মুখ খুললেন ওসামা বিন লাদেনের মা, জানালেন চমকপ্রদ কিছু তথ্য

বিশ্বের এক সময় সবচেয়ে মোস্ট ওয়ান্টেট সন্ত্রাসী ছিলেন জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার প্রধান নিহত ওসামা বিন লাদেন। সন্ত্রাসী হলেও এই ওসামা বিন লাদেন সৌদি আরবের অন্যতম প্রভাবশালী ও বনেদি পরিবারের ছেলে।

সেই ওসামা বিন লাদেন মার্কিন নেভি সিলের সদস্যদের হাতে নিহত হওয়ার সাত বছর পর তা মা আলিয়া ঘানেম প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমে ছেলেকে নিয়ে কথা বলেছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি লাদেন সম্পর্কে বেশ কিছু অজানা তথ্য জানিয়েছেন। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা ছিলেন।

গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারা জানিয়েছেন কীভাবে লাদেন জঙ্গি হয়ে ওঠেন। তাদের বর্ণনায় উঠে এসেছে সিরিয়ায় কাটানো শৈশব থেকে শুরু করে আফগানিস্তানে সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে তার মুজাহিদ জীবন। আলিয়া ঘানেম ১৯৫০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে সৌদি আরব আসেন। ১৯৫৭ সালে রিয়াদে জন্ম হয় ওসামার। তিন বছর পর ওসামার বাবার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তার।

পরে সবে যাত্রা শুরু করা বিন লাদেন সাম্রাজ্যের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল-আত্তাসকে বিয়ে করেন আলিয়া। ওসামার বাবা ৫৪ সন্তানের জনক হন। তার অন্তত ১১ জন স্ত্রী ছিলেন। ওসামার সত্ভাইদের মাঝখানে বসে আলিয়া নিজের প্রথম সন্তান ওসামাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, লাজুক হলেও সে পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল। ২০ বছরের দিকে সে শক্তিশালী, উদ্যমী ও ধার্মিক ব্যক্তিতে পরিণত হয়।

আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি বলেন, সে আমার কাছ থেকে অনেক দূরে ছিল, তাই আমার জীবন ভীষণ কঠিন ছিল।

সে খুব ভালো ছেলে ছিল এবং আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসত। আলিয়া বলেন, জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময়েই ওসামা উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়েন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকেরাই তাকে বদলে দেয়। সে অন্য রকম মানুষে পরিণত হয়।

ওসামার মা জানান, সে যাদের সঙ্গে মিশেছিল তাদের একজন ছিল মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য আবদুল্লাহ আজ্জাম। পরে এই ব্যক্তিকে সৌদি আরব থেকে নির্বাসিত করা হয়। কিন্তু ততদিনে সে ওসামার আধ্যাত্মিক পরামর্শকে পরিণত হয়েছে। ১৯৮০ দশকের শুরুতে ওসামা আফগানিস্তানে পাড়ি জমান রাশিয়ার দখলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে।

ওসামা জঙ্গি হয়ে উঠতে পারে এমন আশঙ্কা করেছিলেন কখনো এ প্রশ্নের জবাবে আলিয়া বলেন, আমার মাথায় এটা কখনো আসেনি।

যখন বুঝতে পারলেন ওসামা জঙ্গি হয়ে উঠেছিলেন তখন অনুভূতি কেমন ছিল জানতে চাইলে বলেন, আমরা খুব হতাশ হয়ে পড়ছিলাম। লাদেনের মা জানান, ১৯৯৯ সালে পরিবারের লোকজন ওসামার সঙ্গে সর্বশেষ সাক্ষাৎ করেছিল। ওই বছর কান্দাহারের কাছে একটি ঘাঁটিতে পরিবারের সদস্যরা দুবার গিয়েছিলেন।

তবে ওসামার সত্ভাই বলেন, ওসামার জঙ্গি জীবনের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন না মা। ৯/১১ হামলার ১৭ বছর পার হলেও হামলায় ওসামা জড়িত, তা এখনো মেনে নিতে পারেননি মা। আহমেদ বলেন, মা তাকে (ওসামা) খুব ভালোবাসতেন এবং তাকে দায়ী করতে চান না।

তিনি পরিস্থিতিকে দায়ী করতে চান। তিনি শুধু ছেলের ভালো দিক সম্পর্কে জানেন। আমরা সবদিক দেখেছি। কিন্তু তিনি তার জিহাদি দিক সম্পর্কে জানেন না কিছুই।

নিউইয়র্ক থেকে প্রথম যখন হামলার খবর শুনেছিলেন ওই সময়ের কথা জানিয়ে আহমেদ বলেন, আমি খুব আঘাত পাই, স্তব্ধ হয়ে যাই। খুব অদ্ভুত ধরনের অনুভূতি ছিল। আমরা শুরু থেকেই, প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই জানতাম (হামলায় ওসামা জড়িত)।

ছোট থেকে বড় সবাই লজ্জিত ছিলাম। আমরা সবাই জানতাম আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সব দেশ থেকে পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবে চলে এলো।


মুম্বাইয়ে বহুতল ভবনে আগুন, আটকে
ভারতের মুম্বাইয়ের বান্দ্রার এমটিএনএল ভবনে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
বিস্তারিত
চন্দ্রযান-২ রকেটের সফল উৎক্ষেপণ
চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা হল ভারতের চন্দ্রযান-২ রকেট। স্থানীয় সময় দুপুর
বিস্তারিত
সিরিয়ায় রুশ বিমান হামলায় নিহত
সিরিয়ার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় সোমবার এক জণাকীর্ণ বাজারে চালানো রুশ
বিস্তারিত
উত্তর প্রদেশে বজ্রপাত, এক দিনেই
ভারতের উত্তর প্রদেশে বজ্রপাতে ৩২ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার
বিস্তারিত
ইথিওপিয়ায় সংঘর্ষে ১৭ জনের প্রাণহানি
ইথিওপিয়ায় আঞ্চলিক গোষ্ঠীর সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতায় প্রাণ গেছে ১৭
বিস্তারিত
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ব বিবেককে
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নিজেদের পক্ষে যা সম্ভব তার সবকিছুই বাংলাদেশ
বিস্তারিত