স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা

ইসলামে ঘোষিত সব হালাল খাদ্য স্বাস্থ্য উপযোগী এবং সব হারাম খাদ্য স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ইসলাম রোগ প্রতিরোধের প্রতি জোর তাগিদ দিয়েছে। তাই যে জিনিসগুলোর কারণে মানুষের অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, ইসলাম আগেই সেগুলোকে নিষিদ্ধ বা হারাম করে দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শূকরের মাংস, যেসব জন্তু আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গকৃত হয়, যা কণ্ঠরোধে মারা যায়, যা আঘাত লেগে মারা যায়, যা উচ্চ স্থান থেকে পতনের ফলে মারা যায়, যা শিংয়ের আঘাতে মারা যায় এবং যাকে হিংস্র জন্তু ভক্ষণ করেছে।’ (সূরা মায়েদা : ৩)।

মহান আল্লাহ মানুষকে সুস্বাস্থ্য দিয়েছেন এবং স্বাস্থ্যরক্ষার প্রয়োজনীয় সব উপায়-উপকরণও দান করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাকে তোমার প্রতিপালক সম্পর্কে কিসে বিভ্রান্ত করল? যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন অতঃপর তোমাকে সুবিন্যস্ত ও সুষম করেছেন। তিনি তোমাকে তাঁর ইচ্ছামতো আকৃতিতে গঠন করেছেন।’ (সূরা ইনফিতার : ৬-৮)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘অধিকাংশ মানুষ আল্লাহর দুটি বিশেষ নেয়ামত সম্পর্কে খুবই উদাসীন। একটি হলো স্বাস্থ্য আর অন্যটি হলো অবসর।’ (বোখারি : ৬০৪৯)। মূলত সুস্বাস্থ্য মহান আল্লাহর দেওয়া একটি বড় নেয়ামত। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং এই নেয়ামতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন এবং সাহাবিদের দোয়া করতে বলতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রায়ই দোয়ার মাঝে বলতেন, ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে স্বাস্থ্য, সুস্থতা, শান্তি, নিরাপত্তা প্রার্থনা করি।’ (শুয়াবুল ঈমান : ১৯২)। একবার ফজল ইবনে আব্বাস (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাকে এমন একটি দোয়া শিখিয়ে দিন, যা দিয়ে আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করব। তিনি বললেন, ‘হে আব্বাস! হে রাসুলের চাচা! আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের সুস্থতা ও শান্তি কামনা করুন।’ (তিরমিজি : ৩৫১৪)। কোরআন ও হাদিসে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত নির্দেশনা; যা মেনে চললে সুস্থতা সুনিশ্চিত করা সম্ভব। ইসলামের সব বিধিবিধান স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য এক অনন্য ব্যবস্থাপত্র। 
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিচ্ছন্নতা : স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হলে শরীরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন অধিক পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের।’ (সূরা বাকারা : ২২২)। আর হাদিসের মধ্যে পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলা হয়েছে, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধেক।’ (মুসলিম :২২৩)। মুখ, নাক, কান ও চোখ অপরিষ্কার থাকলে বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধির সংক্রমণ হতে পারে। এ কারণে ইসলাম এসব অঙ্গ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিধান দিয়েছে। ওজুর মধ্যমে হাত-পা, মুখ, নাক, কান ও চোখ দৈনিক পাঁচবার পরিষ্কার করা হয়ে থাকে। এর ফলে এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে কোনো ধরনের রোগজীবাণু লেগে থাকতে পারে না।
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিমিত আহার : অত্যধিক আহারের কারণে অনেক ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ জন্য পরিমিত আহার গ্রহণ করার ব্যাপারে ইসলাম জোর তাগিদ দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মানুষ পেটের চেয়ে খারাপ কোনো পাত্র ভর্তি করে না। মানুষের মেরুদ- সোজা রাখার মতো কয়েক গ্রাস খাদ্যই তার জন্য যথেষ্ট। এর চেয়েও যদি বেশি প্রয়োজন হয়, তবে পেটকে তিন ভাগে ভাগ করে এক-তৃতীয়াংশ তার খাদ্যের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ তার পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ভাগ করে নেবে।’ (তিরমিজি : ২৩৮০)। আবার খাওয়ার পরপরই রাসুল (সা.) ঘুমাতে নিষেধ করেছেন। (শুয়াবুল ঈমান : ৬০৪৪)। কারণ খাওয়ার পরপরই ঘুমাতে গেলে অনেক ধরনের স্বাস্থ্য সমাস্যা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে।
রোগ প্রতিরোধে ইসলামের নির্দেশনা : ইসলাম সব উপকারী ও পুষ্টিকর খাদ্য বৈধ করেছে এবং অপবিত্র ও ক্ষতিকর পণ্যসামগ্রী হারাম বা নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। ইসলামে ঘোষিত সব হালাল খাদ্য স্বাস্থ্য উপযোগী এবং সব হারাম খাদ্য স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ইসলাম রোগ প্রতিরোধের প্রতি জোর তাগিদ দিয়েছে। তাই যে জিনিসগুলোর কারণে মানুষের অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, ইসলাম আগেই সেগুলোকে নিষিদ্ধ বা হারাম করে দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শূকরের মাংস, যেসব জন্তু আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গকৃত হয়, যা কণ্ঠরোধে মারা যায়, যা আঘাত লেগে মারা যায়, যা উচ্চ স্থান থেকে পতনের ফলে মারা যায়, যা শিংয়ের আঘাতে মারা যায় এবং যাকে হিংস্র জন্তু ভক্ষণ করেছে।’ (সূরা মায়েদা : ৩)। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে মোমিনরা, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরগুলোÑ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।’ (সূরা মায়েদা : ৯০)। বস্তুত শূকরের মাংস, নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ ও মৃত প্রাণী ইত্যাদি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। নেশাজাত দ্রব্য পরিহার করে মানুষ হৃদরোগ ও ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগ থেকে বেঁচে থাকতে পারে। ইসলামে ছেলেদের খতনা করানোর নিয়মটা স্বাস্থ্যসম্মত বলে প্রমাণিত হওয়ায় অনেক অমুসলিমও খতনা করানো শুরু করে দিয়েছে। কারণ বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধি থেকে মুক্ত থাকার জন্য এটাও এক ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। 
চিকিৎসা গ্রহণে ইসলামের নির্দেশনা : সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরও কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার জন্য করণীয় কী হবে ইসলাম সে নির্দেশনাও দিয়েছে। এক্ষেত্রে প্রথমে সে আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশা করবে। আল্লাহ তায়ালা রোগ দিয়েছেন তিনিই রোগ নিরাময় করবেনÑ এ বিশ্বাস ধারণ করতে হবে। তবে আল্লাহর ওপর ভরসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করাও ইসলামের নির্দেশনা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ রোগ সৃষ্টি করেছেন এবং সব রোগের জন্য তিনি ওষুধ সৃষ্টি করেছেন। সব রোগের জন্য চিকিৎসা করবে, তবে হারাম বস্তুর মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণ করবে না।’ চিকিৎসা ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক। যেমন একটা সময় ছিল, যদি কারও জ্বর হতো তাহলে ঠান্ডা পানি ব্যবহার করতে চিকিৎসা বিজ্ঞান নিষেধ করত। কিন্তু বর্তমান আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে জ্বর কমানোর জন্য ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর ধুয়ে ফেলা কিংবা ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর মুছে ফেলার কথা বলা হয়েছে। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) বহু আগেই বলেছেন, ‘জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ থেকে সৃষ্ট, তাই পানি দিয়ে তা ঠান্ডা কর।’ আবার কালোজিরা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কালোজিরার মধ্যে মৃত্যু ব্যতীত আর সব রোগের আরোগ্য রয়েছে।’ মধু সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘মৌমাছির উদর থেকে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের মধু, যাতে মানুষের জন্য রয়েছে আরোগ্য।’ (সূরা নাহল :৬৯)। বর্তমানে মধু ও কালোজিরা নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন গবেষণাগারে গবেষণা হচ্ছে। রোগ প্রতিরোধ এবং রোগ নিরাময়ে এর কার্যকারিতা প্রতিনিয়ত আবিষ্কার হচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের যতই অগ্রগতি হচ্ছে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইসলামের অবদান ততই স্পষ্ট হচ্ছে।


ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি উদযাপনে সুদানিরা
  দ্বীপাঞ্চলের আবদুল কাইয়ুম রাজধানী খার্তুমে সেনা কর্তৃপক্ষ ও বিরোধী জোটের
বিস্তারিত
শ্রীলঙ্কায় ইস্টার হামলার পর কেমন
  মাত্র কয়েক মাস আগেও পশ্চিম শ্রীলঙ্কায় মোহাম্মদ ইলিয়াসের ব্যবসা রমরমা
বিস্তারিত
মালয়েশিয়ায় জাকির নায়েককে নিয়ে বিতর্ক
  ডা. জাকির নায়েক ইস্যুতে মালয়েশিয়ান রাজনীতি বেশ টালমাটাল। নানা কথা
বিস্তারিত
নরেন্দ্র মোদি ও কাশ্মীর ইস্যু
  ১৫ আগস্ট লন্ডনভিত্তিক  আরবি-ইংরেজি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিউ অ্যারাবে প্রকাশিত ইমাদ
বিস্তারিত
কাশ্মীরকে দমাতে দিল্লির ৪ দফা নীলনকশা
কড়া নিরাপত্তা বলয়ে ভারত অধিকৃত গোটা জম্মু-কাশ্মীর। কারফিউয়ের সঙ্গে পরিস্থিতি
বিস্তারিত
নারী শিক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা
পবিত্র কোরআনে বারবার মানুষকে পড়াশোনা করতে, জ্ঞানার্জনে ব্রতী হয়ে আল্লাহর
বিস্তারিত