যে আয়াত জীবনকে পরিবর্তন করে দেবে!

আজকে যে আয়াত নিয়ে আলোচনা করছি, তাতে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা ঈমানদারদের কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ নসিহত করছেন। যেসব বিষয় আমাদের সমাজে অহরহ হয়ে থাকে। যে রোগগুলোর সম্পর্ক আত্মার সঙ্গে। অনেকাংশে এই রোগগুলো দেখা যায় না।

তন্মধ্যে একটি হলো হিংসা। হিংসা হলো মানুষের আত্মিক রোগের একটি। হিংসা মরণ ব্যাধির চেয়ে মরণ। ক্ষরণ করে দেয় নেক আমল সব। আত্মাকে দূষিত ও শোষিত করে। যে আত্মায় এই রোগের জন্ম হয়, এর থেকে আরো অনেক আত্মিক রোগের জন্ম হয়। হিংসা এমন রোগ যার ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল (সা.) সর্বদা সতর্ক করতেন। এই রোগের ক্ষতির দিকগুলো বারবার বর্ণনা করেছেন।

বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন আঙ্গিকে এই রোগ থেকে বেঁচে থাকা ও এই রোগের দুর্বলতা ও ক্ষতির স্থানগুলো চিহ্নিত করেছেন। পবিত্র কোরআন শরীফের বিভিন্ন আয়াতে হিংসা নামক রোগ থেকে বেঁচে থাকার জোরালো নির্দেশ এসেছে। তবে আজকের আলোচ্য আয়াতে হিংসার সঙ্গে সঙ্গে আরো এমন কতগুলো বিষয়ের বর্ণনা করা হয়েছে যা থেকে বেঁচে থাকলে জীবন হবে সুন্দর ও তাকওয়াপূর্ণ।

আয়াতটি হলো- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِنْ قَوْمٍ عَسَى أَنْ يَكُونُوا خَيْرًا مِنْهُمْ وَلَا نِسَاءٌ مِنْ نِسَاءٍ عَسَى أَنْ يَكُنَّ خَيْرًا مِنْهُنَّ وَلَا تَلْمِزُوا أَنْفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيمَانِ وَمَنْ لَمْ يَتُبْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ [الحجرات তরজমা: হে মুমিনগণ! পুরুষগণ যেন অপর পুরুষেদেরকে উপহাস না করে।

তারা (অর্থাৎ যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে) তাদের চেয়ে উত্তম হতে পারে এবং নারীগণও যেন অপর নারীদেরকে উপহাস না করে। তারা (অর্থাৎ যে নারীদেরকে উপহাস করা হচ্ছে) তাদের চেয়ে উত্তম হতে পারে। তোমরা একে অন্যকে দোষারোপ করো না। এবং একে অন্যকে মন্দ উপাধিতে ডেক না। ঈমানের পর গোনাহের নাম যুক্ত হওয়া বড় খারাপ কথা। যারা এসব থেকে বিরত না হবে তারাই জালেম। (সূরা: হুজুরাত, আয়াত: ১১) আয়াতের মাঝে ‘সাখরা’ শব্দ উল্লেখ করে বলা হয়েছে যেন কোনো পুরুষ বা নারী অন্য কোনো পুরুষ বা নারীকে ‘সাখরা’ না করে। ‘সাখরা’ এর শাব্দিক অর্থ হলো হিংসা বিদ্বেষ দোষারোপ উপহাস বিদ্রুপ করা ইত্যাদি।

সুতরাং এই আয়াত থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, একে অপরকে হিংসা করা যাবে না, অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা যাবে না, অন্যকে উপহাস করা যাবে না, অন্যকে নিয়ে হাসি তামাশা করা যাবে না, বিদ্রুপ করা যাবে না।

এই আয়াতের ব্যাখ্যাতে তাফসির কুরাইরিতে লেখেন- نهى اللَّهُ – سبحانه تعالى- عن ازدارءِ الناس ، وعن الغَيْبَةِ ، وعن الاستهانةِ بالحقوق ، وعن تَرْكِ الاحترام তরজমা: ‘আল্লাহ তায়ালা মানুষকে আদেশ দিচ্ছেন যে, মানুষকে ঘৃণা হেয়জ্ঞান অবজ্ঞা না করতে, গীবত না করতে, অধিকার সম্পর্কে অপমান না করতে ইত্যাদি।’ এর একটু পরে বলেন- দোষারুপের বিষয়টি পৃথকও করে উল্লেখ করেছেন। দোষারুপ বলতে অযথা একে অন্যকে দোষারুপ করা।

সমাজে এক শ্রেণির লোক রয়েছে যাদের কাজই হলো কে কী করলো তার কী দোষ আছে তা খুটে খুটে বের করা। যদি মানুষ নিজেদের মধ্যকার দোষগুলো তালাশ করতে থাকে। তাহলে কেউ নির্দোষ বা বিপদ মুক্ত থাকতে পারবে না।

