ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি লাটে উঠছে কেন?

মনে করেছিলাম, ডাকসু নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক অবস্থার প্রকট রূপ দেখে বিএনপি নেতারা হতাশ হবেন। তাদের আত্মোপলব্ধি হবে এবং কেন্দ্রকে তিরস্কার করবেন।

কিন্তু না, আমার ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপির কাছে বারবার আমি পরাজিত হই, দলটি আমার ধারণা এবং জ্ঞানকে ভুল প্রমাণ করে দেয়। তবে দিন শেষে যতবারই হিসাব মিলিয়েছি বাস্তবতার সাথে আমার চিন্তার খুব বেশি ফারাক ছিল না। ডাকসুতেও একই অবস্থা। ছাত্রদল কেন ক্ষয়ে যাচ্ছে? এ প্রশ্ন বিএনপিকে করাই উত্তম!

কারণ, বিএনপির ক’জন সংশ্লিষ্ট নেতা টুঁটি চেপে ধরে ছাত্রদলকে অদ্ভুত এক পুতুলে পরিণত করেছে। তারপর ছাত্রদল নামক পুতুলকে পকেটে নিয়ে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। সুবিধামতো পকেট থেকে বের করে আবার কীর্তন করাচ্ছে। পাশাপাশি তৃণমূল ছাত্রদলকে ধ্বংসের পেছনে দলের সংসদীয় আসনের এমপি প্রার্থীরা সরাসরি দায়ী। তাদের অযাচিত হস্তক্ষেপ ছাত্রদল ভাগে উপভাগে বিভক্ত হয়েছে। কমিটি গঠন বন্ধ করে কর্মীদের বয়স শেষ করে দেওয়া হয়েছে।

কোথাও কোথাও বয়স্ক তিন-চারজনের আহ্বায়ক বা মুরব্বি কমিটি থাকলেও তার মেয়াদ বহু আগেই পার হয়েছে। ফলে ক্যাম্পাসে বা ছাত্রদের সাথে মুরব্বি কমিটির সম্পর্ক তৈরির সুযোগ হয়নি। মধ্যবয়সীদের সাথে সাধারণ ছাত্রদের সখ্য হওয়ার কথাও নয়। ফলে সারা দেশেই ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি লাটে উঠেছে।  

ছাত্রদলে এমন হঠকারিতা গত ১২ বছরে বিএনপির চোখের সামনেই ঘটেছে। কিন্তু টনক নড়েনি কারো। যাকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনিই গিলে ফেলেছেন ছাত্রদলকে! তারা চায় ছাত্রদল তাদের পকেটেই থাকুক, তাতেই যত লাভ! তাই ছাত্রদলের বেড়ে ওঠা বা দলে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হওয়ার বিষয়ে বিএনপির ইচ্ছা আমার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। বৈরী পরিবেশ বা অন্য কোনো কারণ নয়, আসল ক্ষতটা বিএনপির ভেতরেই।

অস্বীকার করার উপায় নেই, ডাকসুতে ছাত্রদলের শূন্যস্থান পূরণ করেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এর মূল কারণই হলো ছাত্র অধিকার সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে ক্যাম্পাসে ছাত্রদল সক্রিয় না থাকা। এছাড়া ছাত্রদলের সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক চর্চা বলতে কিছুই নেই। পুরনো স্লোগানে তারা এখনো অভ্যস্ত। দেয়াল লিখন ও পোস্টারে তাদের নতুনত্ব নেই। চমক নেই চিন্তাধারায়। ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন হয়েও ছাত্রলীগ ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ’ ব্যানারে। কেন তাদের এমন কৌশল? ছাত্রদলও ক্যাম্পাসে এমন কৌশল নিয়ে সুবিধা আদায় করতে পারত। কিন্তু তারা নটের মতোই চলছে। বর্তমান সময়ের আধুনিক প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরা এমন সনাতন পদ্ধতির চিন্তাধারায় পড়ে থাকা সংগঠনে কী করে ভিড়বে?

লজ্জা পাই, ডাকসুর ২৫টি পদের মধ্যে একটিতেও জয় পায়নি ছাত্রদল। ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ২৪৫ ভোট পেয়ে পঞ্চম হয়েছেন। কমনরুম ও ক্যাফেটেরেয়ারি বিষয়ক সম্পাদক পদে কানেতা ইয়া লাম-লাম ৭ হাজার ১১৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। হল সংসদগুলোতে ২৩৪টি পদের বিপরীতে ছাত্রদলের প্রার্থী ছিল ৫৪ জন। ছাত্রী হলগুলোতে কোনো প্যানেল দিতে পারেনি। তবু নেতাদের যুক্তির অভাব নেই। বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক বলেছেন, ‘কোনো সাংগঠনিক দুর্বলতা নেই’!

ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হক যেমন ডাকসু নির্বাচনকে নির্বাচনই মনে করেন না ঠিক তেমনি আকরামকেও ছাত্রদল মনে করার কোনো কারণ কি আছে? আকরাম কেন প্রার্থী হতে পারেনি? ভিপি প্রার্থী হতে কেন্দ্রীয় সভাপতি বা সম্পাদকদের বৈরী পরিবেশ তো বাধা হওয়ার কথা নয়। মূল কথা হলো, বর্তমান ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এবং ঢাবি শাখার কেউই নিয়মিত ছাত্র নয়।

রাজনৈতিক বৈরী এই পরিবেশের মধ্যেই ছাত্রী হলগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা লড়াই করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। হামলা, মামলা, গ্রেফতার ও চিকিৎসাবঞ্চিত করার চেষ্টার পরও নুর ক্যাম্পাস ছাড়েনি। অথচ ছাত্রদল পরিবেশ খোঁজে? অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, ছাত্রদলকে ফুলের গালিচা বিছিয়ে দিতে হবে, তবেই তারা (মুরব্বিরা) হাঁটবে।

লেখক- আনোয়ার বারী পিন্টু, নিবন্ধকার।


ভাগ্নে জায়ানের অকাল মৃত্যুতে স্তব্ধ
শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে সিরিজ বোমা হামলায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও
বিস্তারিত
যারাই গণতন্ত্রের কথা বলেন তাদেরই
যারাই গণতন্ত্রের কথা বলেন তাদেরই বন্দি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য
বিস্তারিত
বন্ধ শিল্প কারখানাগুলো দ্রুত চালু
বর্তমান মন্ত্রীসভা রিয়েল এবং ফরমালিন মুক্ত বলে দাবি করেছেন শিল্প
বিস্তারিত
মোকাব্বির খানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
শপথ গ্রহণ করায় সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানকে কারণ
বিস্তারিত
কারও মুক্তির জন্য জনগণ ভোট
খালেদার জিয়ার মুক্তি নিয়ে সংসদে যোগ দেওয়ার বিষয়ে দরকষাকষি করা
বিস্তারিত
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ৪২ জনের নাম
এক বছর হয়ে গেছে ছাত্রলীগের এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। ছাত্রলীগের
বিস্তারিত