মদিনা শরিফের জুমার খুতবা

শাবান মাসের ফজিলত

প্রিয় ভাইয়েরা, এ মাসে সেসব আমলের দিকে ধাবিত হোন, যেগুলো আপনাদের আল্লাহর নৈকট্য এনে দেবে। কেননা এটা একটি ফজিলতপূর্ণ মাস। পূর্ববর্তী পুণ্যবানদের কাছে এ মাস ‘তেলাওয়াতকারীদের মাস’ হিসেবে আখ্যায়িত হতো। কারণ এ মাসে তারা বেশি বেশি কোরআনুল কারিম পাঠ করতেন, এর তেলাওয়াতে মগ্ন হতেন, রমজান মাসের প্রস্তুতিস্বরূপ কোরআনের বিধান মানতে এবং তা বেশি বেশি পাঠ করতে নিবেদিত হতেন। তাই আপনারাও এ মাসটিকে বিভিন্ন ইবাদত, যাবতীয় নফল আমল ও আনুগত্যের মাধ্যমে জীবন্ত করতে দ্রুত ধাবিত হোন, শিগগিরই উদ্যোগ নিন 

অন্যান্য মাসের মতো শাবান মাসেও মুসলিম আল্লাহর ফরজ বিধানগুলো আদায় করবে, তার আনুগত্য বাস্তবায়ন করবে। সব ধরনের হারাম কাজ, পাপ ও খারাপ বিষয় থেকে নিজেকে রক্ষা করবে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তাঁর প্রতি অবিচল থাক এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো।’ (সূরা ফুসসিলাত : ৬)।
শাবান মাসকে আল্লাহ বেশকিছু বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করেছেন। এসব বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগানোর জন্য মোমিনের সেদিকে দ্রুত ধাবিত হওয়া উচিত। উম্মুল মোমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি পিতার সূত্রে বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এমনভাবে রোজা রাখতেন যে, আমরা বলতাম, তিনি রোজা ছাড়েন না, আর এমনভাবে রোজা ছাড়তেন যেন রোজা রাখেন না। আমি আল্লাহর রাসুলকে রমজান ছাড়া কোনো সময়ে পুরো মাস রোজা রাখতে দেখিনি। শাবান মাসে কাউকে তাঁর চেয়ে বেশি রোজা রাখতে দেখিনি।’ (বোখারি ও মুসলিম)।
বোখারি ও মুসলিমের অন্য একটি বর্ণনায় আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্য কোনো মাসে শাবান মাসের চেয়ে বেশি রোজা রাখতেন না। কেননা পুরো শাবান মাসেই তিনি রোজা রাখতেন।’ এখানে মাসজুড়ে রোখা রাখার বর্ণনাটা অধিকাংশ অর্থে প্রযোজ্য হবে। আবদুল্লাহ ইবনে মোবারক ও ইবনে হাজার (রহ.) মুসলিম শরিফের বর্ণনার ক্ষেত্রে বলেছেন, ‘শাবান মাসে তিনি রোজা রাখতেন অল্প কয়েকদিন ছাড়া।’
ইবনে রজব (রহ.) বলেন, ‘শাবান মাসের রোজা সব মাসের রোজার চেয়ে উত্তম।’ এখানে তিনি সাধারণ রোজা উদ্দেশ্য করেছেন। সানআনি (রহ.) বলেছেন, ‘এ হাদিসে এ কথা প্রমাণ হয় যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্য মাসের চেয়ে শাবান মাসে বেশি রোজা রাখার বিষয়টিকে বিশেষভাবে নির্ধারণ করেছেন।’
প্রিয় ভাইয়েরা, এ মাসে সেসব আমলের দিকে ধাবিত হোন, যেগুলো আপনাদের আল্লাহর নৈকট্য এনে দেবে। কেননা এটি একটি ফজিলতপূর্ণ মাস। পূর্ববর্তী পুণ্যবানদের কাছে এ মাস ‘তেলাওয়াতকারীদের মাস’ হিসেবে আখ্যায়িত হতো। কারণ এ মাসে তারা বেশি বেশি কোরআনুল কারিম পাঠ করতেন, এর তেলাওয়াতে মগ্ন হতেন, রমজান মাসের প্রস্তুতিস্বরূপ কোরআনের বিধান মানতে এবং তা বেশি বেশি পাঠ করতে নিবেদিত হতেন। তাই আপনারাও এ মাসটিকে বিভিন্ন ইবাদত, যাবতীয় নফল আমল ও আনুগত্যের মাধ্যমে জীবন্ত করতে দ্রুত ধাবিত হোন, শিগগিরই উদ্যোগ নিন। 
উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, শাবান মাসে আপনি যত রোজা রাখেন অন্য মাসে আপনাকে তত রোজা রাখতে দেখিনি। তিনি বললেন, ‘রজব ও রমজানের মধ্যবর্তী এ মাসটির ক্ষেত্রে লোকেরা উদাসীন থাকে। এ মাসে আমলগুলো রাব্বুল আলামিনের কাছে উন্নীত করা হয়। তাই আমি চাই রোজাদার অবস্থায় আমার আমলকে যেন উন্নীত করা হয়।’ (আহমাদ, নাসাঈ)। ওলামায়ে কেরাম হাদিসটিকে ‘হাসান’ পর্যায়ের বলে মত দিয়েছেন।
ইবনে রজব (রহ.) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, ‘রজব ও রমজানের মাঝখানে এটা এমন একটি মাস, যার ব্যাপারে মানুষ উদাসীন থাকে, এতে এ ইঙ্গিত করেন যে, যেহেতু দুটি মহান মাস দ্বারা এ মাসটি বেষ্টিত, আর লোকেরা সে দুটি নিয়েই ব্যস্ত থাকে, ফলে এটা অবহেলিত থেকে যায়। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘তাই মানুষ একে অবহেলা করে ব্যস্ত থাকে এবং এমন একটি মাসের ফজিলত অর্জনে বঞ্চিত থাকে, যা তাদের কাছে প্রসিদ্ধ নয় অর্থাৎ শাবান মাস।’ 
সুনানে আবু দাউদ, নাসাঈ, মুসনাদ ইত্যাদি হাদিস গ্রন্থে একটি হাদিস আছে। ‘শাবান মাসের অর্ধেক হয়ে গেলে তোমরা রোজা রেখো না।’ এ হাদিসটিকে অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম দুর্বল বলে মত দিয়ে বলেছেন, এর সনদ ও মূল বাণী অগ্রহণযোগ্য। যারা এ হাদিসকে সহিহ বলে মত দিয়েছেন, তারা মর্ম নিয়েছেন যে, যার রোজা রাখার অভ্যাস নেই তার জন্য এটা প্রযোজ্য হবে। তখন তার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে শাবানের মধ্যবর্তী সময়ে রোজা রাখাটা মাকরুহ ধরা হবে রমজানের সতর্কতাস্বরূপ। এভাবে নির্ধারণ করাটা বেদাত। কোনো কোনো আলেম এ রকম উল্লেখ করেন।
নির্ধারিত সুন্নত হচ্ছে, যে লোকের একদিন রোজা রাখা এবং আরেকদিন রোজা না রাখার সাধারণ অভ্যাস নেই তার জন্য রমজানের আগে একদিন বা দুই দিন রোজা রাখা জায়েজ নেই। রমজান মাসের সতর্কতা হিসেবে। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের আগে একদিন বা দুই দিন রোজা রাখবে না; তবে ওই ব্যক্তি ছাড়া যে রোজা রেখে থাকে নিয়মিত, সে যেন রোজা রাখে।’ (বোখারি ও মুসলিম)। আম্মার ইবনে ইয়াসির পিতার সূত্রে বলেন, ‘যে ওই দিন রোজা রাখে যার বিষয়ে সন্দেহ আছে; তবে সে আবুল কাসেমের অবাধ্যতা করল।’ (আবু দাউদ ও তিরমিজি)। 
এ মাসে ও অন্য মাসেও এমন সব আমল দ্বারা নিজেদের সময়গুলোকে জীবন্ত করে রাখুন, যেগুলো আপনাদের আল্লাহর নৈকট্য এনে দেবে। কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতা করুন। সৎকর্মগুলোকে গনিমত মনে করুন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমার দিকে ও এমন জান্নাতের দিকে দ্রুত অগ্রসর হও, যার পরিধি আকাশম-লী ও ভূম-লের মতো। খোদাভীরুদের জন্য তা প্র্রস্তুত করা হয়েছে।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৩৩)। তিনি আরও বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আর প্রত্যেক ব্যক্তি আগামীর জন্য যা পেশ করেছে, তা যেন লক্ষ করে দেখে। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমরা যা আমল কর, সে বিষয়ে সম্যক অবগত।’ (সূরা হাশর : ১৮)।
শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাতকে নামাজের জন্য বিশেষভাবে বরাদ্দ করা এবং সেদিন রোজা রাখাকে নির্ধারণ করার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত সহিহ কোনো দলিল নেই; বরং অনেক বিজ্ঞ আলেম এটাকে অস্বীকার করেছেন এবং স্পষ্টভাবে বেদাত বলেছেন। তবে কেউ কেউ এ হাদিসটিকে সহিহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ শাবানের মধ্যবর্তী রাতে নিজের বান্দাদের প্রতি মনোনিবেশ করে জমিনবাসীকে ক্ষমা করেন; তবে মোশরেক ও বিবাদকারী ছাড়া।’ 
তবু এ হাদিসে এ রাত ও দিবসকে বিশেষ কোনো ইবাদতের সঙ্গে বরাদ্দ করা কিংবা নির্ধারিত করার কথা নেই। (শবেবরাতে নির্দিষ্ট কোনো আমল দেওয়া হয়নি। হিংসুক ও মোশরেক ছাড়া অন্যদের আল্লাহ তায়ালা এ রাতে সাধারণ ক্ষমার মধ্যে মাফ করে দেন)।


