আমাদের ঐতিহ্য বাংলা নববর্ষ

বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম আকর্ষণ চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা ছবি : গাজী মুনছুর আজিজ

ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ একটি প্রবন্ধ লিখলেন, যার নাম ‘বাঙালি জাতির এক বা একাধিক উৎসব চাই’। তিনি লিখলেন, ‘পহেলা বৈশাখ বাঙালির জাতীয় উৎসব হলে জাতিধর্ম নির্বিশেষে সবার মিলিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।’ আমাদের মধ্যযুুগেও যে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হতো, সে সম্পর্কে মধ্যযুগের সাহিত্য সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ প্রফেসর আহমদ শরিফ বলেছিলেন, ‘মধ্যযুগেও আমাদের দেশে নববর্ষের উৎসব হতো। শাসকগোষ্ঠীও উদযাপন করত নওরোজ। কিন্তু আমাদের মধ্যযুগীয় চেতনায় এর গুরুত্ব যতটা বৈষয়িক ছিল, মানবিক ছিল না ততটা এবং এর পার্বণিক প্রকাশ নিষ্প্রাণ রেওয়াজে ছিল সীমিত, কখনও তা মানস বিকাশের সহায়ক হয়ে ওঠেনি। স্থিতিশীলতার সঠিক মধ্যযুগীয় মানুষ তাই জন্মদিন পালন করত না, মৃত্যুদিবসই স্মরণীয় করে রাখার প্রয়াসী ছিল। জন্মোৎসবে আমাদের আগ্রহ জাগে প্রতীচ্যভাবে। জন্ম ও জীবনের মহিমা প্রতীচ্য প্রভাবেই আমাদের হৃদয়বেদ্য হয়ে ওঠে।’

ধর্ম আর জাতি সম্পর্কে আমাদের মনে এক ধরনের ধারণা কাজ করে, যার সঙ্গে এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ (অন্তত আমাদের জন্য) বিষয়ের সম্পর্ক অত্যন্ত ক্ষীণ। এসব কারণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জাতি শব্দটি ব্যবহার না করে নেশন লেখার পক্ষপাতী ছিলেন আর আল্লামা ইকবাল সরাসরি পশ্চিমা কনোটেশনকে এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, আর পশ্চিমা গণতন্ত্র সম্পর্কে তার তা বিন্দুমাত্র আস্থা নেই, নির্দ্বিধায় তার পায়ামে মাশরেকের অনেক কবিতায় তা ব্যক্ত করেছেন।
আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় শেরেবাংলা সম্পর্কে বেশ জোর দিয়েই লিখেছিলেন, ‘ফজলুল হক সাহেব শতভাগ বাঙালি এবং শতভাগ মুসলমান, স্মৃতি থেকে লিখলাম, ভুলত্রুটি মার্জনীয়।’ তবে স্বয়ং শেরেবাংলার এ বিষয়ে সংশয় ছিল, তিনি অকপটে কবুল করেছেন যে, তিনি বুঝতে পারেন না, তিনি কতটা মুসলমান আর কতটা বাঙালি। না, আর দৃষ্টান্ত বাড়িয়ে লাভ নেই। শেরেবাংলা যখন বঙ্গদেশের (অবশ্যই যুক্ত বঙ্গের) প্রধানমন্ত্রী (সে সময় বেঙ্গলের প্রাইম মিনিস্টারকে তাই বলা হতো, মুখ্যমন্ত্রী বা উজিরে আলা নয়) সে সময় লাহোরের মুসিলম লীগ অধিবেশনে যে ঐতিহাসিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাকেই ঢোল-সোহরত করে পাকিস্তান প্রস্তাব বলা হয়ে থাকে। ইংরেজি ভাষায় দ্বিবচন নেই, তাই ছিল স্টেটস, ১৯৪৬ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সভায় বেঙ্গলের সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী জিন্নাহ সাহেবের দৃষ্টিতে বহুবচনের চিহ্নটি বাদ দিয়েছিলেন। তার একান্ত অনুগত আবুল হাশিম অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে এসব বিষয় নিয়ে তার ক্ষোভ ও বিরক্তির কথাও লিখেছেন। বলা প্রয়োজন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও এই লাহোরের ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছিলেন। এ দুটি প্রস্তাব যে আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; আশা করি দ্বিমত করবেন না কেউ। