প্রচলিত ইনজিলে মহানবী (সা.) প্রসঙ্গ

প্রচলিত ইনজিলে অনেক ভবিষ্যদ্বাণী বর্ণিত হয়েছে। আমরা মাত্র একটি আলোচনা করছি। যিশু/ঈসা বলেছেন, ‘তোমাদের সঙ্গে থাকতে থাকতেই এসব কথা আমি তোমাদের বলেছি। সেই সাহায্যকারী, অর্থাৎ পাক-রুহ, যাকে পিতা আমার নামে পাঠিয়ে দেবেন, তিনিই সব বিষয়ে তোমাদের শিক্ষা দেবেন, আর আমি যা কিছু বলেছি সেসব তোমাদের মনে করিয়ে দেবেন।’ (ইউহোন্না ১৪ : ২৫-২৬)। 

মোহাম্মদ (সা.) এর ক্ষেত্রে ভবিষ্যদ্বাণীটি পুরোপুরি প্রযোজ্য। প্রথমত, তিনি মানুষকে প্রস্রাব-পায়খানা থেকে শুরু করে সবকিছু শিক্ষা দিয়েছেন, যা আপনি কোরআন ও হাদিস অধ্যয়ন করলে বিস্তারিত জানতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, ‘আমি যা কিছু বলেছি সেসব তোমাদের মনে করিয়ে দেবেন’ শেষ নবী ঈসা (আ.) এর কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। (দেখুন, সূরা সফ : ৬; সূরা মায়েদা : ১১০-১১৬; সূরা আলে ইমরান : ৫৫)।
প্রচলিত ইনজিলের একটি দৃষ্টান্ত : সূরা ফাতাহ ২৯ আয়াতের শেষাংশে একটি দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়েছে। কোরআনের দৃষ্টান্তটি প্রচলিত ইনজিলের ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। যেমন; যিশু/ঈসা বললেন, ‘কিসের সঙ্গে আমরা আল্লাহর রাজ্যের তুলনা করব? কোন দৃষ্টান্তের মধ্য দিয়ে তা বুঝব? সে রাজ্য একটা সরিষা দানার মতো। জমিতে বোনার সময় দেখা যায়, ওটা সব বীজের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। কিন্তু লাগানোর পর যখন গাছ বেড়ে ওঠে তখন সব শাকসবজির মধ্যে ওটা সবচেয়ে বড় হয়, আর এমন বড় বড় ডাল বের হয় যে, পাখিরাও তার আড়ালে বাসা বাঁধে।’ (মার্ক ৪ : ৩০-৩২, মথি ১৩ : ৩১-৩২, লুক ১৩ : ১৮-১৯)। 
মূল ইনজিলে কথাগুলো কীভাবে ছিল? আমরা জানি না। বর্তমান ইনজিলে যেভাবে আছে, তাও কোরআনের দৃষ্টান্তের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। এরশাদ হচ্ছে, ‘আর ইনজিলে তাদের দৃষ্টান্ত এই, যেন এক শস্যক্ষেত্র, যা তার কুঁড়ি বের করল, তারপর তাকে শক্ত করল। তারপর তা পুষ্ট হলো। তারপর তা নিজ কা-ের ওপর এভাবে সোজা দাঁড়িয়ে গেল যে, তা কৃষককে মুগ্ধ করে ফেলে। এটা এ জন্য যে, আল্লাহ তাদের (উন্নতি) দ্বারা কাফেরদের অন্তর্দাহ সৃষ্টি করেন।’ (সূরা ফাতাহ : ২৯)।
সত্য নবীকে চেনার উপায় : আমরা ধর্মগ্রন্থের আলোকে নির্ণয় করব,  মোহাম্মদ (সা.) সত্য নাকি মিথ্যা নবী ছিলেন। বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব নয়। এখানে সংক্ষেপে কয়েকটি আলামত পেশ করছি; যার মাধ্যমে সত্য-মিথ্যা যাচাই করা যাবে।