৭ শাবান ১৪৪০ হিজরি মসজিদে নববির জুমার খুতবার সংক্ষিপ্ত 
ভাষান্তর মাহমুদুল হাসান জুনাইদ


বিবাহের জন্য মেয়ে দেখতে গেলে
বিবাহ করতে প্রত্যেক পুরুষকেই মেয়ে পছন্দ করা আবশ্যক। যার কারণে
বিস্তারিত
সদকাতুল ফিতরের বিধান
আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে যেসব দান প্রদান করা বান্দার ওপর
বিস্তারিত
আজকের তারাবি ২১
দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের ইসলাম পাতায় ‘আজকের তারাবি’ শিরোনামে প্রতিদিন তারাবি
বিস্তারিত
‘বদর যুদ্ধের চেতনা মুসলিম জাতিসত্তার
ইসলামের সূচনালগ্নে আত্মনিবেদনের যে উজ্জ্বল অনুশীলন বদরের প্রান্তরে সাহাবায়ে কেরাম
বিস্তারিত
রমজানে জীবনযাপন : বিধিনিয়মের জীবনঘনিষ্ঠ
‘রমজানবিষয়ক গ্রন্থ রচনা করা অসম্ভব, বেশি হলে সংকলন করা যেতে
বিস্তারিত
মাসআলা
রোজা ও নামাজ ফরজ হওয়ার জন্য বয়স মুখ্য নয়, বালেগ
বিস্তারিত