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর আবুল মনসুর আহমদ ৩১ বছর পর প্রস্তাবটির পরিণতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, সে সময়ের আমাদের রাজনীতিবিদরা খোলামেলাভাবে তেমন কিছু লিখে যাননি।
লাহোর প্রস্তাবের বহুবচনের চিহ্নই শুধু বাদ যায়নি, দ্বিজাতিতত্বের ওপর ভিত্তি করে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে পাকিস্তান অর্জিত হলো। ব্রিটিশরা চলে গেল, আমাদের দেশ থেকে হিন্দুরা ও ভারতের মুসলমানরা ক্রিকেটের ভাষায় জায়গা বদল করলেও, লিয়াকত-নেহরু তার পরেও ইন্দিরা-মুজিব-ভুট্টো বৈঠকÑ এসবও হলো। আমরা পরস্পরকে দোষারোপ করলেও নাটের গুরু, দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিষবৃক্ষ রোপণকারী ব্রিটিশ রাজের তোয়াজ করার ব্যাপারে কী জিন্নাহ সাহেব কী নেহরুজীকে খুব একটা অসুবিধায় পড়তে হয়নি।
না, গৌরচন্দ্রিকা এখনও শেষ হয়নি। সেই ১৯৪০ সালেই আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় মনীষী ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ একটি প্রবন্ধ লিখলেন, যার নাম ‘বাঙালি জাতির এক বা একাধিক উৎসব চাই’। তিনি লিখলেন, ‘পহেলা বৈশাখ বাঙালির জাতীয় উৎসব হলে জাতিধর্ম নির্বিশেষে সবার মিলিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।’
আমাদের মধ্যযুুগেও যে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হতো, সে সম্পর্কে মধ্যযুগের সাহিত্য সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ প্রফেসর আহমদ শরিফ বলেছিলেন, ‘মধ্যযুগেও আমাদের দেশে নববর্ষের উৎসব হতো। শাসকগোষ্ঠীও উদযাপন করত নওরোজ। কিন্তু আমাদের মধ্যযুগীয় চেতনায় এর গুরুত্ব যতটা বৈষয়িক ছিল, মানবিক ছিল না ততটা এবং এর পার্বণিক প্রকাশ নিষ্প্রাণ রেওয়াজে ছিল সীমিত, কখনও তা মানস বিকাশের সহায়ক হয়ে ওঠেনি। স্থিতিশীলতার সঠিক মধ্যযুগীয় মানুষ তাই জন্মদিন পালন করত না, মৃত্যুদিবসই স্মরণীয় করে রাখার প্রয়াসী ছিল। জন্মোৎসবে আমাদের আগ্রহ জাগে প্রতীচ্যভাবে। জন্ম ও জীবনের মহিমা প্রতীচ্য প্রভাবেই আমাদের হৃদয়বেদ্য হয়ে ওঠে।’
শরিফ স্যারের মতোই আমার অপর শিক্ষাগুরু অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, তিনি ১৯৭১ সালে আলবদরদের হাতে নৃশংসভাবে শহীদ হন। তিনি বলেছিলেন, ‘পহেলা বৈশাখের শুভদিনটি আমাদের সেই নববর্ষের সুপ্রভাত। তাই এই দিনটি আমাদের বিশেষ উৎসবের দিন। পৃথিবীর সব জাতিই তাদের নিজস্ব নববর্ষের দিনটিকে উৎসবরূপে গণ্য করিয়া আসিয়াছে। এমনকি যাদের ক্ষমতা ছিল, তারা নিজের উৎসব পরের ওপরও চাপাইয়া দিয়াছে। এই কারণে আমরা ইংরেজি নববর্ষের উৎসব করিয়া থাকি। কিন্তু আজ আর তো ইংরেজ অধীনতার দিন নাই। তাই স্বতঃই