একটি অসাধারণ অনূদিত গ্রন্থ

একই লেখকের একই গল্পের অনুবাদ পড়তে পড়তে আমি ক্লান্ত, কিছুটা ক্ষুব্ধও বটে। যেমন এ মুহূর্তে দেখছি সাদাত হোসেন মান্টোর গল্প অনুবাদের চর্বিতচর্বণ চলছে। অথচ মান্টোর গল্প ছাড়াও যে আরও কত ভালো গদ্য আছে, তার হদিসই অনুবাদরা জানেন না। আসলে আগে করা একই গল্পের অনুবাদ দেখে বা জেনে ঠিক সেই গল্পটাই অনুবাদ করছেন নতুন অনুবাদকরা। এসব অনুবাদককে আমার একধরনের অনুকৃতি মনে হয়। এমনও শুনেছি, অন্যের করা অনুবাদকে সামনে রেখে একটু-আধটু অদলবদল করে (শব্দ বা বাক্যাংশ) নতুন অনুবাদ বলে চালিয়ে দেন কোনো কোনো অনুবাদক। তারা ওই লেখকেরই নতুন কোনো গল্প বা গদ্য খুঁজে পান না। কারণ এই নতুন অনুবাদকরা অন্য লেখার খোঁজই জানেন না। মূল বই-ই তাদের কাছে নেই বলে এমনটা হয়ে থাকে। এখানে তাই দেখছি অনুবাদ থেকে অনুবাদ করতে। একমাত্র ব্যতিক্রম চোখে পড়ল আলীম আজিজ অনূদিত ‘জীবন বড় সুন্দর, ব্রাদার’ নামে নাজিম হিকমতের উপন্যাসের অনুবাদ দেখে। কারণ তিনি হিকমতের কবিতা অনুবাদের চর্বিতচর্বণ করেননি। একেবারে উপন্যাস অনুবাদ করে আমাদের চমকে দিয়েছেন। আরেকটা ব্যতিক্রম দেখছি ‘মধ্যপ্রাচ্যের সমকালীন গল্প’ নামের একটি অনুবাদের বই দেখে। এ বইটির গল্পকার ও গল্পগুলো আমাদের একেবারেই অচেনা-অজানা। অথচ যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যে কত ঘটনাই না ঘটে চলেছে। ফিলিস্তিন-ইসরাইয়েলের যুদ্ধ আর বোমা হামলার ঘটনা তো আমাদের মর্মাহত করেই, সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে গত কয়েক দশক ধরে চলছে রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যক্তিক অস্থিরতা আর সংকট। কেউ কি ওদের এই সময়ের গল্পকারদের গল্প অনুবাদের কথা ভেবেছেন? না, ভাবেননি। ওই দেশগুলোর গল্প কেউ এখানে অনুবাদ করেছেন, এমনটা আমার অন্তত চোখে পড়েনি। কিন্তু এবার গ্রন্থমেলায় এক তরুণ, কিন্তু অনুবাদেও কী সিদ্ধহস্ত, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সমকালীন গল্প’ নামে ১২ জন গল্পকারের ১৩টি গল্প অনুবাদ করে আমাকে ভীষণ মুগ্ধ করল। এই তরুণ অনুবাদকের নাম মাইনুল ইসলাম মানিক। তার এ বইতে আছে ইরাক, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, ইরান, কুয়েত, মিসর, জর্ডান ও সৌদি আরবের গল্পকারদের গল্প। আপনি যদি সত্যিকার অর্থেই মধ্যপ্রাচ্যের মানুষদের জীবনযাপন আর খুঁটিনাটি অনুষঙ্গকে জানতে চান, তাহলে আপনার এ বইটি কিনে পড়া উচিত। বোঝা উচিত, শুধু লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা বা ভারত নয়, মধ্যপ্রাচ্যেও অসাধারণ গল্প লেখা হয়। শুধু তাই নয়, ওই অঞ্চলের কোনো কোনো দেশের সরকার যে গল্প প্রকাশের পর সেই গল্পের প্রকাশনাকে বাজেয়াপ্ত বা নিষিদ্ধ করে দেয়, সেই তথ্যও তো আমার জানা ছিল না। ইতঃপূর্বে মাইনুল ইসলাম মানিকের ‘দশ নোবেলজয়ী লেখকের সাক্ষাৎকার’ নামে চমৎকার একটি সাক্ষাৎকারের বই প্রকাশ করেছিল পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স। এবার প্রকাশিত হলো তার একেবারেই ব্যতিক্রমধর্মী কিন্তু উল্লেখযোগ্য এ বইটি। যে দেশগুলোর গল্পকারদের গল্প আমাদের একেবারেই অপঠিত বা অজানা ছিল, সেই দেশের গল্পকারদের গল্পগুলো তিনি অনুবাদ করে পাঠকের সামনে হাজির করলেন। আমি এ তরুণ লেখককে এ জন্য অভিনন্দিত করি। আর আপনারা যারা বিচিত্র ধরনের গল্প পড়তে ভালোবাসেন, তারা বইটি কিনে পড়–ন, দেখুন ওরা কেমন গল্প লেখে, কী তাদের গল্পের বিষয়আশয়, কেমন তাদের জীবনযাপন ও ভাবনা। হ


প্রসন্ন সাঁঝের পাখি ও ভয়াল
পাটাতনে বসে আহত পালাসি-গাঙচিল বিস্ফারিত নয়নে আমাদের দেখছে। ধীরে ধীরে
বিস্তারিত
জল : ০১
কাজল কাননে পায়ের আলোতে রবির ঘুম ভাঙে রোজ যাপিত সংসার সুখ-দুখে
বিস্তারিত
মাঝ রাতে মির্জা গালিবের শের
আরেক বার দেখা হলে অশুদ্ধ কিছু হবে না মহাভারত, চাই
বিস্তারিত
১৪ বছর বয়সি
রেখা এখন ক্লাস টেন, ক্লাস সিক্স থেকে শুরু হওয়া অপেক্ষা
বিস্তারিত
তুমি যদি এসে
এইসব শিশির ভেজা ফসলের মাঠ নতুন ভোরের সোনালি রোদ্দুর  কৃষকের হাসিমাখা
বিস্তারিত
দেহের নিমন্ত্রণে
কেউ ডাকে দেহের নিমন্ত্রণে কেউ প্রেমেরÑ সঙ্গোপনে কেউবা নিছক খেয়ালের বশে
বিস্তারিত