মাহফুজউল্লাহর মেয়ে বললেন ‘বাবা বেঁচে আছেন’

সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ এখনো বেঁচে আছেন। তিনি থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। রোববার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মাহফুজ উল্লাহর মেয়ে নুসরাত হুমায়রা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।

তার মেয়ে নুসরাত হুমায়রা ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, ‘জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বলছে আমার বাবা মারা গেছেন। তবে তিনি এখনও জীবীত আছেন। আমরা তার পাশেই আছি। তবে তার অবস্থা গুরুতর। তিনি কোমায় আছেন।’

ব্যাংককের হাসপাতালটির চিকিৎসকরা মাহফুজউল্লাহকে বাঁচাতে সর্বোত চেষ্টা করছেন বলে জানান তার মেয়ে।

এর আগে বিএনপি নেতা ও ড্যাবের সাবেক মহাসচিব এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছিলেন, বিকাল ৩টা ১০ মিনিটে মাহফুজউল্লাহর লাইফ সাপোর্ট খুলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

এরপর মাহফুজউল্লাহর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে বিবৃতিও আসে দলটির পক্ষ থেকে।

তবে বিএনপি সমর্থক চিকিৎসকদের নেতা জাহিদ সন্ধ্যার পর বলেন, উনার লাইফ সাপোর্ট অফ করা হয়েছে, তবে হদস্পন্দন আছে। উনার মৃত্যুর ঘোষণা দেননি চিকিৎসকরা।

তবে এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে সাহসী সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও বেদনার্ত। সাংবাদিকতা জীবনে তার মতো একজন নির্ভীক সাংবাদিকের পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়া দেশবাসীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’ ‘মরহুমের’ রুহের মাগফেরাত কামনা করে মাহফুজ উল্লাহর শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়স্বজনদের, প্রতি সমবেদনা জানান বিএনপি মহাসচিব।

৬৯ বছর বয়সী মাহফুজউল্লাহ গত ২ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল।

স্কয়ারে কয়েকদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১১ এপ্রিল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ব্যাংককে নিয়ে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

তিনি হৃদরোগ, কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এর আগে ব্যাংককে একবার তার বাইপাস সার্জারিও হয়েছিল।

মাহফুজউল্লাহর জন্ম ১৯৫০ সালে নোয়াখালী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী হিসেবে ঊনসত্তরের ১১ দফা আন্দোলনে অংশ নেন। আইয়ুব খানের শাসনামলে তাকে ঢাকা কলেজ থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল। তিনি পরে ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন) সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

ছাত্রাবস্থাতেই মাহফুজউল্লাহ সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। বাংলাদেশের একসময়ের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রার ১৯৭২ সালে জন্মলগ্ন থেকেই তিনি জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে কাজ করেছেন তিনি। পরিবেশ বিষয়ক সাংবাদিকতায় তার অবদান রয়েছে।

মাহফুজউল্লাহ মাঝে চীনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে, কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসে দায়িত্ব পালন করেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেছেন তিনি।

তিনি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে শিক্ষকতায় যুক্ত। এছাড়া টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত দেখা যায় তাকে।

বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখা মাহফুজউল্লাহর বইয়ের সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি।

তার সম্পাদিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে- প্রেসিডেন্ট জিয়া অব বাংলাদেশ: আ পলিটিক্যাল বায়োগ্রাফি, যাদুর লাউ, যে কথা বলতে চাই, অভ্যুত্থানের ঊনসত্তর, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন: গৌরবের দিনলিপি (১৯৫২-৭১), উলফা অ্যান্ড দ্য ইনসারজেন্সি ইন আসাম, বেগম খালেদা জিয়া: হার লাইফ হার স্টোরি, স্বাধীনতার প্রথম দশকে বাংলাদেশ।


বাংলাদেশ-ভারত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বিস্তারিত
তিন দিনের সফরে ঢাকায় ভারতের
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তিন দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন। অক্টোবরের
বিস্তারিত
ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসাপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১
বিস্তারিত
কমলাপুরে ট্রেনের বগি থেকে তরুণীর
রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনে ট্রেনের পরিত্যক্ত বগিতে এক তরুণীর লাশ পাওয়া
বিস্তারিত
দুপুরের খাবার পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা
২০২৩ সালের মধ্যে দেশের ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১
বিস্তারিত
মশা নিধনে মঙ্গলবার থেকে প্রতিটি
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, মশা
বিস্তারিত