সত্য নবী ঈসাকে মানুষ হিসেবে বিশ্বাস করবেন : ১ ইউহোন্না ৪:১-৩ পদে বলা হয়েছে, প্রিয় সন্তানেরা, তোমরা সব রুহকে বিশ্বাস করো না, বরং যাচাই করে দেখ তারা আল্লাহ থেকে এসেছে কি না, কারণ দুনিয়াতে অনেক ভ- নবী বের হয়েছে। আল্লাহর রুহকে তোমরা এ উপায়ে চিনতে পারবে যে রুহ স্বীকার করে ঈসা মসিহ মানুষ হয়ে এসেছিলেন, সেই রুহই আল্লাহ থেকে এসেছে।’ (পাক কিতাবের আলোকে আপনার প্রশ্নের উত্তর)।
ভ্রান্ত ও সঠিকের একটি আলামত পাওয়া গেল। যে নবী ঈসাকে মানুষ বিশ্বাস করবেন না তিনি রুহ ভ্রান্ত। আর যে নবী ঈসাকে মানুষ বলে বিশ্বাস করবেন, তিনি সঠিক। বুঝতে হবে তিনি আল্লাহ থেকে এসেছেন। তাকে আল্লাহ পাঠিয়েছেন। মোহাম্মদ (সা.) কোরআনের মাধ্যমে বলেছেন, ‘ঈসা আদমের মতো মানুষ ছিলেন।’ (দেখুন সূরা আলে ইমরান : ৫৯, নিসা : ১৭২)। 
সত্য নবী আল্লাহর ইবাদতের দাওয়াত দেবেন : প্রচলিত তাওরাতে বলা হয়েছে, ‘ধরে নাও, তোমাদের মধ্যে কোনো নবী বা স্বপ্ন দেখে ভবিষ্যতের কথা বলতে পারে এমন কেউ দেখা দিল এবং তোমাদের কাছে কোনো চিহ্ন বা কুদরতির কথা বলল আর তা সত্যিই ঘটল। সেই লোকও যদি তোমাদের কাছে নতুন এমন দেব-দেবীর সম্বন্ধে বলে, ‘চল, আমরা দেব-দেবীর কাছে গিয়ে তাদের পূজা করি’, তবে তোমরা সেই নবী বা স্বপ্ন দেখা লোকের কথা শুনো।’ (দ্বিতীয় বিবরণ ১৩:১-৩)।
এখানে বলা হয়েছে, যদি তিনি দেব-দেবীর পূজা করার কথা বলেন, তাহলে ভ- নবী হিসেবে প্রমাণিত হবে। আর যদি তিনি দেব-দেবীর পূজার বিরোধিতা করেন এবং একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করতে বলেন, তবে তিনি সত্য নবী বলে প্রমাণিত হবেন। তাকে অবশ্যই মানতে হবে। মোহাম্মদ (সা.) দেব-দেবীর বিরোধিতা করেছেন, তাদের কাছে মানত করতে, তাদের পূজা-অর্চনা করতে কঠিনভাবে নিষেধ করেছেন। এমনকি তিনি সে সময় সব মূর্তি ভেঙে দিয়েছেন। (দেখুন সূরা হজ : ৭৩, ইউসুফ : ৪০, আনকাবুত : ১৭, নিসা : ৫১-৫২, আম্বিয়া : ৩৬, নুহ : ২৩-২৪, সাফফাত : ১২৩-১২৬, ফুরকান : ১৪-৪২, নাজম : ১৯-২৩)।
ফল দেখে গাছ চেনা যায় : প্রচলিত ইনজিলের অন্যতম পুস্তক মথির সপ্তম অধ্যায়ে ‘ভ- নবীদের চিনবার উপায়’ শিরোনামে বলা হয়েছে, ভ- নবীদের বিষয়ে সাবধান হও। ... তাদের জীবনে যে ফল দেখা যায় তা দিয়েই তোমরা তাদের চিনতে পারবে। কাঁটাঝোপে কি আঙুর ফল কিংবা শিয়ালকাঁটায় কি ডুমুর ফল ধরে? ঠিক সেভাবে প্রত্যেক ভালো গাছে ভালো ফলই ধরে আর খারাপ গাছে খারাপ ফলই ধরে। ভালো গাছে খারাপ ফল এবং খারাপ গাছে ভালো ফল ধরতে পারে না। যে গাছে ভালো ফল ধরে না তা কেটে আগুনে ফেলে দেওয়া হয়। এজন্য বলি, ভ- নবীদের জীবনে যে ফল দেখা যায় তা দিয়েই তোমরা তাদের চিনতে পারবে।’ (মথি ৭ : ১৫-২০)।