প্রশ্ন উঠে, আমাদের কি একটি নিজস্ব নববর্ষ উৎসব থাকিবে না? প্রত্যেক জাতিরই একটি নিজস্ব স্বতন্ত্র এবং বৈশিষ্ট্যময় জীবনধারা আছে। ইহাই তাহার সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি লইয়া যদি সে বাঁচিতে না পারে তবে উহা সেই জাতির পক্ষে পরাধীনতা। পারসিক জাতি যদি নওরোজ উৎসব করিতে পারে তবে আমরা বাঙালিরা পহেলা বৈশাখ করিতে পারিব না কেন? নিউ ইয়ার্স ডের মীনাবাজার আমাদের নয়, উহা বিজাতীয় অনুকরণ। সংস্কৃতি দেশের মাটি হইতে গড়িয়া উঠে। বাংলাদেশে প্রচলিত উৎসব অনুষ্ঠানের সঙ্গে রহিয়াছে এখানকার মাটির তথা আমাদের নাড়ির যোগ। আজ স্বাধীনতার নব প্রত্যুষে নববর্ষের শুভদিনটিকে অরুণাক্ষরে আমরা চিহ্নিত দেখিতে চাই। পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতীয় উৎসব হিসাবে গৃহীত হোকÑ ইহাই আমাদের কামনা।’
উদ্ধৃতির পরিমাণ অধিক হওয়ার অন্যতম কারণ তাদের লেখা একসঙ্গে পাঠ করার সুযোগ সব সময় হয় না। পাকিস্তান হওয়ার পর কী হয়েছিল। শুধু বাংলা ভাষার ওপর স্টিমরোলার চালানো হয়েছিল তা নয়, বর্ণমালা পর্যন্ত বদলানোর চেষ্টা, আরবি হরফে বাংলা লেখার জন্য জোর প্রচারÑ এসবের পাশাপাশি বাঙালিয়ানার প্রতিটি ক্ষেত্রকে চিহ্নিত করে নিশ্চিহ্ন করার উৎকট পদক্ষেপ সে সময়ের সরকার গ্রহণ করেছিল। বাংলা নববর্ষ, নবান্ন এসব হিন্দুয়ানা, এমনকি বাংলা ভাষা ও বর্ণমালাও হিন্দুয়ানার দোষে দুষ্টÑ এসব প্রতিষ্ঠিত করাই ছিল সে সময়ের রাজনীতির বিশেষ একটি। 
বোধ হয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, মোগল আমলেই আশরাফ-আতরাফ ভেদের সৃষ্টি। আর পাকিস্তানি আমলে ইংরেজরা যা চেয়েছিল জিন্নাহ সাহেবের কল্যাণে তাই হাসিল হয়েছিল। শেরেবাংলা লাহোর প্রস্তাবই দেননি, মুসলিম লীগ গঠনে বিশাল ভূমিকা রেখেছিলেন। বাংলার কৃষকের নয়নমণি মহাজন, জমিদার জোতদারদের করালগ্রাস থেকে ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের নবজীবন দান করতে পেরেছিলেন, সোহরাওয়ার্দী সাহেব শ্রমিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে এসেছিলেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সঙ্গে শেরেবাংলা ও সোহরাওয়ার্দী সাহেব যে বেঙ্গল প্যাক্ট করেছিলেন কংগ্রেস হাইকমান্ড দেশবন্ধুর মৃত্যুর তিন বছরের মাথায় তা মাটিতে ফেলে দিতে কসুুর করেননি। আবুল হাশিমের দুর্বলতা ছিল মওলানা আসাদ সোবহানী সাহেব সন্দেহ নেই, কিন্তু তার কমিউনিস্ট বন্ধুর সঙ্গেও কম ছিল না। ইংরেজদের প্রিয়পাত্র জিন্নাহ সাহেব খাজা নাজিমুদ্দিন, নূরুল আমিন, খাজা শাহাবুদ্দিন, ফজলুর রহমান তাদের নিয়েই পাকিস্তানের ভিত্তি মজবুত করতে চেয়েছিলেন। যে শেখ মুজিব ছাত্রাবস্থায় হাজত খেটেছিলেন, ৪৬-এর নির্বাচনী প্রচার এবং সিলেটের রেফারেন্ডামে প্রচারকার্য করতে গিয়ে পাগলের মতো ঘুরেছিলেন, ১৯৫০-এর মধ্যে তিন-তিনবার জেল খাটতে হয়েছিল। সোহরাওয়ার্দীকে ঢাকায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি, করাচিতে বাড়ি করার টাকা দেওয়ার পরও বাড়িটি রেজিস্ট্রি করতে দেওয়া হয়নি। শেরেবাংলার অবস্থা? বলছি।
