এই প্রবীণদের দেখে মায়া হয় না?

পেনশন ভাতা তুলতে দীর্ঘক্ষণ কাউন্টারের লাইনে দাঁড়িয়ে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা। ছবি: ফেসবুক

সারাজীবন সরকারি চাকরি করে অবসরে গেলে যে ভরসাকে হাতের লাঠি মনে হয় তা হচ্ছে পেনশন ভাতা। সরকারি চাকরির কদর বেশি হওয়ার পেছনে এটিও একটি কারণ।

কিন্তু এসব বয়োবৃদ্ধ অবসরপ্রাপ্তদের তাদের ন্যায্য অধিকারের ভাতাটুকুও কত কষ্টে, সাত ঘাটের ঘানি টেনে যে নিতে হয় তা বর্ণনাতীত।

দেশ ডিজিটালে রূপ নিয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়নে নাগরিকদের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে পরিসেবা। বিমান, বাস, ট্রেনের টিকিট আর গ্যাস-বিদ্যুতের বিল দিতে এখন আর লাইনে দাঁড়িয়ে কাউন্টারে যেতে হয় না। অথচ এ সময়ে এসে প্রায় অশীতিপর এসব সাবেক সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ভাতা তুলতে যে ভোগান্তি পোহাতে হয় তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।

বিষয়টিকে একটু আমলে নেয়ার বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন জাবিন ইসলাম নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী।

তিনি ফেসবুকের জনপ্রিয় গ্রুপ ‘ডু সামথিং এক্সেপশনাল (ডিএসই)’ তে পেনশন ভাতা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার বয়োবৃদ্ধদের পক্ষ থেকে নিজের আকুতি তুলে ধরেছেন।

তার স্ট্যাটাস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘প্রসঙ্গ : রিটায়ারমেন্টের পর !

একজন মানুষ চাকরির শেষ দিন পর্যন্ত সরকারের অধিনস্ত হয়ে মানুষের নানা সমস্যায় সহায়তা দিয়ে সেবা করে যান।

তার আগেই হয়তো কেউ কেউ মারা যান। সেই পেনশনের বই নাম পরিবর্তন করে এক মাসের মধ্যে হাতে পেতে, ঘুষ - মামা চাচা রেফারেন্সসহ অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়।

সকাল সাড়ে নয়টা কিংবা দশটায় ব্যাংক করিডোরে শুরু হয় এই প্রবীণদের আনাগোনা। ভীড়, গরম সহ্য করতে হয়। নানা ধরণের তির্যক বাক্য শুনতে হয় তাদের। এখানে না ওখানে দাঁড়ান, সাইডে চাপেন, ঐদিকে সরেন.....

বয়সের ভাড়ে নুয়ে পড়া অবসরপ্রাপ্ত মানুষগুলোকে বিশ্বের অন্যান্য দেশে যখন প্রথম সারির সম্মান দেওয়া হয়, ঘরে বসে রিটায়ারমেন্ট ভাতা পান, সেখানে এই দেশে তখন একই বয়সি নাগরিকেরা পেনশন বই হাতে নিয়ে এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টার ঘুরে ঘুরে জুতা ক্ষয় করেন।

অনেকেরই এখন চোখে ছানি, ঝাপসা চোখ ভাঙ্গা চশমা ঠিক করে লেখা বুঝতে কষ্ট হয়। অনেকে ঠিকভাবে টাকা গুনে বুঝেও নিতে পারেন না। পড়াশুনা অংকে গড়মিল থেকেই যায়, তবুও গোজামিল করে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে দিতে বাড়ি ফেরেন।

ভাল মানুষের পাশাপাশি প্রতারকের সংখ্যাও ব্যাংক পাড়ায় কম থাকে না। যারা হয়তো সুযোগ খুঁজে কিভাবে এই সহজ সরল মানুষগুলোকে একটু ঠকানো যায়।

কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন: ডিজিটাল বাংলাদেশে এই অনিয়মের অবসান হোক।

সোনালী ব্যাংক এর ঊর্ধ্বতন কেউ থাকলে এটি আমলে নেওয়ার বিনীত অনুরোধ। আমরা যেভাবে নিজের বাবা-মা কে দেখতে চাইনা, সেভাবে অন্যকেও না রাখি।’

স্ট্যাটাসটি লিখে তিনি পেনশন ভাতা নিতে এসে বেশ কয়েকজন প্রবীণ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন এমন ছবি শেয়ার করে লিখেন, এই ছবিগুলো দেখে মায়া হয়না?’

এরপর তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, ‘সকল সরকারি কর্মকর্তাদেরইতো একদিন এমন সময় আসবে। নিজেকে এদের মুখামুখি করার আগে আগে সিস্টেম চেঞ্জ করে যান, দোয়া পাবেন।’ সংগ্রহ-যুগান্তর।


তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যার কোথাও
ব্রিটিশ রাণী এলিজাবেথ পৃথিবীর যে প্রান্তেই যাননা কেন তার সঙ্গে
বিস্তারিত
মৃত্যুপথযাত্রী মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ
মৃত্যুশয্যায় মা। শেষ সময়ে প্রিয় সন্তানদের এক নজর দেখার ইচ্ছা
বিস্তারিত
বাবা দিবস যেভাবে এলো
জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বের অনেক দেশে পালিত হয়েছে বাবা
বিস্তারিত
মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ছেলের
সাধারণত মা দ্বিতীয় বিয়ে করলে আগের ঘরের সন্তানেরা অখুশি হন।
বিস্তারিত
রাব্বীর টিউশনির গল্প সিনেমাকেও হার
ছাত্র জীবনে টিউশনি করানোর অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে, সেগুলো কখনো তিক্ত,
বিস্তারিত
তোমার কারণে তোমার বউমার অসুবিধা
সংসার সন্তান-সন্তুতি, টাকা, বাড়ি-গাড়ি তাদের সবই ছিল। কিন্তু আজ তাদের
বিস্তারিত