চবির ইন্সটিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের চার দিনব্যাপী শিক্ষা সফর

জাদুর গাড়ি চলছে দুপাশে সবুজ চাদরে বেষ্টিত নিকষ কালো পিচ ঢালা রাস্তা ধরে। সবাই অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুণছে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণীদের সাথে মিতালি গড়তে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত দেখতে, 'বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইন্সটিটিউট' দেখতে, দারুচিনি দ্বীপ খ্যাত সেন্টমার্টিন্স আইল্যান্ডের দ্বীপবাসীদের সাক্ষাতে মেতে উঠতে। মানুষ যখন বৃদ্ধ হয়, কর্মব্যস্ত জীবনে আবদ্ধ হয়ে যায় তখন সে খুঁজে বেড়ায় সুখের স্মৃতিগুলোকে। সে মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষা সফরে কাটানো সময়ের স্মৃতি রোমন্থন করতে কারোরই খারাপ লাগবে না। জীবনের বৈচিত্র্য বাড়াবার জন্যে এসময়ের শিক্ষা সফর অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে। মেরিন সায়েন্স ভ্রমণবান্ধব বিষয় বলেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য সব ইন্সটিটিউটআর ডিপার্টমেন্ট এর কাছে পরিচিত। ভর্তি হবার পরপরই সবার চোখ থাকে কখন উত্তাল সাগরের সাথে বন্ধুত্ব গড়বে। ভ্রমণের পাশাপাশি যদি ল্যাবে করা কাজগুলো সমুদ্রে অন শিপ বা অন বোট করার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হয় তবে ভ্রমণের আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে উঠে। যা দেখছি তা না শিখে ছাড়ছি না এমন আত্মতৃপ্তি আসে। 

এমন একটি অসাধারণ স্মৃতি স্মৃতির ডালায় তুলতে ৪ দিনব্যাপী শিক্ষা সফরের আয়োজন করে প্রকৃতির নিসর্গ খ্যাত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব মেরিনসায়েন্সস পরিবারের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা। আর এই দীর্ঘ যাত্রা ছিল বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক আর কক্সবাজার হয়ে সেন্টমার্টিন্স আইল্যান্ড আর ছেঁড়াদ্বীপের দিকে।

১৮ মার্চ, ২০১৯ তারিখ রবিবার দিনের সূর্যের আলো প্রখর হওয়ার পূর্বেই শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাস যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এর মূল ফটকের গোড়া থেকে। ক্যাম্পাস থেকেই আমাদের সাথে যোগ দেন ভ্রমণ পিপাসু শিক্ষক শ্রদ্ধাভাজন প্রফেসর ড. শফিকুল ইসলাম। নগরীর শপিং কমপ্লেক্স এলাকা থেকে যুক্ত হন আমাদের আরেক শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক ফাইজ মুহাম্মদ তাইমুর। একই জায়গায় সকালের নাস্তা করে বাস আবার আমাদের প্রথম গন্তব্য বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের দিকে যাত্রা শুরু করে।

বাসের মাঝেই শুরু হয় আমাদের নাচ, গানের আসর। বাংলা থেকে হিন্দি কোন ধরণের জনপ্রিয় গানই বাদ পরলো না আমাদের প্লেলিস্ট থেকে। সাথে চলতে থাকলো ভবিষ্যৎ মেরিন সায়েন্টিস্টদের পাগলা নাচ। আমাদের সম্মানিত শিক্ষক মহোদয়ের অবাচনিক যোগাযোগের মাধ্যম আমাদের জানান দিলো আমাদের আনন্দ-উল্লাসে তাদের কোন সমস্যা হচ্ছে না বরং তারা উপভোগই করছিলেন আমাদের উল্লাস। 

অনেক মজমাস্তি করে পথ এগােতে এগােতে আমরা বেলা ১০টা ৫০ নাগাদ আমরা পৌঁছলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে। সম্মানিত শিক্ষক মহোদয়গণ টিকিট সংগ্রহ করাকালীন আমরা অপেক্ষা করছিলাম বন্যপ্রাণীদের সাথে দেখা করার জন্য, অপেক্ষার সময় যেন শেষ হচ্ছিল না আমাদের।