সে সময় এই ছিল মুসলিম লীগের সংগঠকদের মনোবৃত্তি কমিউনিস্ট পার্টি বা কংগ্রেসের নেতাদের কী অবস্থা হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। সে সময়ের স্কুলের ছাত্র বাহাউদ্দিন চৌধুরী লিখেছেন, ‘১৫০ মোগলটুলী’ বইয়ে, ১৯৪৮ সালে তিন মাস, ১৯৪৯ সালে ছয় মাস, ১৯৫০ সালে ছয় মাস জেল খেটেছিলেন। 
প্রবল বৈরিতার মধ্যেও, বাধাবিপত্তির মধ্যেও বাঙালির যে মনোবল হারায়নি, তার প্রমাণ ১৯৪৯ সাল থেকেই ঢাকায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল। এ সালকে প্রখ্যাত সাংবাদিক জহুর হোসেন চৌধুরীও তার স্মৃতিচারণ করেছিলেন।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, অমর ভাষা শহীদদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ সেদিনের যুবসমাজ যেভাবে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়েছিলেন, তারই পরিণতি ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের বিপুল বিজয়।
হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক প্রধানমন্ত্রী হয়ে, উজিরে আলা হয়ে জাতির উদ্দেশে বললেন, ‘আজ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। এ উপলক্ষে আমি আমার একান্ত প্রিয় পূর্ববঙ্গবাসীদের জানাচ্ছি আন্তরিক অভিনন্দন। ধূলিঝঞ্ঝা নিয়ে চৈত্র শেষ হয়েছে। অনতিবিলম্বে হবে প্রকৃতি মেঘমুক্ত, পরিবেশ হবে পরিচ্ছন্ন। নবঊষার নতুন আলো আর নির্মল বাতাস প্রাণভরে গ্রহণ করুন আমার পূর্ব পাকিস্তানি ভ্রাতৃবৃন্দ।’
পরিবর্তন নানা দিক থেকেই। ঢাকা বাড়ছিল। চল্লিশ-পঞ্চাশ হাজারের শহরটি তো আজ দেড় কোটি নর-নারীর বাসস্থানে পরিণত হয়েছে। অনেক ত্যাগ ও তিতিক্ষার ফলে প্রাদেশিক রাজধানী থেকে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের রাজধানী। উৎসবের ধরনও পাল্টেছে অনেক। সে সময়ে আরও দুই-একজন প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তির অভিজ্ঞতা, প্রথমেই শ্রদ্ধেয় কবীর চৌধুরীর কথা শুনি।
‘পয়লা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ বাঙালির এক অনন্য উৎসব, তার অন্যতম জাতীয় উৎসব। এর ঐতিহ্য সুপ্রাচীন ও গৌরবম-িত। অবশ্য কালের যাত্রাপথ ধরে এর উদযাপন রীতিতে নানা পালাবদল ঘটেছে, বিভিন্ন সময়ে তা বিভিন্ন মাত্রিকতা অর্জন করেছে। সুদূর অতীতে এর সঙ্গে কৃষি সমাজের যোগসূত্র ছিল অবিচ্ছেদ্য। প্রাচীন কৃষি সমাজের শীতকালীন নির্জীবতার পর নবজীবনের আবির্ভাবের ধারণার সঙ্গে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের বিষয়টি সম্পর্কিত ছিল, একথা ভাবা অসঙ্গত নয়। একসময় গ্রাম-নগর নির্বিশেষে বাংলার সব মানুষ, সে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ কী খ্রিষ্টান হোক, বাংলা নববর্ষের উৎসবে সোৎসাহে যোগ দিত। পরস্পরের বাড়িতে যাওয়া-আসা, শুভেচ্ছা বিনিময়, খাওয়া-দাওয়া, নানা রকম।’ 
অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, ‘আমাদের জীবন কতো মালিন্য, তুচ্ছতায় ভরে উঠেছে। আজ তাকে সযতেœ মুছে ফেলে তার উপর একটুখানি সুষমার রেখা ফুটিয়ে তুলতে হবে। আজ প্রকৃতির সুরে সুর মিলিয়ে আমাদের নবীন হতে হবে। হিসাবের খাতাটি নতুন করে খুলতে হবে, কাজের আসনটি নতুন করে পাততে হবে। প্রকৃতির বুকে যে পরিবর্তন এসেছে, বিশ্বছবির দ্রষ্টা হিসেবে আমরা তাকে উপেক্ষা করতে পারি না। প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গে আমরা যদি নবীন প্রাণশক্তিতে উজ্জীবিত হয়ে উঠতে পারি, তবেই আমাদের নববর্ষের উৎসব সার্থক হবে।’
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উৎসবভাবনার সামান্য কয়েকটি উল্লেখ করি, ‘প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র দীন একাকীÑ কিন্তু উৎসবের দিন মানুষ বৃহৎ; সেদিন সে সমস্ত মানুষের সঙ্গে একত্র হইয়া বৃহৎ সেদিন সে সমস্ত মনুষ্যত্বের শক্তি অনুভব করিয়া মহৎ।’ ‘...উৎসবের দিন শুধুমাত্র ভাবরস সম্ভোগের দিন নহে, শুধুমাত্র মাধুর্যের মধ্যে নিমগ্ন হইবার দিন নহে... বৃহৎ সম্মিলনের মধ্যে শক্তি-উপলব্ধির দিন, শক্তি সংগ্রহের দিন।’
সে কালের মেলা কথা বলা হয়েছে। হাল আমলে আমাদের এই উৎসব পালাকে, আমাদের উদ্দেশ্য-লক্ষ্য সম্পর্কে বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক অধ্যাপক যতীন সরকার লিখেছেন, ‘আজকে বাংলাদেশে যে নববর্ষ উৎসব পালিত হয়, রবীন্দ্রনাথ কথিত উৎসবের ওই অপরিহার্য বৈশিষ্ট্যসমূহ তাতে অনুপস্থিত। এ উৎসব যদিও ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার ঘেরাটোপে আবদ্ধ নয়, সম্প্রদায়-নির্বিশেষে সকল বাঙালিই একে আপন বলে ভাবতে পারে যদিও, তবু একটি বিশেষ শ্রেণির গ-ি অতিক্রম করে তা বৃহৎ ও মহৎ হয়ে উঠতে পারেনি।’
শুরু করেছিলাম শেরেবাংলাকে দিয়েই, তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন আইয়ুব খানের আমলে গৃহবন্দি অবস্থায়। শহীদ হোসেন সোহরাওয়ার্দী সাহেব, যাক শেষ পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলেন, তবে প্রবাসেই তাকে আমরা হারাই। এসব তো সেই পাকিস্তানি আমলের কথা।
রাজনারায়ণ বসুর ‘আত্মচরিত’ কিংবা হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গ সমাজÑ এসব গ্রন্থের মাধ্যমে জানতে পারি, ইংরেজদের দেখাদেখি রাজনারায়ণ বসু ও তার বন্ধুবান্ধবেরাই কলকাতায় প্রথম পহেলা বৈশাখ উদযাপন করেছিলেন। আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু পহেলা বৈশাখকে নয়, বাংলার ঋতু পরিক্রমাকেও অন্য মাত্রায় উপস্থাপন করে একটা সর্বজনীন আদল দিতে পেরেছিলেন।


আরিফ মঈনুদ্দীন বৃষ্টিভেজা তুমি
  নন্দনতত্ত্বে হাত রেখেছিÑ উঠে আসছে নৈপুণ্য নিপুণ শিল্পের ঘরে জমজমাট
বিস্তারিত
একাকী-নিঃসঙ্গ
একাকী-নিঃসঙ্গ নিঃসঙ্গের চেয়েও একাকী হতে পারে মানুষ কখনো-বা একাকী থাকাকে
বিস্তারিত
দ্যূতক্রীড়া
সাইয়্যিদ মঞ্জু  দ্যূতক্রীড়া অতল গহ্বরে হাবুডুবু-প্রমত্ত উল্লাস ভূলুন্ঠিত মানবতা সভ্যতার দ্যূতক্রীড়ায়
বিস্তারিত
এ শহর
এ শহরে বৃক্ষ আছে ছায়া নেই, মানুষ আছে মায়া নেই
বিস্তারিত
নিরু এখনও মরেনি
এক অনাকাক্সিক্ষত ভুলে, অথবা নিয়তির নিষ্ঠুর অভিঘাতে দোষী হয়েছিল নিরু,
বিস্তারিত
স্মৃতিরা কাঁদায়
পুরোনো শার্ট হ্যাঙ্গারে আছে ঝুলে পরে না কেউ চশমাটিও ধুলোময়... ছবির
বিস্তারিত