বাংলা নববর্ষে আমাদের ভাবনা

খাজনা আদায়ে বিভিন্ন সুযোগসুবিধার কথা চিন্তা করে মোগল সম্রাট জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ আকবরের নির্দেশে বিখ্যাত জোতির্বিজ্ঞানী ফতেহ উল্লাহ সিরাজি ১৫৮৪ সালের ১১ মার্চ বাংলা সনের সূচনা করেন

১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখ বাংলা পঞ্জিকার প্রথম দিন বা নববর্ষ। এ দিনটিকে বাংলাদেশে উৎসব করে পালন করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিবেশী আসাম, ত্রিপুরার বাঙালিরাও উৎসবে শরিক হয়। খাজনা আদায়ে বিভিন্ন সুযোগসুবিধার কথা চিন্তা করে মোগল সম্রাট জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ আকবরের নির্দেশে বিখ্যাত জোতির্বিজ্ঞানী ফতেহ উল্লাহ সিরাজি ১৫৮৪ সালের ১১ মার্চ বাংলা সনের সূচনা করেন। তবে এর ভিত্তি ধরা হয় ইসলামি বর্ষপঞ্জির হিজরি সনকে। আর সম্রাটের সিংহাসনে আরোহনের দিনটিকে স্মৃতিময় করে রাখতে সেই দিন থেকে অর্থাৎ ১৫৫৬ সালের ১১ এপ্রিল মতান্তরে ৫ নভেম্বর থেকে তারিখ গণনা শুরু হয়। প্রথমে এর নাম ছিল ফসলি সন অতঃপর বঙ্গাব্দ বা বাংলা সন। 
এ কথা দ্রুবসত্য যে, এ দিনকে কেন্দ্র করে কোনো অসামাজিক কর্যকলাপ বা মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন প্রতিষ্ঠালগ্নে ছিল না। তখন চৈত্র মাসের শেষ দিনে সবাই খাজনা, লেনদেন পরিশোধ করতেন। অতঃপর ভূমির মালিকরা তাদের মিষ্টিদ্রব্য দ্বারা আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতেন। দোকানিরা এ দিনে আয়োজন করতেন হালখাতার। ১৯৬৭ সালে প্রথম ঘটা করে এ উৎসব পালন করা হয়।
এ দিনের অন্যতম একটি আকর্ষণ হলো বিভিন্ন প্রাণীর মুখোশ পরে মঙ্গল শোভযাত্রা, যা ১৯৮৯ সাল থেকে শুরু হয়। এ উৎসবে বিভিন্ন সময় অনেকের সম্ভ্রমহানির মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে। নির্যাতনের শিকার হন অনেক মা-বোন। এ অবস্থা সুস্থ-মস্তিষ্কের বিবেকবান একজন মানুষ কখনও মেনে নিতে পারে না। 
পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জীবজন্তু ও প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরি করে তথাকথিত বৈশাখি প্রেমিকরা নিজেদের মুখোশে বানর, হনুমান, বাঘ, ভাল্লুক ইত্যাদি বেশে সাজে এবং এগুলো নিয়েই আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে। এসব মুখোশে ব্যবহৃত প্রাণীর মুখোশ ও প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়, তার আবার ব্যাখ্যা আছে হিন্দু ধর্ম মতে। হিন্দু সমাজে শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। তারা তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী মঙ্গলের প্রতীক হিসেবে পেঁচা, রামের বাহন হিসেবে হনুমান, দুর্গার বাহন হিসেবে সিংহের মুখোশ ও দেবতার প্রতীক হিসেবে সূর্য এবং অন্যান্য জীবজন্তুর মুখোশ পরে। এগুলো কোনো যুক্তিতেই বাংলা নববর্ষের প্রতীক হতে পারে না। মুসলমানদের তো নয়ই। কারণ তা ইসলামের ঈমান ও আকিদার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
এ প্রসঙ্গে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই কঠিন শাস্তি ভোগ করবে কেয়ামতের দিন জীবজন্তু, প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরিকারীরা।’ (বোখারি : ৫৯৫৪)। অপর এক হাদিসে আছে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোনো প্রাণীর ছবি নির্মাণ করে, কেয়ামতের দিন তাকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হবে ওই ছবির মধ্যে রুহ দান করার জন্য। কিন্তু সে রুহ দান করতে পারবে না।’ (বোখারি : ৫৯৬৩)। 
মানুষ হলো সর্বোত্তম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। মানুষ হয়ে অন্য প্রাণীর মুখোশ পরা, পেঁচা হনুমান সাজা মূর্খতা ছাড়া আর কিছু নয়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সঙ্গে সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদের দলভুক্ত।’ (আবু দাউদ : ৪০৩১)।
তাই মুসলমানের প্রত্যেকটি কাজ ভালোভাবে জেনে-বুঝে করা কর্তব্য। আমরা বাঙালি কথাটা যেমন সত্য, তেমনি আমরা মুসলমানÑ এটা আরও বড় সত্য। তাই আমাদের সাংস্কৃতি চর্চাও হবে ধর্মের ভিত্তিতেই উভয়ের মিশ্রণে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তার কথা ভেবে পহেলা বৈশাখে মুখোশ ব্যবহার ও ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো নিষিদ্ধ করেছেন। আমরা এ সুন্দর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।
বাংলা সনের উৎপত্তির দিনেও ইংলিশ বা হিন্দি গানের আয়োজন করা বাঙালি জাতিকে, বাঙালি সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা বৈ কিছুই নয়। পুঁজিবাদী সংস্কৃতির আগ্রাসনে আমাদের নিজস্ব বাঙালি সুস্থ-সাংস্কৃতিক চিত্র আজ অনেকাংশেই হারাতে বসেছি।
সংস্কৃতি থেকে ধর্মকে আলাদা করে অশ্লীলতা, নগ্নতায় দেশকে ভরপুর করে ও নারীর মর্যাদার অবমাননা করে বাঙালি সংস্কৃতিকে বিপন্ন করে তোলা হচ্ছে।
আজ আমাদেরই হাল ধরতে হবে শক্ত হাতে। এ দিনে আমাদের উচিত নতুন চিন্তা-চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে সত্য, সুন্দর, শান্তিপূর্র্ণ নির্মল পৃথিবী ও সমাজ গড়ার শপথ গ্রহণ করা।


ইন্দোনেশিয়ায় হাফেজদের বিনা পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি মানেই পরীক্ষা নামক চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হওয়া। তারপরও
বিস্তারিত
বিশ্বের ১৩ হাজার বিশিষ্ট ব্যক্তিকে
সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ চলতি ১৪৪০ হিজরি
বিস্তারিত
রাশিয়ার এস-৪০০ আনল তুরস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, রাশিয়ার তৈরি এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাদের এফ-৩৫
বিস্তারিত
হজের তালবিয়া
হজের সেøাগান ও প্রধান মৌখিক আমল হলো তালবিয়া। তালবিয়া হজের
বিস্তারিত
‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি যেভাবে পরিণত
সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছিলেন, হামলাকারীরা তার কাপড়-চোপড় এবং দাড়ি নিয়ে বিদ্রƒপ
বিস্তারিত
আঙুর বাগান
সৌদি আরবে যখন গ্রীষ্মের লু হাওয়ার প্রকোপ বাড়তে থাকে, তখন
বিস্তারিত