লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধের দাবানল তীব্রতর

লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ এখন রাজধানী ত্রিপোলির আশপাশে পৌঁছে গেছে। সাম্প্রতিক খবরে জানা যায়, ত্রিপোলিতে অবস্থিত ‘গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল একর্ড’ বা জিএনএ রাজধানীর উপকণ্ঠেই বিরোধী ‘লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি’ বা ‘এলএনএ’ এর সৈন্যদের সঙ্গে লড়াই করছে এবং তাদের বহু হতাহত হয়েছে। লিবিয়ার শক্তিশালী সরকারবিরোধী নেতা জেনারেল হাফতার এবং তার প্রধান ঘাঁটি বেনগাজি। বেনগাজি লিবিয়ার অর্থনৈতিক রাজধানী। সেখান থেকেই পূর্বাঞ্চলে তেল বিক্রির অর্থ ত্রিপোলিতে আসে। 
২০১১ সালে আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিমারা লিবিয়ার অবিসংবাদিত নেতা প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে গৃহযুদ্ধ আর জনগণের দুঃখ-দুর্দশা। এক সময়ের গাদ্দাফির বিশ্বাসভাজন জেনারেল হাফতার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই পুরো লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। ১৯৮০-এর দশকে হাফতার গাদ্দাফির সেনাবাহিনীর একজন অফিসার হিসেবে দক্ষিণের দেশ শাদে যুদ্ধ করতে যান। শাদের সেনাবাহিনীর হাতে পরাজিত হওয়ার পর হাফতার যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সেখানে তিনি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র তত্ত্বাবধানে থাকেন গাদ্দাফির পতন পর্যন্ত। গাদ্দাফির পতনের পর তিনি লিবিয়ায় ফেরত আসেন এবং লিবিয়ার আগের শহর বেনগাজি থেকে সামরিক অপারেশন শুরু করেন। 
লিবিয়ার নেতা গাদ্দাফিকে হত্যার পর এখন ৭৫ বছর বয়সী জেনারেল হাফতারকে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর এবং আরব আমিরাত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব মাইক পম্পেও লিবিয়ার রাজধানীর ওপর হাফতারের হামলার বিরোধিতা করেছেন। ফ্রান্সও হাফতারকে সহায়তা দিয়েছে, যাতে হাফতার লিবিয়ার মাঝ দিয়ে চলাচলকারী আফ্রিকার অভিবাসী-প্রত্যাশী এবং সন্ত্রাসীদের ইউরোপে প্রবেশ প্রতিরোধ করতে পারেন। ইউরোপীয়রা ‘জিএনএ’কেও একই কারণে সমর্থন দিচ্ছে। একই সঙ্গে রাশিয়াও হাফতারকে কাছে টেনেছে উত্তর আফ্রিকায় তার প্রভাব বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে।
লিবিয়ায় কর্মরত জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা খুব সম্ভবত লিবিয়া ছেড়ে যাবেন না। তবে ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যরা জাহাজের মাধ্যমে লিবিয়ার উপকূল ছেড়ে যায়। মার্কিন আফ্রিকা কমান্ডের প্রধান জেনারেল থমাস ওয়াল্ড হাউজার এক বিবৃতিতে বলেন, মার্কিন সেনারা সেখানে ছিল কূটনৈতিক কাজে সমর্থন দেওয়া এবং সন্ত্রাস দমনের কাজে। যেহেতু বর্তমান পরিস্থিতিতে এরপর কি হবে বলা যাচ্ছে না, তাই তারা সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 
বিশ্লেষকেরা বলছেন, মার্কিন সেনারা সরে যাওয়ায় হাফতারের বাহিনীকে কোনো অনাকাক্সিক্ষত সমস্যায় পড়তে হবে না এবং এর ফলে সামরিক অপারেশন চালাতে হাফতারের সুবিধাই হবে। আর হাফতারের সৈন্যদের সামনে পড়লে মার্কিন সেনারা কী করবেÑ এ ধরনের জটিল পরিস্থিতিও মার্কিন কর্মকর্তাদের মোকাবিলা করতে হবে না। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে লিবিয়ার বিভিন্ন সামরিক-রাজনৈতিক গ্রুপগুলোকে একত্রিত করে একটা সরকার তৈরি করতে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন নেতৃত্ব মেনে নিতে চাইছে না বলেই এই সমস্যার সুরাহা হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা ‘জিএনএ’কে সমর্থন করে। একই সঙ্গে তারা বলছে, যেহেতু হাফতারকে বাদ দিয়ে কোনো সমাধান করা যাবে না, তাই হাফতারকেও হিসাবে রাখতে হবে।
