মদিনা শরিফের জুমার খুতবা

শাবান মাসে রমজানের অনুশীলন করুন

শাবান মাস ইসলামের অন্যতম একটি রুকন বা স্তম্ভের আগে আগে আসে। সেটি হলো রমজান মাসের রোজা, যে মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে। সুতরাং শাবান মাস প্রস্তুতি ও অনুশীলনের ক্ষেত্র। রমজান মাসকে স্বাগত জানিয়ে, ঈমানের মাসের আগমনের কথা স্মরণ করে প্রস্তুতি নেওয়ার মাস হলো শাবান। ফরজ নামাজের আগে যেমন সুন্নত নামাজ, রমজানের সঙ্গে শাবান মাসও তেমনি

 

আল্লাহ সময়কে আমলের ক্ষেত্র ও আধার বানিয়েছেন। ‘কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে সে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে সে তাও দেখতে পাবে।’ (সূরা জিলজাল : ৭-৮)। 
সময়ের কল্যাণ ও সম্পদে যে ঠকেছে সে প্রকৃত প্রতারিত। ইবাদতের মৌসুম থেকে যে বঞ্চিত সে প্রকৃত বঞ্চনার শিকার। আল্লাহ সময়কে মোমিনদের জন্য তাদের প্রতিপালকের আনুগত্যের পথ ও উপায় বানিয়ে দিয়েছেন। নিজেদের প্রতি উদাসীন লোকদের জন্য সময় ভয়ংকর মহামারি। তাই আপনারা আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে নিজেদের উজ্জীবিত রাখুন। কেননা আল্লাহর স্মরণ ও জিকিরের দ্বারা হৃদয় জীবিত থাকে। ‘তোমরা উত্তম কাজের যা কিছু নিজেদের জন্য পূর্বে প্রেরণ করবে আল্লাহর কাছে তা পাবে।’ (সূরা বাকারা : ১১০)।
মাস, দিবস ও ঘণ্টার তারতম্য অনুসারে সময় শ্রেষ্ঠ ও সেরা হয়। জীবনের আয়ু ও সময় যে জিনিসের মাধ্যমে জীবন্ত ও নির্মিত হয় তার মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হলো ফজিলতপূর্ণ আমল ও ইবাদত এবং কল্যাণকর ও আনুগত্যের কাজগুলো করা। ‘তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি এবং দিবসকে পরস্পরের অনুগামীরূপে তার জন্য যে উপদেশ গ্রহণ করতে ও কৃতজ্ঞ হতে চায়।’ (সূরা ফুরকান : ৬২)।
ভালো করে জেনে রাখুন, আপনারা একটি মহান মাসে অবস্থান করছেন, যে মাসের বিষয়ে অনেক মানুষ উদাসীন থাকে। বঞ্চিতদের ভাগ্য ও লোকসানগ্রস্তদের জন্য প্রাপ্তি ও অর্জন নিয়ে এসেছে। জেনে রাখুন, আপনারা একটি মহান মাসে অবস্থান করছেন, এ মাসে আমলগুলোকে রাব্বুল আলামিনের দরবারে উন্নীত করা হয়। তাই আপনারা এ মাসটিকে তওবা ও সৎকর্ম দিয়ে শেষ করুন। হতে পারে আল্লাহ আপনার জীবনের আয়ু সমাপ্ত করবেন এসবের মাধ্যমে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ মাসে রোজা রাখতে যতœশীল ছিলেন।
উসামা ইবনে জায়েদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, শাবান মাসে আপনি যত রোজা রাখেন অন্য মাসে আপনাকে তত রোজা রাখতে দেখিনি। তিনি বললেন, ‘রজব ও রমজানের মধ্যবর্তী এ মাসটির বেলায় লোকেরা উদাসীন থাকে। এ মাসে আমলগুলো রাব্বুল আলামিনের কাছে উন্নীত করা হয়। তাই আমি চাই রোজাদার অবস্থায় আমার আমলকে যেন উন্নীত করা হয়।’ (আহমাদ)। 
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নিজের পিতার সূত্রে বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এমনভাবে রোজা রাখতেন যে আমরা বলতাম, তিনি রোজা ছাড়বেন না, আর এমনভাবে রোজা ছাড়তেন যেন রোজা রাখবেন না। আমি আল্লাহর রাসুলকে রমজান ছাড়া কোনো সময়ে পুরো মাস রোজা রাখতে দেখিনি। শাবান মাসে কাউকে তাঁর চেয়ে বেশি রোজা রাখতে দেখিনি।’ (মুসলিম)। আয়েশা (রা.) থেকে আরও বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নফল রোজা রাখতে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে সবচেয়ে প্রিয় মাস ছিল শাবান।’ (আবু দাউদ)।
শাবানের মধ্যবর্তী অংশে আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা রয়েছে, যা মোমিনদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। শত্রুতা পোষণকারী, হিংসুক, বিদ্বেষভাবাপন্ন ও কাফেররা এ ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থাকে। আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘নিশ্চয় আল্লাহ শাবানের মধ্যবর্তী রাতে নিজের বান্দাদের প্রতি মনোনিবেশ করে তাঁর সব বান্দাকে ক্ষমা করেন, তবে মুশরিক ও বিবাদকারী ছাড়া।’ (ইবনে মাজাহ)।
তাই আপনারাও অন্যকে ক্ষমা করুন, মার্জনা করুন, তাদের দোষ এড়িয়ে যান। পরস্পর দয়া দেখান, উদারতা প্রদর্শন করুন, যোগাযোগ বজায় রাখুন। হিংসা-বিদ্বেষ করবেন না, বিবাদ করবেন না। ঘৃণা চর্চা করবে না, কারও পেছনে লাগবেন না। আপনারা আল্লাহর বান্দা হিসেবে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যান।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সোম ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দ্বার উন্মুক্ত করা হয় এবং ওই বান্দাকে ক্ষমা করা হয় যে আল্লাহর সঙ্গে কোনো কিছু অংশীদার করে না, তবে ওই লোক ছাড়া যার মাঝে তার অন্য মুসলিম ভাইয়ের প্রতি বিদ্বেষ থাকে। তখন বলা হয়, ‘এদের দুজনকে অবকাশ দাও উভয়ে মীমাংসা করা পর্যন্ত।’ একথা তিনবার বলা হয়। (মুসলিম)।
শাবান মাস ইসলামের অন্যতম রুকন বা স্তম্ভের আগে আগে আসে। সেটি হলো রমজান মাসের রোজা, যে মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে। সুতরাং শাবান মাস প্রস্তুতি ও অনুশীলনের ক্ষেত্র। রমজান মাসকে স্বাগত জানিয়ে, ঈমানের মাসের আগমনের কথা স্মরণ করে প্রস্তুতি নেওয়ার মাস হলো শাবান। ফরজ নামাজের আগে যেমন সুন্নত নামাজ, রমজানের সঙ্গে শাবান মাসও তেমনি। তাই শাবান মাসটা রমজানের রোজার অনুশীলন পর্যায়ের। রমজানের কষ্ট ও পরিশ্রমকে লাঘব করতে, রোজার স্বাদ ও তৃপ্তি আস্বাদন করতে। যেন ব্যক্তি রমজানের রোজায় উদ্যম ও শক্তি নিয়ে অংশ নিতে পারে।
কারও ওপর বিগত রমজানের রোজা কাজা থাকলে সে যেন রমজানের আগমনের আগেই দ্রুত তা আদায় করে নেয়। কেননা এটা আদায়ে গড়িমসি করলে তা অবহেলার কারণ হবে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমার ওপর রমজানের রোজা কাজা ছিল। আমি শাবান মাস ছাড়া তা আদায় করতে পারতাম না, সেটা রাসুলুল্লাহর অবস্থানের কারণেই হতো।’
তাই আপনারা নির্ধারিত সময়ের আগেই সৎকর্মে মনোনিবেশ করতে ধাবিত হোন। ‘তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা ও জান্নাতের দিকে দ্রুত অগ্রসর হও, যার পরিধি হলো আকাশম-লী ও ভূম-ল। খোদাভীরুদের জন্য তা তৈরি করা হয়েছে।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৩৩)।
দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসে আল্লাহ রমজানের রোজা ফরজ করেছিলেন। আল্লাহর রাসুল ৯টি মাহে রমজান রোজা রেখেছেন। তারপর নিজের রবের কাছে চলে গেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীতের ওপর। যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার।’ (সূরা বাকারা : ১৮৩)।
শাবান মাসে আমাদের তাই রমজানের ফরজ রোজা পালনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। হে আল্লাহ আমাদের রমজান মাস পর্যন্ত পৌঁছার তৌফিক দান করুন।

