অভিবাদনের নিয়ম-পদ্ধতি

সালাম মুসলমানদের মাঝে ভালোবাসা এবং হৃদ্যতা সৃষ্টি ও বৃদ্ধির কারণ, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেনÑ ‘তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর ঈমানদার হতে পারবে না পরস্পরে ভালোবাসা না হলে। তোমাদের কি এমন একটি বিষয়ের কথা বলে দেব না, যা করলে তোমাদের পরস্পরে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তোমরা পরস্পরের মাঝে সালামের প্রসার ঘটাও।’ (মুসলিম : ৮১)। সালামের প্রত্যেক বাক্যে ১০ নেকি, সালামে মোট তিনটি বাক্য আছে, সুতরাং যে পূর্ণ সালাম দেবে তার ৩০টি নেকি অর্জন হবে 

অভিবাদন জানাব কীভাবে?
দৈনন্দিন জীবনে শিষ্টাচারের আলোচনায় প্রথমে আসে পরস্পরকে সম্ভাষণের বিষয়টি। তাই সালামের ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হয়। আপনি যখন ঘরে প্রবেশ করবেন কিংবা ঘর থেকে বের হবেন, তখন পরিবারের নারী-পুরুষ সবাইকে ইসলামী অভিবাদন ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’ বলবেন। অন্য কোনো অভিবাদন (যেমনÑ সুপ্রভাত, শুভসন্ধ্যা, গুড নাইট, গুড মর্নিং ইত্যাদি) ব্যবহার করবেন না। কারণ সালাম হলো ইসলামের চিহ্ন ও মুসলমানদের পরিচয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর বাণী ও কর্মের মাধ্যমে তা শিক্ষা দিয়েছেন। সালামের পরিবর্তে অন্য কোনো বাক্য ব্যবহার করা ইসলামের একটি  নিদর্শনকে বিলুপ্ত বা অবজ্ঞা করারই নামান্তর। 
আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল (সা.) আমাদের জন্য অভিবাদন জানানোর এমন একটি পদ্ধতি অনুমোদন ও নির্ধারণ করে দিয়েছেনÑ যা আমাদের অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র করে দেয় এবং যা করলে আমাদের জন্য সওয়াব লেখা হয়। বরং সেটিকে এক মুসলমান ভাইয়ের প্রতি অপর মুসলমান ভাইয়ের অধিকার বানিয়ে দিয়েছেন। এই অভিবাদন পদ্ধতিটি নিছক অভ্যাস থেকে একটি এমন আমলে পরিবর্তিত হয়েছেÑ যা বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ এবং রাসুলের নির্দেশ পালনার্থে করে। তাই এই মহান বরকতময় অভিবাদনকে পরিবর্তন করে অন্য কোনো সমঅর্থপূর্ণ শব্দাবলী দ্বারা অভিবাদন জানানো মুসলমানের জন্য কোনোভাবেই শুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সালামের গুরুত্ব : রাসুলুল্লাহ (সা.) এর বিশিষ্ট খাদেম হজরত আনাস (রা.) বলেন, আমাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেনÑ ‘হে বৎস! যখন পরিবারের নিকট যাবে তখন তাদের সালাম দেবে। এটা হবে তোমার এবং তোমার পরিবারের জন্য বরকতের কারণ।’ (তিরমিজি : ২৬৯৮)।
বিশিষ্ট মনীষী তাবেয়ি হজরত কাতাদাহ (রহ.) বলেন, ‘ঘরে প্রবেশ করে পরিবার-পরিজনকে সালাম দেবে। কারণ তারাই তোমার সালাম বা দোয়া পাওয়ার বেশি হকদার।’ (তাফসিরে কুরতুবি, সূরা নূর : ২৭)।
‘হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেনÑ ‘তোমাদের কেউ যখন কোনো মজলিসে উপস্থিত হয় তখন সে যেন সালাম দেয়। তদ্রƒপ যখন মজলিস থেকে বিদায় নেয় তখনও যেন সালাম দেয়। কারণ প্রথম (সালাম) দ্বিতীয় (সালাম) থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয়।’ (তিরমিজি : ২৭০৬)।
