সংবর্ধনার নামে চেয়ারম্যানের এ কেমন আচারণ?

পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আবুল কালাম। সম্প্রতি তার কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, তিনি এক নারীকে জড়িয়ে ধরে আছেন। কিন্তু ওই নারী তার জড়িয়ে ধরায় সস্তিবোধ করছেন না!

ছবিগুলো নিয়ে আপত্তি তুলেছেন অনেকেই। চেয়ারম্যানের চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলছেন, ভোটে জয়ী হওয়ার পর তাকে সংবর্ধনা দেয়ার সময় এক বিধবা নারীকে তিনি সান্তনা দিচ্ছিলেন। এ সময় ওই নারীর পরিবারের সবাই উপস্থিত ছিলেন। এতে তার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না।

জানা যায়, গত ১০ মার্চ নির্বাচিত হওয়ার পর আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালামকে উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের মেরিন চর এলাকায় সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। ওই সংবর্ধনায় তিনি স্থানীয় এক মুরুং তরুণীর সঙ্গে ‘অশালীন’ ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন চেয়ারম্যান।

ছবিটি নিয়ে সালেহ্ রনক নামের একজন ‘দেখা থেকে লেখা :২২’ শিরোনামে ফেসবুকে লেখেন, “জানোয়ার যখন জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পায়, জনগণ যখন ভুল করে ভুল মানুষকে জননেতা বানায়, তখন জনগনের যন্ত্রণার আর শেষ থাকে না। আবারও তার প্রমাণ হলো বান্দরবানের আলী কদম উপজেলায়।”
 
পলাশ রহমান নামে একজন ইতালী প্রবাসী কলামিস্ট লিখেছেন, অশ্লীল ভাবে জড়িয়ে ধরা মেয়েটার ছবি প্রকাশ করা ঠিক হয়নি। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা মানে ভিকটিমকে অসম্মান করা নয়। অন্তত তার চেহারা ঢেকে দেয়া দরকার ছিল। আমাদের আদালত তো উপযাচক হয়ে কতো কিছু করে, বলে। ওই অশ্লীল লোকটার জনপ্রতিনিধিত্ব কেড়ে নিয়ে তাকে আজীবনের জন্য সকল প্রকারের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষনা করার একটা নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। নারী নির্যাতনের দন্ডবিধিতে তার শাস্তি দাবি করছি।

ওমর ফারুক আজাদ নামে একজন সংবাদিক লিখেছেন, নারীটির চোখেমুখে ভয় আতঙ্ক আর লজ্জার ছাপ। না কইতে পারছেন না পারছেন সইতে। কারন তাকে জোরপুর্বক অশ্লীল ভঙ্গিতে জড়িয়ে ধরছে মনুষ্য চেহারার এক নরপশু। সে পশুটির নাম আবুল কালাম। তার প্রশাসনিক পরিচয় সে বান্দরবন জেলার আলী কদম উপজেলার নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান। আর যে নারীটি এমন যৌন শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন তিনি ক্ষুদ্র নৃ-গোস্টি ম্রো জাতির। বিজয় শুভেচ্ছা গ্রহণকালে জোরপুর্বক এভাবে বিভিন্ন ভঙ্গিতে তার ইচ্ছার বিরোদ্ধে অশ্লীল ভঙ্গিতে জড়িয়ে ধরে লম্পট আবুল কালাম। এই বদমায়েশকে জনপ্রতিনিধি না বলে যৌন প্রতিনিধি বলায়ই যুক্তিযুক্ত। লম্পট আবুল কালামের এই পাশবিক কর্মকান্ডে তার বিচার আর অপসারণ চাইবোনা। কারণ দেশটা এখন মগের মুল্লুক থেকে কয়েক ধাপ উন্নতি করেছে। যে দেশে একজন মাকে গণধর্ষণের আসামি জামিন পায় সে দেশে যৌন নিপিড়নের বিচার চাওয়া বোকামি। করণীয় একটাই। এসব লুচ্চা,বদমায়েশ ও লম্পটদের সামাজিকভাবে ঘৃণা করা। পারলে তার উপজেলার জনগণ গাছে গাছে জুতার মালা সম্বলিত ব্যানার, প্যাস্টুন লাগিয়ে অভিনব ঘৃণা ও প্রতিবাদের প্রকাশ ঘটাতে পারেন।

খালেদুর রহমান নামে একজন লিখেছেন, কোথাও কোনো পরিত্রাণ নেই। পাড়ায় মহল্লায় অলিতে গলিতে রাজনৈতিক বেশ্যাদের বিচরণ আলোরা সবগুলি প্রস্থান করেছে পৃথিবী থেকে। একের পর এক বেশ্যাদের চরিত্র আমার ব্রেন ছিদ্র করে আঘাত হানে ডালিম নামক প্রানে।আজ সবুজ আছে তবু সবুজ নেই নীলাকাশ নেই অন্যায় অত্যাচার দেখতেদেখতে ইট ভাটায় পরিনত হয়েছে মগজ।যেখানে শুধু পুড়াগন্ধ মাঝেমাঝে খুব ইচ্ছেকরে জীবন থেকে অবসরে যাই কিন্তু সেটা পাপ বড়ই পাপ! এই রাজনৈতিক বেশ্যা আবুল কালাম সাহেব( নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান)বান্দরবন জেলার আলিকদম উপজেলা একজন জনপ্রতিনিধি কখনো এইভাবে একজন নারীকে জড়িয়ে ধরতে পারেননা ওই নারীর অনুমতি ছাড়া। কান্ড জ্ঞানহীন ও লুচ্চামি ব্যাক্তি ছাড়া কখনো একজন নারীকে এইভাবে জড়িয়ে ধরতে পারেনা। এটি সম্পৃর্ণ শ্লীলতাহানি ও নারী সমাজকে অবমূল্যায়ন করা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুরো ব্যাপারটা ভাইরাল হয়ে আছে। অসংখ্য মানুষ তাদের আইডি থেকে বিষয়টা নিয়ে প্রতিবাদ করছেন।