১৪ শাবান ১৪৪০ হিজরি মসজিদে নববির জুমার খুতবার সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর 
মাহমুদুল হাসান জুনাইদ


কর্ডোভা : সভ্যতার হারিয়ে যাওয়া
স্থাপত্যশিল্পে কর্ডোভা সমকালীন পৃথিবীকেই শুধু ছাড়িয়ে যায়নি, বরং পতনের শত
বিস্তারিত
মদিনা মুনাওয়ারার মর্যাদা
মদিনার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে দিবালোকের মতো সুস্পষ্ট।
বিস্তারিত
ধর্ষণ রোধে চাই ইসলামের অনুশাসন
  ধর্ষণ বর্তমান পৃথিবীর অতি পরিচিত এক ভয়ঙ্কর শব্দের নাম। যে
বিস্তারিত
পারস্পরিক সহযোগিতা
অসংখ্য হাদিসে নববি মুসলিম সমাজের তাকাফুল বা পারস্পরিক সহযোগিতার মাহাত্ম্য
বিস্তারিত
বিপদে পাশে থাকুন
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেনÑ
বিস্তারিত
কোরআন-সুন্নাহর আলোকে লেনদেন
ইসলামি অর্থনীতি হলো কোরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক অর্থনৈতিক লেনদেন ব্যবস্থা।
বিস্তারিত