সমাজের সামাজিকতা পারস্পরিক সম্পর্কে স্থিতি সম্পূর্ণরূপে ভেঙ্গে খান খান হয়ে যাবে। অন্যের দোষা তালাশ এটি এমন এক রোগ যা রোগীতে শান্তি দেয়-ই না, বরং সমাজকেও অশান্তির অনলে জ্বালায়। আয়াতের আরেকটি মন্দ বিষয় থেকে বেঁচের থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সেই বিষয়টি হলো একে অন্যকে মন্দ উপাধিতে ডাকা। তাফসিরে জালালাইনে বলা হয়েছে-وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ” لَا يَدْعُو بَعْضكُمْ بَعْضًا بِلَقَبٍ يَكْرَههُ وَمِنْهُ يَا فَاسِق يَا كَافِر অর্থাৎ: তোমরা একে অপরকে এমন উপাধিতে ডেকো না যা অপছন্দনীয়। যেমন হে কাফের! হে ফাসেক! ইত্যাদি’ (তাফসিরে জালালাইন ) মন্দ উপাধির কতগুলো সুরুত আছে। কারো নামকে ব্যঙ্গ করে ডাকা।

নামের উচ্চারণে ব্যঙ্গাত্মক সুর বা শব্দ করা। নামের আগে পরে ব্যঙ্গাত্মক শব্দ জুড়ে দেওয়া। তবে হ্যাঁ, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হতে পারে যাকে ডাকে তাকে হেয়পতিপন্ন করা, নিচু করা, অপমান করা, রাগানো বা চটানো ইত্যাদি। যদি এই সব বিষয় উদ্দেশ্য না হয়- তবে তার নিষেধের আওতায় পরবে না।

যেমন ধরুন কেউ তার স্ত্রীর নাম পারুল ডাকে পারু; এর দ্বারা রাগানো চটানো বা বিদ্রুপ উদ্দেশ্য নয়, স্ত্রীও এমন কিছু মিন করে না। আরেকটি কেউ তার স্ত্রীকে আপন করে পাগলী ডাকে। এর দ্বারা রাগানো চটানো বা বিদ্রুপ উদ্দেশ্য নয়, স্ত্রীও এমন কিছু মিন করে না।
তাহলে তা আল্লাহর ওই স্পেশাল নিষেধের আওতায় পড়বে না। বন্ধু মহলে এমন হয় যা কেউ খারাপ মিন করে না। এসব কিছু বলা পর আল্লাহ তায়ালা যে কথাটা বলেছেন তাহলো ঈমান গ্রহণ করার পর মন্দ কথা বড়োই পাপের বিষয়। কোনো ঈমানদারের শান ও মান হতে পারে না যে, সে অন্যকে বিদ্রুপ করবে, অন্যকে দোষারূপ করবে, অন্যকে মন্দ নামে ডাকবে।

ঈমান গ্রহণের পরও যে এই সব ঘৃণিত বস্তু পরিহার না করলো সে অবশ্যই জালেম শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। সমস্ত আলোচনা থেকে আমাদের সামনে প্রতীয়মান হলো- কোনো ঈমানদার অন্য কাউকে বিদ্রুপ উপহাস হেয়জ্ঞান ও হাসি তামাশা করতে পারে না। এবং নিজেরা নিজেরা একে অপরকে দোষারোপ করা বা দোষারোপের পিছনে পরে থাকতে পারে না।

যদি আমরা সকলেই জীবনের ও সমাজের সকল ক্ষেত্রে আলোচ্য আয়াতটি পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহেল আমার নিজের জীবন যেমন আশান্তি মুক্ত হবে, তেমনি সমাজও হবে অশান্তি মুক্ত একটি সুন্দর সুখি সমাজ।

জীবন পরিবর্তনে এই একটি আয়াতই যথেষ্ট; সব আয়াতের ওপর করতে না পারলেও যদি এই আলোচ্য আয়াতটি আমল করা যায় তাহলে দেখব সকল আয়াতের ওপর আমল করা হয়ে গেছে। মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ পাক আমাদের এই আয়াতটুকুর ওপর আমল করা তৌফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।


ইসলামে শান্তির পয়গাম
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে
বিস্তারিত
আজকের তারাবি -২২
দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের ইসলাম পাতায় ‘আজকের তারাবি’ শিরোনামে প্রতিদিন তারাবি
বিস্তারিত
শবেকদরের ফজিলত ও আমল
শবেকদরের আরবি হচ্ছে লাইলাতুল কদর। আরবি ভাষায় লাইলুন শব্দের অর্থ
বিস্তারিত
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন : নামাজের প্রথম কাতার পূর্ণ হয়ে গেলে দ্বিতীয় কাতার
বিস্তারিত
মাহে রমজান উপলক্ষে কুইজ প্রতিযোগিতা
(সৌজন্যে : মাকতাবাতুল ইসলাম) আজকের প্রশ্ন পবিত্র কোরআনে আয়াত সংখ্যা কত? সঠিক কোনটি
বিস্তারিত
বিজিবিতে আজান ও কেরাত প্রতিযোগিতা
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর সকল পদবীর সৈনিক ও অসামরিক
বিস্তারিত