হালালে মেলে প্রশান্তি আর মুক্তি

আমাদের দেশে আর সমাজে সম্পদ অর্জনের এক নীরব প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে। যে পথেই হোক শুধু টাকা আর টাকা দরকার। কিন্তু আমরা এটা ভেবে দেখি না যে, উপার্জনের টাকা শতভাগ হালাল হতে হবে। হারাম টাকায় উপার্জন, আর জীবনযাপন করলে ইবাদত কবুল হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই থাকে না। ইসলামে হারাম উপার্জনকারীর বিষয়ে খুব কঠোরতা রয়েছে। 
হালাল উপার্জন বা বৈধপথের উপার্জন আল্লাহর নৈকট্য বা ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মানবগোষ্ঠী! পৃথিবীতে যা আছে, তা থেকে হালাল, পবিত্র বস্তুসামগ্রী ভক্ষণ কর এবং শয়তানের অনুসরণ কর না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।’ (সূরা বাকারা : ১৬৮)।
হারাম উপার্জন করে সারা জীবন নামাজ-রোজা-হজ-জাকাত আদায় করলেও কোনো লাভ হবে না। তেমনি দানখয়রাত করলেও কবুল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কোনো ভালো কাজের তদারকি করেও আল্লাহর কাছ থেকে কোনো বিনিময় পাওয়ার আশা করলে সে আশা পূরণ হওয়ার নয়। আমাদের সমাজে বা দেশে এক দল মানুষ দেখা যায়, যারা অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করে পরে দানবীর সাজতে চায়। মানুষকে দান করে পুণ্য অর্জন করতে চায়। কিন্তু হারাম উপার্জন থেকে দান করে যারা নেকির আশা করে, তারা মূলত বোকার স্বর্গে বাস করে। এদের দানের বিনিময় আল্লাহ কিছুই দেবেন না। অবৈধ অর্থের বিনিময়ে নেকি বা আল্লাহর সন্তুষ্টি আশা করা বোকামি! 
‘হে ঈমানদাররা, তোমরা পবিত্র বস্তুসামগ্রী আহার কর, যেগুলো আমি তোমাদের রুজি হিসেবে দান করেছি এবং শুকরিয়া আদায় কর আল্লাহর, যদি তোমরা তাঁরই বন্দেগি কর।’ (সূরা বাকারা : ১৭২)।
আল্লাহ আরও বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শূকরের মাংস, যেসব জন্তু আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গকৃত হয়, যা কণ্ঠরোধে মারা যায়, যা আঘাত লেগে মারা যায়, যা উচ্চ স্থান থেকে পতনের ফলে মারা যা, যা শিংয়ের আঘাতে মারা যায় এবং যাকে হিংস্র জন্তু ভক্ষণ করেছে; কিন্তু যাকে তোমরা জবাই করেছ। যে জন্তু যজ্ঞবেদিতে জবাই করা হয় এবং যা ভাগ্যনির্ধারক শর দ্বারা বণ্টন করা হয়। এসব গোনাহর কাজ। আজ কাফেররা তোমাদের দ্বীন থেকে নিরাশ হয়ে গেছে। অতএব তাদের ভয় কর না, বরং আমাকে ভয় কর। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্র্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম। অতএব যে ব্যক্তি তীব্র ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়েছে; কিন্তু কোনো গোনাহর প্রতি প্রবণতা না থাকে; তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল।’ (সূরা মায়িদা : ৩)। 
এ কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি যদি উপার্জিত হারাম সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে; তবু তা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং ওই সম্পদ থেকে বরকত উঠিয়ে নেওয়া হয়। যদি সে ওই সম্পদ জমা করে রাখে; তবে (সে সম্পদ) তার জন্য জাহান্নামের রাস্তাকে সহজ করে দেয়।’ (মেশকাত)।
