তরুণদের জাগতে হবে

পশ্চিমা চিন্তা ও দর্শন এবং বস্তুবাদী ব্যবস্থার প্রভাব আমাদের বর্তমানকালকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। বর্তমানকালের পশ্চিমা চিন্তা মানবসভ্যতার ওপর শুধু গভীর প্রভাবই ফেলেনি, বরং মানবজীবনকে তার কাক্সিক্ষত ছকে ফেলে সাজিয়ে নিয়েছে। ফলে মূল্যবোধ ও নৈতিকতা নতুন ধরায় প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। মনুষ্যত্ব ও মানবিকতার বড় ধরনের তাৎপর্যগত পরিবর্তন ঘটেছে। এই কঠিন ও দ্রুত পরিবর্তনশীল সময়ে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসা আমাদের মুসলমান তরুণদের নিয়ে, কারণ তারা এমন একটি ধর্মের অনুসারী, যা চিরকালীন ও বিশ্বজনীন হওয়ার দাবিদার। ইসলাম তার ব্যাখ্যায় ও ব্যাপকতায় অনন্য এবং তুলনারহিত। ইসলামের মধ্যে কোনো অসংলগ্ন বা অসংশ্লিষ্ট বিষয়ের অনুপ্রবেশের সুযোগ নেই। তারপরও মুসলমান তরুণরা সঠিক পথ খুঁজে পাচ্ছে না, তাদের পথচলা অনিবার্যভাবে সত্য ও সুন্দরের অভিমুখে নয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, তারা ইসলামি শিক্ষা ও অভিভাবকত্বের বলয়ে যথাযথ দিকনির্দেশনা না পেয়ে বা পেতে ব্যর্থ ও হতাশ হয়ে পড়েছে এবং পরিণতিতে পশ্চিমা আদর্শ ও শিক্ষা এবং সংস্কৃতির প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। 
আরেকটি ব্যাপার হলো, এই ফেতনা-ফ্যাসাদের যুগে আলেম-ওলামার পক্ষ থেকে উদ্ভূত জিজ্ঞাসা ও সমস্যাগুলোর সমাধান প্রজ্ঞাময় বস্তুনিষ্ঠতা ও সুন্দর পন্থায় প্রদান করা হচ্ছে না এবং মুসলমান তরুণরা তাদের চারপাশের পরিবেশে ইসলামি সভ্যতা ও সংস্কৃতির ঔজ্জ্বল্যও দেখতে পাচ্ছে না। মুসলমান তরুণদের জন্য আকাবির ও আসলাফ এবং মুসলমান মনীষীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার একটিই পন্থা বাকি আছে, তা হলো তাদের রচিত গ্রন্থগুলো পাঠ ও অনুধাবন। তারা তাদের যুগচাহিদা অনুযায়ী গ্রন্থগুলো রচনা করেছিলেন এবং বিদ্যমান জিজ্ঞাসা ও সমস্যাগুলোর সমাধান প্রদান করেছিলেন। কিন্তু পরিবর্তনশীল সময়ের অভিঘাত এবং জীবিকার তাগিদে স্থবির জীবনচক্র তাদের মুসলিম মনীষীদের গ্রন্থগুলো ও চিন্তা থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাও এর জন্য দায়ী; এখানে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব নেই এবং এ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে উঠেছে চাকরি ও টাকা উপার্জন। ফলে সময়ের ঝড় যেদিকেই প্রবাহিত হচ্ছে, মুসলমান তরুণরা মারাত্মকভাবে তার শিকার হচ্ছে। মুসলমান তরুণদের সময়ের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ উত্তাল তরঙ্গ থেকে বাঁচাতে হলে দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা জরুরি।
 ১. দ্বীনের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক।
 ২. নৈতিকতা ও সচ্চরিত্র। 
