ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিবেন রিকশা চালক ওয়াহাব!

আব্দুল ওয়াহাব, বয়স ১৯ এর মত হবে। এই বছর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন তিনি। ভালো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে নিজেকে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে চায় ওয়াহাব।

ভারাক্রান্ত মনে নিজের কষ্টের কথা মনে করে বলেন- গ্রামের বাড়িতে মাকে রেখে ঢাকায় এসেছি। এখানে এসে রিকশা চালাই। আর পাশাপাশি পড়াশোনা করি। সারাদিন রিকশা চালানোর পর রাতে যতুটুক পারি পড়ালেখা করি। অনেক সময় সেটাও হয়ে উঠে না যে ঠিকমত একটু পড়ালেখা করব। এখনও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারিনি। কবে যে পারব!’

ওয়াহাবের গ্রামের বাড়ি রংপুর জেলার কুড়িগ্রাম এলাকায়। পরিবারে শুধু তার মা আর তিন বোন আছে। বড় দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে আর ছোট বোন দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। বাবা মারা গেছে অনেক আগেই। সেই অর্থে মা আর ছোট বোনের দেখাশোনা করার দায়িত্ব এখন তার। বাবা এমন কিছুই রেখে যাননি যেটা দিয়ে তার পরিবার খুব সুন্দর করে চলতে পারবে। বাধ্য হয়ে রিকশা চালান ওয়াহাব।

গ্রামের কলেজ থেকে জিপিএ ৩.৪০ পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন ওয়াহাব। এই বয়সে যার উচ্চ স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা, বিশ্ব জয় করার কথা, সেই সময়ে এই চিন্তা বাদ দিয়ে তাকে ভাবতে হচ্ছে পরিবারের কথা। মা আর বোনের জন্য দু মুঠো খাবার জোগাড় করার কথা। সেই চিন্তায় গ্রামের বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন ওয়াহাব।

রাজধানীর ষাট ফিট এলাকার আমতলাতে থাকেন। অনেক খোঁজাখুঁজি করে একটা ভাড়া রিকশার ব্যবস্থা করেন তিনি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রিকশা চালিয়ে বাসায় ফিরেন তিনি। সারাদিনে যা পান তা দিয়ে কোন রকমে নিজেকে চালিয়ে নেন আর মা-বোনের জন্য কিছু টাকা রেখে দেন।

এতো পরিশ্রমের পরও এই বয়সেই দমে যেতে রাজি নন এই ওয়াহাব। রিকশা চালালেও নিজের মনের মধ্যে পুষে রেখেছেন বড় হওয়ার স্বপ্ন। একদিন অনেক বড় হবেন তিনি। বড় হয়ে দেশের সেবা করবেন। তিনবছর আগে মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ ৪ পেয়ে পাশ করেছেন। এরপরই ঢাকাই চলে এসেছিলেন। এখানে এসে কিছু করার পাশাপাশি পড়ালেখাটা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তাই প্রথমে কিছুদিন রিকশা চালান। পরে আবার ছেড়ে দেন।

পরে আবার একটা সুপারশপে কাজ করেন। সেখানে কাজ করে খুব একটা সুবিধা করতে পারেন নি তিনি। পরে আবার রিকশা চালানো শুরু করেন। সারাদিন রিকশা চালিয়ে রাতে একটু পড়াশোনা করে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো রেজাল্ট করেন। তখন মাঝে মাঝে বাড়ি গেলেও এখন আর খুব একটা যেতে পারেন না। গত বছর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন কিন্তু অল্পের জন্য প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পান নি। তাই বলে দমে যান নি এখনও। এই বছর আবার পরীক্ষা দিবেন সেখানে। এবার হয়তো সুযোগ পেতে পারেন বলে নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস রেখেছেন তিনি।

মনের মধ্যে স্বপ্ন বুনছেন একদিন অনেক বড় হবেন তিনি। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে কষ্ট করে যাচ্ছেন। অনেক দিন মাকে দেখতে যান না তিনি। তবে আগামী মাসে বাড়ি গিয়ে মাকে ঢাকায় নিয়ে আসবেন তিনি। তার সঙ্গে রাখবেন। দাদার অনেক জমিজমা থাকলেও তার বাবাকে দিয়ে যান নি কোন কিছুই। যার কারণে তার বাবা গ্রামে কৃষি কাজ করেই সংসার চালাতেন। সেই বাবাও একদিন না ফেরার দেশে চলে গেল, তখন পরিবারের দায়িত্ব পড়ল ওয়াহাবের কাঁধে।

গ্রামে কিছুদিন কৃষি কাজও করেছেন কিন্তু এভাবে তো আর চলে না। আর তাই বুকের মধ্যে স্বপ্ন পুষে চলে এলেন ঢাকায়। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে মাধ্যমিক পাশ করলেও উচ্চ মাধ্যমিকে তা পাল্টে যায়। ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছাটা সেখানে বিলীন করে দিলেন। পেটের চিন্তা না করলে হয়তো সেটা সম্ভব হত। ডাক্তার হতে গেলে অনেক পড়াশোনা করতে হবে, অনেক বই পড়তে হবে আরও অনেক বিষয়। তাই উচ্চমাধ্যমিকে মানবিক বিষয় নিয়ে পাশ করেন।

এখন স্বপ্ন দেখেন একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়ার। তারপর পড়াশোনা শেষ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার। সেই সাথে নিজের মায়ের খেয়াল রেখে ছোট বোনটাকে পড়াশোনা করানো।


ওদের প্রতিভা বিকাশের দায়িত্ব আমাদেরই
ওরা সবাই আমাকে ভালোবাসে। দূর থেকে আমাকে দেখতে পেলেই ভাইয়া
বিস্তারিত
পায়ে লিখেই জীবন গড়ার স্বপ্ন
মানুষ যেকোনও লেখালেখির কাজ সাধারণত হাত দিয়েই করে থাকে। হতে
বিস্তারিত
বিরিয়ানির হাঁড়িতে লাল কাপড় থাকে
বিরিয়ানি পছন্দ করেন না এমন লোক বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া কষ্ট
বিস্তারিত
ফের প্রকৃতির বুকে বিলুপ্ত হয়ে
প্রায় ১ লক্ষ ৩৬ হাজার বছর আগে সমুদ্রের তলদেশে নিশ্চিহ্ন
বিস্তারিত
সবচেয়ে বেশি হাসে যে দেশের
‘কোন দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি হাসে?’ এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে
বিস্তারিত
ভালোবেসে পালিয়ে বেড়ানো যুগলেরা
ভারতে বেশিরভাগ পরিবারই নিজেদের ধর্ম ও জাত বা বর্ণের মধ্যেই
বিস্তারিত