আর কত অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু দেখবো?

এম. সোলায়মান: লেখক ও সাংবাদিক

মানুষ শ্রেষ্ঠ জীব অথচ আজকাল দেখছি মানুষের জীবনই সবচেয়ে তুচ্ছ, মূল্যহীন। মানুষ আজ পথে-ঘাটে, রাজপথে, আগুনে পুড়ে, ভবনের নিচে চাপা পড়ে অবলীলায় মারা যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে মারা যাচ্ছে এ দেশের সাধারণ মানুষ।

যারা বেঁচে আছেন তারাও ধৈর্যহারা হয়ে পড়েছেন। কোথাও কি নিরাপত্তা নেই আমাদের? বরগুনার তালতলীতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের ছাদ ভেঙে এক শিশু শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার ঘটনা আমাদের বার বার ভাবিয়ে তুলছে। কেন এই অপমৃত্যু? এ সমাজে এখন আর মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। বাসা থেকে বের হলে ফের বাসায় ঠিকভাবে পৌঁছতে পারবো কিনা তারও কোনো গ্যারান্টি নেই। এমন সমাজ কি আমরা আশা করেছিলাম?

বরগুনা তালতলীর ৫নং ছোটবগী পিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদ ভেঙে মানসুরা নামের এক ছাত্রী নিহত ও ৯ জন আহতের ঘটনা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও দুঃখজনক। এটা আমাদের কারো প্রত্যাশা ছিল না। জানতে পারলাম ওই বিদ্যালয়টি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০২ সালে আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ স্কুলভবন নির্মাণ করে। ভবন নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সেতু এন্টারপ্রাইজ। ওই সময় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ভবন নির্মাণ করে বর্তমানে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

নির্মাণের পাঁচ বছর যেতে না যেতেই ওই ভবনের ভিমে ফাটল ধরে পলেস্তারা খসে পড়ে। বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ থাকা স্বত্ত্বেও ওই ভবনেই শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলে। প্রতিদিনের মত শনিবারও হাসি খুশি মনে কাঁধে বইয়ের ব্যাগ নিয়ে কচিকাচা শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসে। কিন্তু এই দিনটি তাদের জন্য বিভিষীকাময় একটি দিন হবে কেউ বুঝতে পারেনি। কেই বা জানতো এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কেড়ে নিবে তাদের এক সহপাঠীকে। সবাই যখন শিক্ষকের দেয়া প্রশ্নের উত্তর লিখতে ব্যস্ত ঠিক তখনই বিকট শব্দে ভবনের ছাদ ভেঙে পড়লো তাদের মাথার ওপর।
নিজেদের রক্তে ভিজলো পাঠ্যবই, আতংকে দিশেহারা হয়ে ছুটতে লাগলো সবাই। শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজন মিলে আহত শিক্ষর্থীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পথে মানসুরা নামের ৯ বছরের এক শিক্ষার্থী মারা যান।  

প্রশ্ন হলো ২০০২ সালে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করা হলো তা এত অল্প সময়ে এমন পরিস্থিতি হয় কি করে? জানা যায়- ওই সময় ভবন নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সেতু এন্টারপ্রাইজ। যদিও সেতু এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. কবির উদ্দিন বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, তার লাইসেন্স দিয়ে এ ভবন নির্মাণ করা হয়নি। কে বা কারা করেছে তিনি জানেন না। তাহলে কোন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এই ভবনের কাজ করেছে তা প্রশাসনের খুঁজে বের করা উচিত বলে মনে করি। যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানই কাজ করুক না কেন তাদের জবাবদিহীতার আওতায় আনা উচিত।

দিন দিন আমাদের দেশের ঠিকাদার ব্যবসায়ীরা এতোটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে তারা রাতারাতি বড় লোক হওয়ার স্বপ্নে দায়সারা কাজ করে যাচ্ছে। প্রায় দিনই গণমাধ্যমে ঠিকাদারী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অভিযোগ দেখা যায়। তারা রডের বদলে বাঁশ, নিম্নমানের ইট, বালু, সিমেন্ট দিয়ে একটি ভবন দাড় করিয়ে দিতে পারলেই হলো। পরে কী হলো বা না হলো সেটা দেখার বিষয় তাদের না! প্রতিনিয়ত মানুষের জন্য মৃত্যুর ফাঁদ তৈরি করছে তারা।

