শতাব্দী প্রাচীন বুড়িরহাট মসজিদ

অশ্লীলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ

শরিয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ থানার ঐতিহ্যবাহী বুড়িরহাট মসজিদটি জেলার প্রধান আকর্ষণ। এটি ইসলামি স্থাপত্যকলার অন্যতম নিদর্শন। ভেদরগঞ্জের বুড়িরহাট বাজারে এর অবস্থান। অনুমানিক ১০০ বছর আগে মসজিদটি নির্মিত হয় ছবি : আলী হাসান তৈয়ব

অশ্লীলতা ও পর্নগ্রাফি এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, প্রশাসনকে এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হয়েছে। প্রশাসনের এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত ইতিবাচক। এ জাতীয় পদক্ষেপ আরও সম্প্রসারিত হওয়া প্রয়োজন। টিভি চ্যানেলগুলোও যাতে অনুষ্ঠান প্রচারের আড়ালে কোনো ধরনের অশ্লীলতা ছড়াতে না পারে এবং যাত্রা পরিবেশনের নামে যেন নগ্ননৃত্য পরিবেশিত হতে না পারে সে ব্যাপারেও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে

অশ্লীলতা ও পর্নগ্রাফি এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, প্রশাসনকে এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে হাইকোর্ট বাংলাদেশ সরকারকে পর্ন সাইট ও অশ্লীল কনটেন্ট প্রকাশ করা সাইটগুলোকে বন্ধের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ২০ হাজার পর্ন ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। অভদ্র প্রেম নামে একটি অশ্লীল গান ইউটিউবে আপলোড করার পর সালমান মুক্তাদিরসহ অশ্লীলতা প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। অশ্লীল ভিডিও ছড়ানোর জন্য এরই মধ্যে সানাই মাহবুবকে সতর্ক করা হয়। সানাই আর কোনোদিন ফেইসবুক লাইভে এসে অশ্লীল ও আপত্তিকর কর্মকা- করবেন না বলে মুচলেকা দিয়ে পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পান। ইউটিউব চ্যানেল ভাদাইমার সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনজনকে আটকের পর অশ্লীলতা না ছড়ানোর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রশাসনের এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত ইতিবাচক। এ জাতীয় পদক্ষেপ আরও সম্প্রসারিত হওয়া প্রয়োজন। টিভি চ্যানেলগুলোও যাতে অনুষ্ঠান প্রচারের আড়ালে কোনো ধরনের অশ্লীলতা ছড়াতে না পারে এবং যাত্রা পরিবেশনের নামে যেন নগ্ননৃত্য পরিবেশিত হতে না পারে সে ব্যাপারেও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। যেসব সিরিয়াল বিভিন্ন পরকীয়া, যৌন হয়রানি, নানা ধরনের কূটচাল, নারীর বিরুদ্ধে অনৈতিক তৎপরতার নানা ঘটনা দিয়ে ঠাঁসা, সেগুলো যাতে বাংলাদেশে প্রচারিত হতে না পরে সে জন্যও প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। কারণ অশ্লীলতার কারণে সমাজে অনাচার, পরকীয়া, ব্যভিচার ও ধর্ষণের মতো কার্যকলাপ ছড়িয়ে পড়ছে। অশ্লীলতার মরণ ছোবল আমাদের সম্ভাবনাময়ী যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ে অপরাধপ্রবণ করে তুলেছে। 
ইসলাম একটি শালীন ও মার্জিত জীবন ব্যবস্থা। উন্নত নৈতিক মূল্যবোধ ও চারিত্রিক মাধুর্যের ওপর এর নীতি ও আদর্শ প্রতিষ্ঠিত। এখানে অশ্লীল, অশালীন, অসভ্য ও অভদ্র কোনো কিছুর স্থান নেই। অশ্লীলতা তাই, যা মানুষের রিপুকে তাড়িত করে এবং মন-মস্তিষ্ককে যৌনতার ভাবনায় প্রভাবিত করে। অশ্লীলতা অত্যন্ত নিকৃষ্ট ধরনের নৈতিক স্খলন। অশ্লীল ও অশোভন কাজকর্ম মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করে দেয়। যার ফলে মানুষ মনুষ্যত্ব হারিয়ে পশুত্বের অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। মানব জীবনে সামগ্রিক বিপর্যয় সৃষ্টিতে এর সর্বনাশা ভূমিকা অনস্বীকার্য। অশ্লীলতা থেকে মানব সভ্যতাকে বাঁচানোর জন্য ইসলামও অনেকগুলো যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। 
এক. ইসলাম অশ্লীলতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে এবং এর জন্য শাস্তি নিশ্চিত করেছে। এরশাদ হচ্ছে, ‘যেসব লোক চায় যে, ঈমানদার লোকদের সমাজে নির্লজ্জতা বিস্তার লাভ করুক তারা দুনিয়া ও আখেরাতে কঠিন শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।’ (সূরা নূর : ১৯)। হাদিসে এরশাদ হয়েছে, ‘যখন কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে অশ্লীলতা এমনভাবে ছড়িয়ে পড়বে যে, তারা প্রকাশ্যে অশ্লীলতায় লিপ্ত হতে থাকে, তখন তাদের মাঝে এমনসব দুরারোগ্য ব্যাধির সংক্রমণ হবে, যা তাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে ছিল না।’ (ইবনে মাজাহ : ৪০১৯)।
দুই. আল্লাহ তায়ালা সর্বোতভাবে সব ধরনের অশ্লীলতাকে হারাম ঘোষণা করেছেন। ‘নিশ্চয় আমার পালনকর্তা সব প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীলতা হারাম করেছেন।’ (সূরা আরাফ : ৩৩)। 
তিন. শালীনতা অর্জনের জন্য লজ্জাশীলতাকে পরিপূরক করা হয়েছে। লজ্জাশীলতা মানুষকে শালীন হতে সাহায্য করে। ঈমানদার যেন নির্লজ্জ ও অশালীন কার্যকালাপে অংশগ্রহণ করতে পারে না সে জন্য লজ্জা ও শালীনতাকে ঈমানের অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাই মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন, ‘নির্লজ্জতার কাছেও যেও না, প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য।’ (সূরা আনআম : ১৫১)। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘লজ্জা-শরম ঈমানের অঙ্গ।’ (বোখারি : ৯)।
চার. সমাজকে অশ্লীলতামুক্ত রাখার জন্য ইসলাম বিয়ের প্রতি ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করেছে। তাই বিয়ের সব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হে যুব সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যাদের বিয়ে করার সামর্থ্য আছে, তাদের উচিত বিয়ে করা; এটি দৃষ্টিকে নত রাখে এবং যৌনাঙ্গের হেফাজত করে; আর যাদের বিয়ে করার সামর্থ্য নেই তারা যেন রোজা রাখে, কেননা তা যৌন উত্তেজনাকে প্রশমিত করে।’ (বোখারি : ১৬০৬)।
পাঁচ. যে কোনো বিবাহবহির্ভূত যৌনাচারকে ইসলাম জেনা বলে গণ্য করেছে। এর উদ্দেশ্য মানুষকে সব ধরনের অশ্লীলতা থেকে দূরে রাখা। এরশাদ হচ্ছে, ‘দুই চোখের জেনা হলো পরস্ত্রীর প্রতি নজর করা, দুই কানের জেনা হলো যৌন উত্তেজক কথাবার্তা শ্রবণ করা, মুখের জেনা হলো পরস্ত্রীর সঙ্গে রসালো কণ্ঠে কথা বলা। হাতের জেনা হলো পরস্ত্রীকে স্পর্শ  করা এবং পায়ের জেনা হলো যৌনমিলনের উদ্দেশ্যে পরস্ত্রীর কাছে গমন। অন্তরের জেনা হলো হারাম বস্তু কামনা করা। আর যৌনাঙ্গ এগুলো বাস্তবায়ন করে বা মিথ্যা সাব্যস্ত করে।’ (মুসলিম : ৬৯২৫)। দেখা, ছোঁয়া, শোনা ও কথার দ্বারা সংঘটিত জেনাই মূল ব্যভিচার সংঘটিত হওয়াকে বাস্তব রূপ দান করে। তাই জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য এমন সব স্থান থেকে শতহাত দূরে থাকা কর্তব্য, যেসব স্থানে দেখা, ছোঁয়া, শোনা ও ব্যভিচারের সুযোগকে উন্মুক্ত করে।
ছয়. ব্যভিচার করার আগ্রহ তৈরি হতে পারে, এমন কাজের ধারেকাছে যেতেও কোরআন নিষেধ করেছে। ‘আর ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।’ (সূরা ইসরা : ৩২)। 
সাত. সংযমী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়া। কোরআনের নির্দেশনা হচ্ছে, ‘মোমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। ঈমানদার নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের গোপনীয় সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে।’ (সূরা নূর : ৩০-৩১)।
আট. পরিবার ও সমাজের সবাইকে নামাজি হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা। কারণ নামাজ সব অনাচার ও অশ্লীলতা থেকে বাঁচাতে পারে। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ হলো, ‘নামাজ কায়েম করুন। নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে। আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর।’ (সূরা আনকাবুত : ৪৫)। 
ইসলামের এসব পদক্ষেপের আসল লক্ষ্য হলো অশ্লীল কর্মকা-ের যাবতীয় উপায়, উপকরণের মূল উপড়ে ফেলে সুস্থ এবং কল্যাণমূলক সমাজ বিনির্মাণ। 