সালামের ফজিলত : ইসলামের এ অভিবাদনের অনেক ফজিলত রয়েছে। এটি ইসলামের উত্তম জিনিসের মধ্য থেকে একটি। হাদিসে এসেছেÑ ‘আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে প্রশ্ন করলেন ইসলামের কোন কাজটি সবচেয়ে ভালো? রাসুল (সা.) বললেনÑ খাবার খাওয়ানো এবং সালাম দেওয়া পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে।’ (বোখারি : ২৭)।
সালাম মুসলমানদের মাঝে ভালোবাসা এবং হৃদ্যতা সৃষ্টি ও বৃদ্ধির কারণ, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেনÑ ‘তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর ঈমানদার হতে পারবে না পরস্পরে ভালোবাসা না হলে। তোমাদের কি এমন একটি বিষয়ের কথা বলে দেব না, যা করলে তোমাদের পরস্পরে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তোমরা পরস্পরের মাঝে সালামের প্রসার ঘটাও।’ (মুসলিম : ৮১)।
সালামের প্রত্যেক বাক্যে ১০ নেকি, সালামে মোট তিনটি বাক্য আছে, সুতরাং যে পূর্ণ সালাম দেবে তার ৩০টি নেকি অর্জন হবে। 
ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনÑ এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.) এর নিকট এলো। অতঃপর বললÑ আস্সালামু আলাইকুম, রাসুল তার উত্তর দিলেন, অতঃপর সে বসল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেনÑ ১০ নেকি, অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি এলো। সে বললÑ আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ, রাসুলুল্লাহ (সা.) উত্তর দিলেন, অতঃপর সে বসলো। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেনÑ ২০ নেকি। অতঃপর আরেকজন এলো। সে বললোÑ আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। রাসুলুল্লাহ (সা.) উত্তর দিলেন এবং সে বসল। রাসুল (সা.) বললেনÑ ৩০ নেকি।’ (দারামি : ২৫২৬)
অমুসলিমদের অভিবাদন : বিধর্মীদের সঙ্গে ওঠাবসা এবং লেনদেনের ক্ষেত্রেও রয়েছে ইসলামের সুুনির্দিষ্ট নীতিমালা। কোনো বিধর্মীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তাকে সালাম দেওয়া যাবে না। সালাম শুধু এক মুসলমান ভাই আরেক মুসলমান ভাইকেই দিতে পারে। তবে সে আগে সালাম দিয়ে ফেললে উত্তরে ‘ওয়া আলাইকুম’ বা ‘ইয়াহদিকুমুল্লাহ’ অথবা ‘আসসালামু আলা মানিত্তাবাআল হুদা’ বলবে। তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে সৌজন্য প্রদর্শনস্বরূপ তার কুশলাদি জিজ্ঞাসা করে বা  অন্য কোনোভাবে যেমন হাতের দ্বারা ইশারা করে কুশল বিনিময় করার অবকাশ রয়েছে। তাকে আদাবও বলা যেতে পরে। তবে কোনোভাবেই তাকে নমস্কার বা নমস্তে বলা যাবে না। (ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া : ৬/১২৬;  কিফায়াতুল মুফতি : ৯/১০৬)।


দাজ্জালের ফেতনা থেকে সাবধান
নবী (সা.) তাঁর উম্মতকে ফেতনা থেকে কঠিনভাবে সতর্ক করেছেন। এ
বিস্তারিত
সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম নেই
শ্রীলঙ্কায় নিরাপরাধ মানুষের ওপর নির্বিচার সন্ত্রাসী হামলায় সারাবিশ্বের বিবেকবান মানুষের
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই,
বিস্তারিত
দ্বিতীয় কাতার কোথা থেকে শুরু
প্রশ্ন : নামাজের প্রথম কাতার পূর্ণ হয়ে গেলে দ্বিতীয় কাতার
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বইয়ের নাম : রামাদান উদযাপন রচয়িতা : ড. মাওলানা আবু সালেহ
বিস্তারিত
জীবন পাথেয়
আপনি বিপদে পড়ে সর্বশেষ কবে আল্লাহর কাছে ধরনা দিয়েছেন? আল্লাহর
বিস্তারিত