ঢাকার কথাই একটু চিন্তা করেন সেই নিমতলী থেকে চুড়িহাট্টা তারপর বনানীর অগ্নিকাণ্ডে যে প্রাণহানি ঘটেছে তার দায় আমরা কখনো এড়াতে পারবো না। সড়ক থেকে ভবন, কারখানা থেকে অফিস, পথঘাট, সড়ক পরিবহন এখন সর্বত্রই মৃত্যুকুপে পরিণত হচ্ছে।

যাইহোক প্রসঙ্গ ছিল বরগুনায় ছাদ ধসে শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনা। এই মৃত্যুর দায় এড়াতে বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সবাই ভিন্ন মতবাদ দিচ্ছেন। বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও কেন ওই ভবনেই ক্লাস নিয়েছেন শিক্ষকরা? বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষিকা শাকেরিন জাহানের ভাষ্য- ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা জানিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কাজী মনিরুজ্জামান রিপনকে অনেক আগেই অবহিত করেন তিনি। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওই জরাজীর্ণ ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা না করে ক্লাস চালিয়ে নেয়ার আদেশ দিয়েছিলেন। আজ বলতে ইচ্ছে করছে এই দুর্ঘটনার দায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারও এড়িয়ে যেতে পারেন না।

আমরা দেখতে পাচ্ছি যতই দিন যাচ্ছে ততই মানুষ দিনে দিনে বর্বর হয়ে উঠছে। মানুষের মানবিকতা বলতে যেন কিছু অবশিষ্ট নেই। সবাই স্বার্থের পিছন ছুটছে। বিবেককে বিসর্জন দিয়ে অবৈধ অর্থ কামাতে ব্যস্ত এক ধরণের মানুষ। আমাদের সমাজের একশ্রেণির পাষণ্ড মানুষের হাতে অনেকের জীবনই বিপন্ন হয়ে পড়ছে।

আর যাই হোক এ অবস্থায় দিন চলতে থাকলে সামাজিক ভাবে আমাদের রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে। আর এসব থেকে পরিত্রানের প্রথম কর্তব্য হচ্ছে নিজের বিবেককে জাগ্রত করা এবং ন্যায়-অন্যায় বোধকে সক্রিয় রাখা। মানুষ মানুষের জন্য এ সত্যও সর্বত্র তুলে ধরা। তা হলে হয়তো কিছুটা মুক্তি মিলতে পারে।

আমরা চাই এ ধরণের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা আমাদের চোখের সামনে আর না আসুক এবং বর্তমানে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তা সঠিকভাবে তদন্ত হোক। অপরাধীরা যত বড় ক্ষমতাশীল ব্যক্তি হোক না কেন তাদের শাস্তি এবং নিহত ও আহত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার জোড় দাবি জানাচ্ছি।

এম. সোলায়মান: লেখক ও সাংবাদিক।


ব্লু মক্স সুলতান আহমদের অমর
ইস্তানবুলের প্রাচীন স্থাপত্যের এক অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে আহমেদীয়া মসজিদ। পশ্চিমারা
বিস্তারিত
অপরূপ নিদর্শন ইস্তানবুলের সুলাইমানিয়া মসজিদ
তৃতীয় দিন আমরা ঠিক করলাম সুলাইমানিয়া মসজিদটি দেখতে যাবো। সেখানে
বিস্তারিত
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে তালের শাঁস
পাকা তালের রস, কচি তালের শাঁস, অংকুরিত তালের আটির ভেতরের
বিস্তারিত
ইস্তানবুলের পথে পথে
ঈদের ছুটিঁতে স্বপরিবারে তুরস্কের রাজধানী ইস্তানবুলে গিয়েছিলাম। যার আবেশ এখনো
বিস্তারিত
নিষিদ্ধ নেশার কালো পথ এবার
যারা মারছে, যারা মরছে, যারা মৃত্যুর প্রহর গুনছে- এরা সবাই
বিস্তারিত
একজন অসৎ ব্যক্তি কখনোই দেশপ্রেমিক
দিন দিন পরিচিত মানুষের সংখ্যা যত বাড়ছে সেই অনুযায়ী শ্রদ্ধা
বিস্তারিত