ভালোবাসায় যত সওয়াব
মানুষের সহজাত একটি প্রেরণা অন্যকে ভালোবাসা। এ ভালোবাসা যদি হয়
বিস্তারিত
ইহরাম অবস্থায় যা কিছু নিষিদ্ধ
হজ পালনে ইচ্ছুক ব্যক্তি হজের নিয়তে ইহরামের পোশাক পরিধান করার
বিস্তারিত
সওয়াল
মুফতি আবদুল মালেক শিক্ষা সচিব, মারকাযুদ্দাওয়া আল ইসলামিয়া, ঢাকা প্রশ্ন : আমি
বিস্তারিত
ক্যাশ ওয়াক্ফ শরয়ি বিধান
ইসলামে ক্যাশ ওয়াক্ফ স্বীকৃত। মিসরে উসমানি যুগেও এর ব্যবহার শনাক্ত
বিস্তারিত
নবীজির ঐতিহাসিক হজ পালন
হজ ইসলামের মৌল পঞ্চস্তম্ভের একটি। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার
বিস্তারিত
সফল জীবনের মূলমন্ত্র
রায়হান রাশেদ    নিখিল জগতের অধিপতি মহান আল্লাহ তায়ালা। জগতের সবকিছু সৃষ্টি
বিস্তারিত