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, যারা অন্যায় পথে উপার্জন করে তার কিছু অংশ এ অন্যায় কাজ থেকে বাঁচার আশায় আল্লাহর পথে ব্যয় করে! তাদের এ ব্যয় বা দান অনর্থক, যা কোনো কাজে আসবে না। কারণ হারাম তা যে কোনো দিক থেকেই হারাম! আল্লাহ তায়ালা এসব থেকে দুনিয়ার সব মোমিনকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ দুনিয়ায় আল্লাহ সঠিক উপায়ে অর্জিত অর্থ দ্বারা জীবনযাপন, হালাল খাদ্য গ্রহণ, বৈধ জীবনযাপনের মাধ্যমে মানুষের পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সুখ-শান্তি সুনিশ্চিত করে দেন। পাশাপাশি হালাল উপার্জনকারী ব্যক্তির দ্বারা অন্যায়, অশ্লীল কাজ ও অসৎপথে জীবিকা নির্বাহ করা থেকে বিরত রাখবেন। ফলে পরকালে তাদের চিরস্থায়ী জান্নাত দ্বারা পুরস্কৃত করবেন। এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, হালাল উপার্জন দিয়ে কেনা আহার বা অন্যান্য ভোগের সবকিছু হালাল হবে। হারাম উপার্জনের টাকায় কেনা সবকিছু হারাম হবে। প্রচলিত আছে হালালে শান্তি মেলে; কিন্তু হারামে আরাম নেই! 
আজ যেসব চিত্র আমাদের সমাজে দেখা যাচ্ছে, তা রীতিমতো আঁতকে উঠার মতো। পরকালের চিন্তা না করে অনেকেই অবৈধ উপায়ে ধনসম্পদের পেছনে নিজেকে মগ্ন করে রেখেছে। আমাদের দেশে আর সমাজে নিজেদের সামর্থ্য প্রকাশের নামে টাকা প্রদর্শনের কিছু নীরব প্রতিযোগিতা চলে। অনেকেই যে পথেই হোক না একে ওপরের চেয়ে বেশি মূল্যবান বাড়ি, গাড়ি বা সম্পদ অর্জন করে নিজে ধনবান, তা প্রকাশ করতে চায়। যা কোরবানির উদ্দেশ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিরোধপূর্ণ। 
অবৈধপথে উপার্জন বা হারাম রুজি তার মৃত্যুর পরে অভিশাপ হয়ে দেখা দেবে। জাহান্নামের কারণ হতে পারে। আসুন সবাই হালাল উপার্জন করি। হারাম বা অবৈধ উপার্জন থেকে বেঁচে থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করি।


ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি উদযাপনে সুদানিরা
  দ্বীপাঞ্চলের আবদুল কাইয়ুম রাজধানী খার্তুমে সেনা কর্তৃপক্ষ ও বিরোধী জোটের
বিস্তারিত
শ্রীলঙ্কায় ইস্টার হামলার পর কেমন
  মাত্র কয়েক মাস আগেও পশ্চিম শ্রীলঙ্কায় মোহাম্মদ ইলিয়াসের ব্যবসা রমরমা
বিস্তারিত
মালয়েশিয়ায় জাকির নায়েককে নিয়ে বিতর্ক
  ডা. জাকির নায়েক ইস্যুতে মালয়েশিয়ান রাজনীতি বেশ টালমাটাল। নানা কথা
বিস্তারিত
নরেন্দ্র মোদি ও কাশ্মীর ইস্যু
  ১৫ আগস্ট লন্ডনভিত্তিক  আরবি-ইংরেজি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিউ অ্যারাবে প্রকাশিত ইমাদ
বিস্তারিত
কাশ্মীরকে দমাতে দিল্লির ৪ দফা নীলনকশা
কড়া নিরাপত্তা বলয়ে ভারত অধিকৃত গোটা জম্মু-কাশ্মীর। কারফিউয়ের সঙ্গে পরিস্থিতি
বিস্তারিত
নারী শিক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা
পবিত্র কোরআনে বারবার মানুষকে পড়াশোনা করতে, জ্ঞানার্জনে ব্রতী হয়ে আল্লাহর
বিস্তারিত