইএসি) বেশির ভাগ ইসলামি রাষ্ট্রগুলোতে ঈদুল ফিতরের
বিস্তারিত
রমজানে পাপ মুক্তির অবারিত সুযোগ
আজ ১৬ রমজান বুধবার । মাগফেরাতের দশক শেষ হতে আর
বিস্তারিত
সৌদিতে রমজানে প্রীতিময় পরিবেশ
রমজানের আবহ শুরু হওয়ার আগে থেকেই সৌদি আরবের মানুষ মহিমান্বিত
বিস্তারিত
আজকের তারাবি ১৭
আজ ১৭তম তারাবিতে সূরা নামলের ৬০-৯৩, সূরা কাসাস এবং সূরা
বিস্তারিত
রাতে ঘুমানোর সময় নবীজি যা
আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী।’ (আন-নাবা ৯)। নিদ্রা
বিস্তারিত