লিবিয়ায় হাফতারের আক্রমণ এমন সময় শুরু হলো, যখন প্রতিবেশী আলজেরিয়া ও সুদানেও রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। লিবিয়া এবং আলজেরিয়া আফ্রিকা থেকে ইউরোপে অভিবাসী প্রত্যাশীদের প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইউরোপের দেশগুলো অভিবাসী প্রত্যাশীদের ঠেকাতে উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোকে ইউরোপীয় প্রভাব বলয়ে রাখা ছাড়াও সেখানে স্থিতিশীলতা চায়। লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইউরোপের জন্য অভিবাসী সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধও একই সমস্যা সৃষ্টি করেছে ইউরোপের জন্য। হাফতারের অধীন ‘এলএনএ’ ইউরোপের প্রভাব বলয়ে নেই। সে ক্ষেত্রে হাফতারের আক্রমণে ইউরোপই সবচেয়ে চিন্তিত। প্রতীয়মান হচ্ছে, লিবিয়ার গাদ্দাফিকে হত্যা করে পশ্চিমারা যে তৃপ্তির হাঁসি দিয়েছিল সামগ্রিক বিবেচনায় তারা নতুন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। সেই সমস্যা হলো, আফ্রিকা থেকে দলে দলে অভিবাসী গমনের সংকট। এ জন্যই নাকি তারা লিবিয়ায় শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি চায় এবং জেনারেল হাফতারকে সমর্থন দানের পলিসি গ্রহণ করছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বলছে, লিবিয়ার জনগণের দুঃখ-দুর্দশা সহজে দূর হবে না। কারণ লিবিয়ার ক্ষমতাসীন সরকার ও বিরোধীদের সমর্থন দেওয়ার দ্বিমুখী নীতিতে পশ্চিমারা বিভক্ত হয়ে আছে। আর মাঝখানে পিষে মরছে লিবিয়ার শান্তিপ্রিয় জনগণ। 
ঐক্য প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত মার্চের প্রথম সপ্তাহে হাফতার ‘জিএনএ’ এর সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন। সে সময় তিনি মনে করছিলেন, ত্রিপোলির ওপর হামলা করা অসম্ভব; কারণ কয়েকটা পশ্চিমা রাষ্ট্র হাফতারকে ত্রিপোলি আক্রমণ থেকে দূরে থাকতে বলেছে। তবে সেই আলোচনার কিছুদিন আগেই ফেব্রুয়ারিতে হাফতারের সেনারা লিবিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে আলজেরিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি এল-শারারা তেলখনি দখল করে নেয়। পশ্চিমের প্রতিবেশী তিউনিসিয়াও ত্রিপোলির লড়াইয়ে চিন্তিত। বর্তমানে লিবিয়ার বেশিরভাগ অঞ্চলই হাফতারের বাহিনীর দখলে। এমনকি দক্ষিণে শাদের সীমানায়ও হাফতারের বাহিনী নিজেদের অবস্থান সুসংহত করছে, যেখানে ফরাসি সামরিক বাহিনী তীক্ষè দৃষ্টি রেখেছে।


গর্ভপাত : ইসলাম কী বলে?
আধুনিক যুগে ভ্রƒণহত্যা জাহেলি যুগে কন্যাসন্তানকে জীবন্ত সমাধিস্থ করার নামান্তর।
বিস্তারিত
আল্লাহর ভালোবাসায় হজের আমল
প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ লোকেরা যেভাবে ভালোবাসার আকর্ষণে পরস্পরের কাছে ছুটে
বিস্তারিত
নবজাতকের জন্য ইসলামের উপহার
বাবা হতে পারা, মা হতে পারাÑ প্রতিটি নারী-পুরুষের কাছেই এক
বিস্তারিত
প্রশ্ন-উত্তর
প্রশ্ন : বিক্রেতার শোরুম থেকে ক্রেতা দুটি কার ক্রয় করল
বিস্তারিত
রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ মাল আমদানি করে
প্রত্যেক দেশেই স্বদেশি লোকদের জীবন-জীবিকার সুবিধার্থে বিদেশ থেকে মালামাল আমদানি
বিস্তারিত
সব প্রশংসা শুধু একজনের!
এখন মানুষ মানুষের প্রশংসায় মগ্ন হয়ে আছে! অথচ আমরা একবারও
বিস্তারিত