পশ্চিমা বিশ্বে মুসলিম সম্প্রদায়

সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে মুসলিমদের ওপর ভয়ানক জঙ্গি হামলাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা বিশ্বে মুসলমানদের অবস্থান নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। সেখানে কি মুসলিমরা নিরাপদ? অদূর ভবিষ্যতে কি অস্তিত্ব সংকটে পড়তে যাচ্ছে তারা? নাকি পশ্চিমা দুনিয়ায় কখনও কখনও প্রকাশ্য সন্ত্রাসী হামলার শিকার হওয়া মুসলিমরা সবসময়ই অপ্রকাশ্য মিডিয়া সন্ত্রাসের শিকার হয়ে থাকে সেখানে?
এলবিসিআই চ্যানেলের এক জরিপে পশ্চিমা বিশ্বে মুসলিমদের অবস্থান সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হয়েছে। লেবানন ভিত্তিক এ টিভি চ্যানেলে প্রকাশিত পরিসংখ্যানটিতে দেখা গেছে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে ২০ মিলিয়ন মুসলমানের বসবাস। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুসলমানের বসবাস ফ্রান্সে। সেখানকার জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ মুসলিম। এছাড়া জার্মানে ৬.৫ শতাংশ, বেলজিয়ামে ৬ শতাংশ, সুইডেনে ৬ শতাংশ, পোল্যান্ডে ৫.৫ শতাংশ, ব্রিটেনে ৪.৮ শতাংশ ও ইতালিতে ৪ শতাংশ।
তবে সংখ্যালঘিষ্ঠ এ মুসলিম জনগোষ্ঠী পুরোপুরি নিরাপদ নয় সেখানে। নানা বৈষম্যসহ প্রতিনিয়তই মিডিয়ার অপপ্রচারের শিকার হন তারা। এখানকার অধিকাংশ মুসলিম অভিবাসী হওয়ায় স্থানীয়দের নানা কটূক্তি শুনতে হয় তাদের। বেশির ভাগ ইউরোপিয়ান নাগরিক অভিবাসীদের আগমন ঠেকাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম নিষেধাজ্ঞার মতো নিষেধাজ্ঞার পক্ষেও মত দিয়েছেন এরই মধ্যে। রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স কর্তৃক পরিচালিত একটি জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপটিতে ইউরোপের ১০টি দেশের নাগরিকদের মধ্যে ৫৫ শতাংশই মনে করেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর অভিবাসীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা একান্ত প্রয়োজন।
গেল ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডে ঘটিত সন্ত্রাসী হামলা মুসলমানদের প্রতি অভিবাসন বিরোধীদের ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। হামলার আগে হামলাকারী ব্রেনটন ট্যারেন্টের শেয়ারকৃত দীর্ঘ বার্তা থেকে এটি পরিষ্কার। এছাড়া ট্যারেন্টের এ ম্যানিফেস্টো থেকে বোঝা যায়, সে শ্বেতাঙ্গ ও ট্রাম্পের একজন চরমপন্থি সমর্থক এবং ট্রাম্পের নিয়মনীতি ও মনোভাব তার কাছে প্রিয়। এভাবেই ট্রাম্পের মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাব ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বে আর সেটির বলি হচ্ছে নিরপরাধ মুসলিমরা। ২০১১ সালে এরকমই আরেকটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল নরওয়েতে। যেখানে অ্যান্ড্রেস প্রেপেক নামক এক লোক ৭৭ জন নিরপরাধকে হত্যা করে। মুসলিম শরণার্থীদের ব্যাপারে তার দেশের সরকারের উদার মানসিকতার বিরুদ্ধাচরণ করতেই সে এ হামলা পরিচালনা করে। এতে বোঝা যায়, পশ্চিমা বিশ্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে মুসলমানদের গুরুত্ব যেমনই থাকুক না কেন, স্থানীয়রা মুসলমানদের মেনে নিতে চায় না। যদিও সম্প্রতি দেখা গেছে, অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে শিথিল হয়েছেন বিশ্বনেতাদের কেউ কেউ। এমনকি ট্রাম্পও সরে এসেছেন তার কঠোরতা থেকে। গেল ২০ জানুয়ারি বিবিসির সূত্রে জানা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন নীতির সঙ্গে আপসের কথা বলেছেন। হোয়াইট হাউস থেকে ট্রাম্প বলেছেন, প্রায় ১০ লাখ অভিবাসীকে বহিষ্কারের হুমকি তিনি প্রত্যাহার করে নেবেন। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যে তরুণরা রয়েছে, তারাও এর আওতায় পড়বে। তিনি আরও বলেছেন, মানবিক সাহায্যের জন্য ৮০০ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে। একইসঙ্গে সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য একই পরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে। এই অর্থ সীমান্তে অতিরিক্ত ২ হাজার ৭৫০ নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগে সহায়তা করবে।
এতসব আইন আর নেতানেত্রীদের বক্তব্যের পরও পশ্চিমা বিশ্বে এখনও অভিবাসন বিশেষত মুসলিম অভিবাসন একটি অমীমাংসিত বিষয়ই রয়ে গেছে।
অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্ব থেকে মুসলমানদের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি ঠেকাতে ব্যবহার করা হচ্ছে মিডিয়া। ইসলামকে সেখানে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বিশ্বাবাসীর কাছে মুসলমানদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে। অথচ লেবানন ভিত্তিক এ টিভি চ্যানেল এলবিসিআই- এ উঠে এসেছে এক ভিন্ন তথ্য। 
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইউরোপোলের করা এক জরিপ মতে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলোতে যেসব সন্ত্রাসী হামলা ঘটেছে তার মাত্র ২ শতাংশ ঘটিয়েছে মুসলিম আর বাকি ৯৮ শতাংশই ঘটিয়েছে অমুসলিমরা। 
আমেরিকাতেও নর্থ কেরোলিনা ইউনিভার্সিটির একটি পরিসংখ্যান মতে, নাইন-ইলেভেনের ঘটনার পরে মুসলমানদের সঙ্গে সম্পৃক্ত দুর্ঘটনায় মাত্র ৩৭ জন মারা গেছে, অন্যদিকে ১ লাখ ৯০ হাজার জন আমেরিকান মারা গেছে অমুসলিমদের আক্রমণে। এসব পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে আমেরিকার ডেইলি বিস্ট পত্রিকা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যে, আমেরিকা এবং ইউরোপে অধিকাংশ সন্ত্রাসী কর্মকা- অমুসলিমরাই ঘটিয়ে থাকে, মুসলিমরা নয়। বরং মিডিয়ার অপপ্রচারের কারণেই মুসলিমদের প্রতি এমন ভুল ধারণা করা হয়ে থাকে।
গঁংষরসং ধৎব হড়ঃ ঃবৎৎড়ৎরংঃং, ঃবৎৎড়ৎরংঃং যধাব হড় ৎবষরমরড়হ. 


দাজ্জালের ফেতনা থেকে সাবধান
নবী (সা.) তাঁর উম্মতকে ফেতনা থেকে কঠিনভাবে সতর্ক করেছেন। এ
বিস্তারিত
সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম নেই
শ্রীলঙ্কায় নিরাপরাধ মানুষের ওপর নির্বিচার সন্ত্রাসী হামলায় সারাবিশ্বের বিবেকবান মানুষের
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই,
বিস্তারিত
দ্বিতীয় কাতার কোথা থেকে শুরু
প্রশ্ন : নামাজের প্রথম কাতার পূর্ণ হয়ে গেলে দ্বিতীয় কাতার
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বইয়ের নাম : রামাদান উদযাপন রচয়িতা : ড. মাওলানা আবু সালেহ
বিস্তারিত
জীবন পাথেয়
আপনি বিপদে পড়ে সর্বশেষ কবে আল্লাহর কাছে ধরনা দিয়েছেন? আল্লাহর
বিস্তারিত