এ দুটি বিষয় সমাজের ভিত্তি : এ দুটি দ্বারা পার্থিব ও আখেরাতের কল্যাণ অর্জন করা যায়, সুখ ও সৌভাগ্য লাভ করা যায় এবং ফেতনা-ফ্যাসাদ ও অনিষ্ট থেকেও বেঁচে থাকা যায়। কোনো আবাসস্থল ওই জায়গার বাসিন্দাদের দ্বারা আবাদ হয়; কোনো জায়গায় যদি মানুষজন না থাকে, প্রাণের উত্তাপ না থাকে, তাহলে একে বিরানভূমি বলা হয়। তেমনি দ্বীনও দ্বীনদারদের আমল ও কাজের দ্বারা সজীব ও প্রাণবন্ত থাকে। কোনো ধর্ম মানুষের দ্বারা পালিত না হলে ধীরে ধীরে তা বিকৃতি ও বিপুপ্তির পথে পর্যবসিত হয়। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেছেনÑ ‘হে মোমিনরা, তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো; তবে আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করবেন এবং পদগুলো দৃঢ় রাখবেন।’ (সূরা মুহাম্মদ : ৭)।
দ্বীন শুধু দ্বীনদারদের দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত হতে পারেÑ এই তত্ত্ব বোঝা কঠিন কিছু নয়। সুতরাং যারা ইসলামের অনুসারী ও ইসলামের ঝা-া বহন করেন তাদের জন্য আবশ্যক হলো নিজেদের মধ্যে দ্বীনের সার্বিক কর্ম প্রতিষ্ঠিত করা এবং সচল রাখা। পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধিত্বের জন্য এটাই প্রথম ও প্রধান শর্ত। আল্লাহর কিতাব ও রাসুলের সুন্নাহর জ্ঞান অর্জন, ওই জ্ঞানকে কর্মে রূপান্তর করা এবং মানুষের মধ্যে দাওয়াতের কাজ অব্যাহত রাখা আল্লাহর প্রতিনিধিদের দায়িত্ব। অবশ্যই আলেমরা আল্লাহর প্রতিনিধিদের অগ্রগামী দল এবং তাদের অবশ্যই নেতৃস্থানীদের ভূমিকা পালন করতে হবে। তারাই মুসলমান তরুণদের সত্য ও সুন্দরের পথে পরিচালিত করবেন। 
দ্বীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন এবং সচ্চরিত্র ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে তরুণদের ব্যাপারে উৎসাহমূলক কর্মপন্থা অবলম্বন করা উচিত। কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ, কোনটা কল্যাণকর আর কোনটা অনিষ্টকরÑ এ ব্যাপারে তারা নিজেরাই যেন চিন্তাভাবনা করতে পারে এবং ভালো কাজের প্রতি উৎসাহিত বোধ করে এবং মন্দ কাজ পরিত্যাগ করে। আজ যারা মুসলিম তরুণ তারাই আগামী দিনের মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ। তারাই উম্মাহকে নেতৃত্ব দেবে। সুতরাং কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে তাদের অন্তর আলোকিত হওয়া জরুরি। তারা যদি নিজেদের পরিশুদ্ধ করে তোলে, নৈতিকতা ও সচ্চরিত্রতার সঙ্গে দায়িত্ব এবং কর্তব্যবোধকে সচল রাখে, তাহলে মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল ও গতিময় এবং তারাই বিশ্বের নেতৃত্বে আসীন হবে।


দাজ্জালের ফেতনা থেকে সাবধান
নবী (সা.) তাঁর উম্মতকে ফেতনা থেকে কঠিনভাবে সতর্ক করেছেন। এ
বিস্তারিত
সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম নেই
শ্রীলঙ্কায় নিরাপরাধ মানুষের ওপর নির্বিচার সন্ত্রাসী হামলায় সারাবিশ্বের বিবেকবান মানুষের
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই,
বিস্তারিত
দ্বিতীয় কাতার কোথা থেকে শুরু
প্রশ্ন : নামাজের প্রথম কাতার পূর্ণ হয়ে গেলে দ্বিতীয় কাতার
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বইয়ের নাম : রামাদান উদযাপন রচয়িতা : ড. মাওলানা আবু সালেহ
বিস্তারিত
জীবন পাথেয়
আপনি বিপদে পড়ে সর্বশেষ কবে আল্লাহর কাছে ধরনা দিয়েছেন? আল্লাহর
বিস্তারিত