মাত্র ২৩ বছরের স্বল্পসময়ে রাসুল (সা.) এর প্রচেষ্টায় সাহাবায়ে কেরামের মতো এক বিশাল জামাত তৈরি হয়ে যায়। যারা নিজেদের ব্যক্তিজীবনে, শাসন ক্ষেত্রে, খিলাফত পরিচালনায় এবং মানুষের সঙ্গে কথাবার্তায়, আচার-আচরণে ইনসাফ ও সততার এবং ন্যায় ও ধার্মিকতার এমন সব উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, যার বিন্দুমাত্র নজির দুনিয়ার কোনো জাতির ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যাবে না, এমন নজির পেশ করতে দুনিয়া অপারগ।
মোহাম্মদ (সা.) নামক গাছের ফল সম্পর্কে কোরআন বলছে, মোহাম্মদ (সা.) এর সব শিষ্যের ওপর আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট। এমনকি কেয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর শিষ্যদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপরও আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে চিরস্থায়ীভাবে জান্নাত দান করবেন। (সূরা তাওবাহ : ১০০, বাইয়্যিনাহ : ৮, মায়িদা : ১১৯, ফাতাহ : ১৮, মুজাদালাহ : ৮, ২২, হাশর : ৮, মায়িদা : ১১৯)। শুধু শিষ্য নয়; তাঁর সব অনুসারীরা জান্নাতে যাবে। (আলে ইমরান : ৩১, ১৩২, নূর : ৫২, ৫৬, নিসা : ৭০)।
হে আল্লাহর বান্দা! আপনার মনের ঐকান্তিক ইচ্ছা ও কাম্য বিষয় হলো মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং পরকালে জাহান্নাম (নরক) থেকে মুক্তি লাভ করা। সুতরাং আপনার কর্তব্য হলো অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিতে চিন্তা, গবেষণা করে সত্য ধর্মকে গ্রহণ করা। সত্য পথের অনুসন্ধান করুন, মহান সৃষ্টিকর্তা আপনাকে সত্য পথ দেখাবেন। ইনশাআল্লাহ।


অর্থসম্পদের ভালো-মন্দ
সম্পদে বিপদ ও পরীক্ষাও আছে, কোরআন যা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বুঝিয়ে
বিস্তারিত
প্রকাশিত হলো বাংলাদেশি লেখকের আরবি উপন্যাস
প্রকাশিত হলো বাংলাদেশি লেখকের আরবি ভাষায় লেখা উপন্যাস ‘আল ইসার’।
বিস্তারিত
একাত্মবাদ ইসলামের প্রাণ
ইসলাম আগমনের আগে কাবায় অসংখ্য দৈত্য, জিন ও অন্যান্য দেবদেবীর
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অতঃপর সে ধর্মের ঘাঁটিতে প্রবেশ করেনি।
বিস্তারিত
মক্কা-মদিনায় যুক্ত হলেন কয়েকজন নতুন
গেল শনিবার (১২ অক্টোবর) পৃথিবীর সবচেয়ে মর্যাদাবান দুই মসজিদ তথা
বিস্তারিত
আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো
আজ সমাজে ভিক্ষুক থেকে শুরু করে কোটিপতি সর্বশ্রেণি হতাশার কালো
বিস্তারিত