সূরা ফাতিহার শিক্ষা

আবু দারবিশ মসজিদ, আম্মান, জর্ডান

আল্লাহ তায়ালার নাজিলকৃত প্রথম পূর্ণাঙ্গ সূরা ফাতিহা। এটি সমগ্র কোরআনের নির্যাস এবং নীতিগতভাবে কোরআনের সব শিক্ষার সারসংক্ষেপ। বাকি সূরাগুলো প্রকারান্তে এ সূরারই বিস্তৃত ব্যাখ্যা। কারণ ইসলামি জীবনবিধানের মূলভিত্তি ঈমান ও নেক আমলের নিরিখে বিচার্য। আর এ দুটো মূলনীতিই সূরা ফাতিহায় সংক্ষিপ্তকারে বর্ণনা করা হয়েছে। 
এ সূরায় পরকালীন অনন্ত জীবনে মুক্তি ও সাফল্যের রাজপথের কথা বলা হয়েছে। এ রাজপথের নাম ঈমান ও ‘আমলে সালেহ’ বা নেক আমল, সৎকর্ম। এ রাজপথের অপর নাম ‘সিরাতুল মুস্তাকিম’ সরল-সোজাপথ। সিরাত বা পথ হলো ঈমান। আর সেই রাস্তায় পথচলা হলো আমলে সালেহ।
এ সূরার সারমর্ম বান্দার সঙ্গে আল্লাহর সম্পর্ক। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, জাতীয় কিংবা বৈশ্বিক সবখানেই বান্দার অবস্থান কোথায় তা জানা দরকার। বান্দার ভেতর থেকেই এর জবাব পাওয়ার চেষ্টা যদি থাকে; তবে সূরা ফাতিহা এ জিজ্ঞাসার তৃষ্ণা নিবারণে মহাসমুদ্রের মতো তার সামনে এসে হাজির হয়। 
এটি মূলত আল্লাহর দান। তারই শিখিয়ে দেওয়া একটি মানপত্র। যাতে আল্লাহর কাছে বান্দা তার চাওয়া-পাওয়ার কথা বলছে। একটা মানপত্রের মতো এতেও তিনটি অংশ। প্রথমেই যার কাছে চাওয়া হচ্ছে তার গুণ ও প্রশংসা, তারপর যে বা যারা চাচ্ছে তার পরিচয়, সব শেষে বান্দার চাওয়া। একজন মোমিন দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ৩২ বার সূরা ফাতিহা তেলাওয়াত করে। অথচ বাস্তব জীবনে আমাদের আচরণ বা চলাফেরা ইহুদি, খ্রিষ্টান বা মোশরেকদের মতোই যদি থেকে যায়, তা হলে এই পড়ার সার্থকতা কোথায়? সঠিক আখলাকের অনুসরণ করাই সূরা ফাতিহার সিরাতুল মুস্তাকিম বা সরলপথ। 
সহিহ হাদিসে এ সূরাকে উম্মুল কোরআন ও উম্মুল কিতাব বা কোরআনের সার বলে অভিহিত করা হয়েছে। গুরুত্ব ও তাৎপর্যের দিক দিয়ে এ সূরাটির ত্রিশটিরও বেশি নাম রয়েছে। যেমনÑ ‘ফাতিহাতুল কিতাব’ বা গ্রন্থের প্রারম্ভিকা, যে কথা অধিক গুরুত্ব রাখে, স্বভাবতই তা শীর্ষস্থান অধিকার করে থাকে। ‘সাবউল মাসানি’ বা ‘নিত্যপাঠ্য বাণীসপ্তক’, ‘সূরাতুল কাফিয়া’ বা ‘সম্পূরক সূরা’, ‘সূরাতুল কান্য’ বা ‘অনন্য ধনভা-ার, ‘আসাসুল কোরআন’ বা ‘কোরআনের ভিত্তি’, ‘সূরাতুল হামদ’ বা ‘প্রশংসার সূরা’, ‘সূরাতুদ দোয়া’ বা ‘প্রার্থনার সূরা’, ‘সূরাতুশ শুক্র’ বা ‘কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের সূরা’, ‘সূরাতুত তাওহিদ’ বা ‘একত্ববাদ ঘোষণার সূরা’, ‘সূরাতুস সালাত’ বা ‘নামাজের সূরা’, ‘সূরাতুশ্্ শিফা’ বা ‘আরগ্যের সূরা’, ‘সূরাতুন্্ নুর’, ‘ওয়াফিয়া’, ‘রহমাত’, ‘রুকাইয়া’, ‘হুদা’, ‘নি’মাহ’, ‘সূরাতুল মাস্্আলাতিল উলা’ ইত্যাদি।
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে সিরাতুল মুস্তাকিম যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আল্লাহ তায়ালা সূরা ফাতিহায় বুঝিয়েছেন। এ সূরাটি সালাতের প্রতি রাকাতে পাঠ করতে হয়, তা না হলে নামাজই হয় না। গুরুত্বের দিক দিয়ে সূরাটি অনন্য। প্রশ্ন হলো, এ সূরার শিক্ষণীয় বিষয়টি কী? গুরুত্বই বা কী? কেনই বা এ সূরাটি প্রতি রাকাতে পড়তে হয়। দৈনিক ৩২ রাকাত নামাজে ৩২ খানা দরখাস্ত পেশ করি মহান আল্লাহর শাহি দরবারে। একই বিষয়ে ‘ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম’ বিষয়গুলো গভীরতর চিন্তার বিষয়। 
এটি একটি দোয়া, একটি আবেদন। দোয়ার মধ্যেই মানবমনের মূল আকুতিটি ধরা পড়ে। এখানে ধরা পড়ে তার ঈমান, প্রকাশ প্রায় তার জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য। তাই প্রকৃত ঈমানদার ও মোনাফেকের দোয়া কখনও এক হয় না। আল্লাহপাক এ সূরাটির মধ্য দিয়ে তাঁর ঈমানদার বান্দাকে শিখিয়েছেন জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিত। শিখিয়েছেন করুণা চাওয়ার ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে। নামাজের প্রতি রাকাতে এ সূরা পাঠ বাধ্যতামূলক করে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে লাগাতার ভাবনা ও আল্লাহর কাছে সেটি চাওয়াকে মনের মধ্যে বদ্ধমূল করে দিয়েছেন। 


সুখী জীবন লাভের রহস্য
মোমিনের চালচলন বাস্তব জীবন দেখলেই বোঝা যাবে, এসব গুণ তার
বিস্তারিত
কবি শেখ সাদি ও তার
মুহাম্মদ এরফানুল করীম মহাকবি শেখ সাদির অনন্য গ্রন্থ ‘গুলিস্তান’ লিখিত হয়েছিল
বিস্তারিত
সুফিকোষ
রজব অর্থ সম্ভ্রান্ত, প্রাচুর্যময়, মহান। রজব হলো আরবি চান্দ্র বর্ষের
বিস্তারিত
মওলানা রুমির মসনবি শরিফ প্রসঙ্গে
আসসালামু আলাইকুম আমি দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের নিয়মিত পাঠক। প্রতি শনিবারের তাসাউফ
বিস্তারিত
অশ্লীলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ
অশ্লীলতা ও পর্নগ্রাফি এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, প্রশাসনকে
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে
বিস্তারিত