তবে এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে আলিকদম উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম বলেন, “কুরুক পাতা ইউনিয়নের মেরিন চর এলাকায় আমাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। সেখানে হাজার হাজার মানুষ আমাকে সংবর্ধনা দিয়েছে। যে মেয়ের সঙ্গে ছবি তুলেছি, তার পরিবারের সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই আমার পারিবারিক সম্পর্ক। মেয়েটিকে আমি ছোটবোনের মতো দেখি। এখানে জোর করে ছবি তোলা হয়নি। আজও বোনের মতোই তাকে সান্ত্বনা দিয়ে ছবি তুলেছি।” 

“এ ছবি তোলার সময় পাশেই তার মা, বাবা ও বড় ভাই ছাড়াও পাড়ার শত শত লোকজন ছিল। আমি যে ছবি তুলেছি তা নিয়ে তার পরিবারের বা পাড়ার কারও কোনো ধরনের আপত্তি ছিল না। তাছাড়া আমি এ উপজেলায় দীর্ঘ কয়েক বছর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলাম, এখনও আছি। এ উপজেলার সব মানুষ আমাকে চেনে। আমার এ বোনটি নির্বাচনের সময় আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছে, কেঁদেছেও। আর আমি তাকে এভাবে শত শত মানুষের সামনে সান্ত্বনা দিয়েছি। আমাদের ভাই-বোনকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করলে আমি তার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করবো।”

ছবিগুলো ফেসবুকে ভাইরাল করে প্রতিপক্ষ ফায়দা লুটছে মন্তব্য সোমবার রাত ২টার দিকে একটি স্ট্যাটাস দেন আবুল কালাম। তিনি লেখেন, “যে ছবিটি নিয়ে আমার বিরোধী পক্ষ একটি সাম্প্রদায়িক এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টা করছেন। সেই ছবিটি আমার নির্বাচনের একজন একনিষ্ঠ কর্মীর। নির্বাচনের সময় তারা আমার পক্ষ অবলম্বন করার কারনে অনেক হয়রানির শিকারও হয়েছে। তাদের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক। মেয়েটি আমাকে দেখামাত্র আবেগাপ্লুত হয়ে জড়িয়ে ধরে।” 

“আমিও সরল বিশ্বাসে তাকে জড়িয়ে ধরে শত মানুষের সামনে ছবি তুলি। এখানে লুকোচুরি, অসৎ উদ্দেশ্য বা নারী পুরুষের সম্পর্ক যারা খুঁজবে, তারা আসলে সাম্প্রদায়িক এবং হিংস্র। নির্বাচনে পরাজিত পক্ষ এবং কিছু উগ্র সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি এই সরল, প্রকাশ্য ব্যাপারটাকে আমার বিপক্ষে প্রতিশোধ হিসাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এটা নিয়ে জল ঘোলা করার চেষ্টা করা হচ্ছে তাই ছবিগুলো সরিয়ে নিলাম। এরকম আরো অনেক ছবি শেয়ার দিলাম। পরাজয়ের বেদনা ঢাকতে যারা এসব নিয়ে প্রতিহিংসার রাজনীতিতে নেমেছেন, তাদের জন্য সমবেদনা।”

তবে এ বিষয়ে মেয়েটির বা তার পরিবারের এখনো কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে শমী কায়সারকে
সাংবাদিকদের সঙ্গে অভিনেত্রী এবং ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) প্রেসিডেন্ট
বিস্তারিত
নুসরাত হত্যায় পাহারার দায়িত্বে থাকা
ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মহিউদ্দিন শাকিল
বিস্তারিত
চকরিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের উপজেলা প্রশাসনের
চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সুধাশু পাহাড়স্থ হিন্দুপাড়া
বিস্তারিত
প্রতারণার অভিযোগে চক্ষু চিকিৎসককে লাখ
পাবনার চাটমোহরে চক্ষু ক্যাম্প চলাকালে মোহাম্মদ আলী (বিএমডিসি রেজিঃ নং
বিস্তারিত
একযুগ বিনাবিচারে কারাগারে আবু হানিফা!
বরগুনা জেলা কারাগারে ১২ বছর যাবৎ বরগুনার পাথরঘাট উপজেলার উত্তর
বিস্তারিত
রংপুরে সাবেক ৬০ সেনাসদস্যকে কারাগারে
রংপুরের ডিসি অফিসের অফিস সহকারী সামসুলের মাধ্যমে ভুয়া অস্ত্রের লাইসেন্স
বিস্তারিত