রানাপ্লাজা ট্রাজেডির ৬ বছর

শ্রমিকের চোখে-মুখে শুধুই বিচারের দাবি

কেউ হারিয়েছেন মা, কেউ হারিয়েছেন বাবা, কেউ ভাই, কেউ বোন, কেউ স্ত্রী, কেউ স্বামী, আবার কেউ বা হরিয়েছেন একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে। এই রানা প্লাজাই তাদের আজ নিঃস্ব করে দিয়েছে। এতগুলো শ্রমিকের জীবন শেষ করে দেওয়ার পেছনে যারা দায়ী, তাদের এখনও বিচার কাজ শেষ হয়নি। কবে হবে? তা কেউ জানে না।

তারপরও এই একটা দিনে নিশ্চিহ্ন হওয়া রানা প্লাজার সামনে এসে অভাগা স্বজনদেরকে স্মরন করেন, বেঁচে থাকা আহত ও নিহত শ্রমিকদের স্বজনেরা। তারা সবাই বিশ্বাস করেন, এই হত্যার বিচার একদিন হবেই, হবে।

রানা প্লাজার ছয় বছর উপলক্ষে বুধবার সাভারে নিহত শ্রমিকদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সকাল থেকেই রানা প্লাজার সামনে জড়ো হতে থাকে আহত ও নিহত শ্রমিকদের স্বজনেরা। তাদের বেশির ভাগ শ্রমিকের হাতেই ছিলো যৎসামান্য কিছু ফুল। সেই ফুল দিয়েই শ্রমিকরা পরম আবেগে অস্থায়ী বেদিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। অন্যদিকে গত দুই দিন আগে থেকেই ১১ দফা দাবীতে অনশন করছেন আহত শ্রমিকদের মধ্যে কয়েকজন। ইতিমধ্যে তাদের কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

মাহমুদুল হাসান হৃদয় (৩২) দুই দিন ধরে রানা প্লাজার সামনে অনশন করছেন। তিনি কাজ করতেন রানা প্লাজার অষ্টম তলার নিউ স্টাইল লিমিটেড কারখানায়। বর্তমানে তিনি পৌর এলাকার ছায়াবিথী মহল্লায় ভাড়া থেকে ফার্মেসি’র ব্যবসা করে সংসার চালান। আর বাকি বিল্লাহ নামের অপর এক শ্রমিক বর্তমানে বেকার অবস্থায় চাকুরীর জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তারা বলেন, অনেকেই অনশন করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। প্রশাসনের কেউ এখন পর্যন্ত খোঁজ নেননি তাদের।

রানা প্লাজা সার্ভাইভারস এসোসিয়েশন অব সাভার এর সভাপতি আহত শ্রমিক মাহমুদুল হাসান অনশন করা প্রসঙ্গে বলেন, গত তিন দিন ধরে আমরা ১১ দফা দাবি আদায়ে অনশন করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন করে যাব।

অনশনকারীদের দাবিগুলো হচ্ছে, রানা প্লাজার সকল ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিকে ৪৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, পূনর্বাসন, আজীবন চিকিৎসা সেবা প্রদান, জাতীয় রানা প্লাজা শোক দিবস ঘোষণা, আহত, নিহত ও নিখোঁজদের বাচ্চাদের লেখাপড়ার দায়িত্ব গ্রহণ, সকল আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান, তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, উদ্ধারকর্মীদের চিকিৎসা প্রদান, রানা প্লাজার স্থানে স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, আহত নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারকে প্রয়োজনী চিকিৎসা প্রদান এবং রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের চাকরি দেয়া।

এছাড়াও সকাল থেকে রানা প্লাজার সামনে মোতায়েন করে রাখা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। অস্থায়ী বেদির সামনে কাউকে বেশি সময় অবস্থান করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাদের ভয়ে শ্রমিকরা ঠিকমত বেদিতে শ্রদ্ধাও জানাতে পারছেন না।

শ্রদ্ধা জানাতে আসা আহত শ্রমিক নিলুফা ও হৃদয় জানান, জীবিকার প্রয়োজনে রানা প্লাজায় চাকরি নিয়েছিলেন তারা। অথচ সেই রানা প্লাজা নির্মাণের ত্রুটিই, আজ তাদেরকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। তারা আজকের এই দিনকে শোক দিবস ঘোষণার পাশাপাশি দ্রুত বিচার কাজ শেষ করার দাবি জানান।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সুজন বলেন, এ ঘটনার বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি শ্রমিকদের পুরনো দাবি। যতদিন এই দাবি পূরণ না হবে, শ্রমিকরা ততদিন এই রানা প্লাজার সামনে এসে একত্রিত হয়ে অজস্য কন্ঠে প্রতিবাদ জানাবে। পুলিশ যতই লাঠির ভয় দেখাক না কেন। ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিকের তাজা প্রাণ হত্যার দায় রাষ্ট্রকে নিতেই হবে।


মালিবাগে পুলিশের গাড়িতে বোমা হামলা,
রাজধানীর মালিবাগ মোড়ে পুলিশের গাড়িতে ককটেল ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময়
বিস্তারিত
বিএনপির রাজনীতিতে কোন চরিত্র নেই:
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেছেন, বিএনপির গণমুখী রাজনীতিতে এখন
বিস্তারিত
আম চুরির অভিযোগে শিশুকে পিটিয়ে
পটুয়াখালীর বাউফলে আম চুরির অভিযোগে ছাব্বির নামে (১৩) এক শিশুকে
বিস্তারিত
ভিপি নুরের ওপর ছাত্রলীগের হামলা
এবার বগুড়ায় ছাত্রলীগ নেতার্মীদের হামলার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয়
বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জে ইউএনও হাটে গিয়ে কৃষকের
সিরাজগঞ্জে নির্বাহী অফিসাররা হাট-বাজারে গিয়ে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারের
বিস্তারিত
চাঁদপুরে নকল কারখানার সন্ধান, মালিককে
চাঁদপুরে জেলা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে শহরের ওয়ারল্যাস বাজার এলাকা
বিস্তারিত