টিকিট সংগ্রহের পরই আমরা পকেট গেইট দিয়ে ঢুকে পরলাম প্রকৃতির অভয়ারণ্যে। শিক্ষক মহোদয়গণ আমাদের ধারণা দিচ্ছিলেন প্রাণীদের ইকোলজিক্যাল হ্যাবিট্যাট, খাদ্যাভ্যাস আর জীবণচক্র সম্পর্কে। আমরা দেখতে পেলাম কাছিম, অজগর, অতি বিপন্ন উল্টোলেজী বানর, বাংলাদেশে বিপন্ন কালো মথুর, গ্রিফন শকুন, লামাচিতা, আসামী বানর, ময়ুর, জেব্রা, বাঘ আর সিংহদের। দেখলাম ক্ষুধাতুর হিংস্র বাঘদের খাবার গ্রহণের দৃশ্য। তখন অন্তর দোলা দিচ্ছিল এই ভেবে যে,  ছোটবেলায় বই পড়ে ডায়রির পাতায় লিখে রাখা স্বপ্নের বাস্তব রূপ চক্ষুষ্মান। এরকম শত স্বপ্নের স্মৃতিচারণ করতেই স্যারদের নির্দেশ আমাদের কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে আবার যাত্রা শুরু করতে হবে। আমরা দেরি না করেই আবার বাসে সবাই নিজ নিজ আসন গ্রহণ করলাম। বেলা ২টায় পৌঁছলাম কক্সবাজারে। সেখানে হোটেলে চেক ইন করে দুপুরের খাবার গ্রহণ করে আমরা বাসে উঠলাম।

এবার লক্ষ্য বাংলাদেশের প্রথম সমুদ্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইন্সটিটিউট' । সেখানে একজন সায়েন্টেফিক অফিসার আমাদের 'বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ সেন্টার' এর ভিশন, প্রতিষ্ঠার একবছর এর মাঝে তাদের অর্জন, এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা বিষয়ক প্রেজেন্টেশন এবং এর শেষে চলল সমুদ্রবিষয়ক প্রশ্নোত্তর পর্ব।

বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইন্সটিটিউট থেকে কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে আমরা ইনানী বিচ এ সানসেট উপভোগ করলাম এবং জনসচেতনতা মূলক কাজ বিচক্লিনিং কর্মসূচী পালন করে বাস চলল আবার তার পুরনো গন্তব্যে। কক্সবাজার পৌঁছে রাতের খাবার গ্রহণ করা এবং সমুদ্রে ঢেউয়ের গর্জন শোনার মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা সফরের প্রথম দিন শেষ করলাম।

১৯ মার্চ, ২০১৯ তারিখ। ফজরে মুয়াজ্জিনের আজানের আওয়াজ কানে আসার পূর্বেই সবাই প্রস্তুত শিক্ষা সফরের দ্বিতীয় দিনের লক্ষ্য দারুচিনি দ্বীপের পথে যাত্রা শুরুর জন্য। ঘড়ির কাঁটা যখন ভোর ছয়টায় দুলছিল তখন আমাদের বহনকারী বাসের ইঞ্জিনের ঘুম ভাংলো। সামান্য শুকনো খাবার মুখে পুরে আমদের যাত্রা শুরু। 

লেখক: শিক্ষার্থী, ইন্সটিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।


পায়ে লিখেই জীবন গড়ার স্বপ্ন
মানুষ যেকোনও লেখালেখির কাজ সাধারণত হাত দিয়েই করে থাকে। হতে
বিস্তারিত
বিরিয়ানির হাঁড়িতে লাল কাপড় থাকে
বিরিয়ানি পছন্দ করেন না এমন লোক বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া কষ্ট
বিস্তারিত
ফের প্রকৃতির বুকে বিলুপ্ত হয়ে
প্রায় ১ লক্ষ ৩৬ হাজার বছর আগে সমুদ্রের তলদেশে নিশ্চিহ্ন
বিস্তারিত
সবচেয়ে বেশি হাসে যে দেশের
‘কোন দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি হাসে?’ এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে
বিস্তারিত
ভালোবেসে পালিয়ে বেড়ানো যুগলেরা
ভারতে বেশিরভাগ পরিবারই নিজেদের ধর্ম ও জাত বা বর্ণের মধ্যেই
বিস্তারিত
পৃথিবীর যে ৯টি ছবি আজও
বলা হয়ে থাকে, একটি ছবিতে যা প্রকাশ করা যায়, তা
বিস্তারিত